ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা সম্পর্কে যা বললেন পরীমণি

দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমণিকে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টা করা হয়েছে এবং তাকে ধর্ষণ করতে না পেরে মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হয়েছে এ অবস্থায় তিনি জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। আজ রবিবার রাতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

পরীমণি জানান, তার কস্টিউম ডিজাইনার জেমির অমি নামের এক ব্যবসায়িক বন্ধুর সঙ্গে দুই বছর আগের পরিচয়। তাদের প্রায়ই যোগাযোগ হতো। সেই সূত্রে গত বুধবার রাতে অমির কথায় জেমিকে নিয়ে অমির সঙ্গে ব্যবসার কথা বলতে বলে বাসা থেকে বের হোন। পরে অমি তাদেরকে উত্তরা আশুলিয়া বোর্ড ক্লাবে নিয়ে যান। সেখানে নাছির উদ্দিন মাহবুব নামে এক বয়স্ক লোকের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন অমি। পরে তাদের কথা মতো ইয়াবা মেশানো কফি ও মদ পান না করায় পরীমণি ও তার কস্টিউম ডিজাইনারের ওপর শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। এ সময় ক্লাব নিরব ছিল এবং লাইটগুলো নিভিয়ে দেয়া হয়েছিল বলে জানান পরীমণি। এক পর্যায়ে মদের বোতল জোর করে মুখে ঢুকিয়ে দেন। চারজন মদ্যপ ব্যক্তি পরীমনিকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন। চড়-থাপ্পড় মারেন। এক পর্যায়ে ধর্ষণের চেষ্টাও করেন তারা।

পরীমণি আরো জানান, এ ঘটনার পর তারা রাতেই বনানী থানায় যান। সেখানে অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশ তাদের টেস্টের জন্য হাসপাতালে যেতে বলে। পরে পরীমণি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে যাওয়া শুরু করেন। যাওয়ার পথেই তিনি কিছুটা সুস্থবোধ করলে ফিরে বাসায় চলে আসেন।

এর আগে রবিবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৩ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন পরীমনি, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া তোলপাড় চলছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বিচার চেয়ে ওই স্ট্যাটাসের শুরুতে এ নায়িকা লেখেন, আমাকে রেপ এবং হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। আমি এর বিচার চাই।

স্ট্যাটাসের পর পর গণমাধ্যম কর্মীরা এ বিষয়ে জানতে তাকে ফোন করলে তিনি বলেন, আপনারা বাসায় আসেন। সব বলবো। ফোনে এসব বলা ঠিক হবে না।

এরপরই গণমাধ্যম কর্মীরা তার বাসায় গিয়ে জড়ো হোন।

মুঠোফোনে পরীমনি জানিয়েছিলেন, গত চার দিন ধরে থানা থেকে শুরু করে চলচ্চিত্র বন্ধুদের কাউকে পাশে পাননি তিনি। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতেও অভিযোগ নিয়ে গেছেন। কিন্তু তিনি কোনো প্রতিকার পাননি। যাদেরকে পেয়েছেন সবাই বিস্তারিত ঘটনা জেনে দেখছি বলে চুপ হয়ে গেছে। তাই বাধ্য হয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন।

স্বাআলো/এসএ