যশোরে হাট বন্ধ: কোরবানির পশু বেচাকেনা হবে কোথায়?

যশোর: করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে যশোরে পশুরহাট বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। করোনা সংক্রমণ কম না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। কোরবানি ঈদ ঘিরে খামারিদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন বলছে, আতংকের কিছু নেই। কোরবানির পশু বেচাকেনার জন্য অনলাইন প্লাটফর্ম সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি করোনা সংক্রমণ কম হলেই পশুহাট চালু করার অনুমতি দেয়া হবে।

জানা যায়, দেশের সবচেয়ে বড় পশুরহাট যশোরের শার্শার বাগআঁচড়ার সাতমাইলসহ জেলার সব পশুহাট বন্ধ রয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে এ অঞ্চলের খামারি ও বিক্রেতারা। প্রতি বছর কোরবানির আগে যশোর এবং সাতক্ষীরা অঞ্চলের গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা অপেক্ষায় থাকেন । এ এলাকার হাট থেকে গরু কিনে ব্যবসায়ীরা সারাদেশে গরুর প্রায় অর্ধেক চাহিদা পূরণ করে থাকেন। এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে হাটের সেই চিত্র বদলে গেছে। খামারি ও বিক্রেতারা কোরবানির পশু বেচাকেনা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে।

গরুর ব্যাপারী সুজন বলেন, ‘আমি ১৯৯৬ সাল থেকে এই হাটের সঙ্গে জড়িত। সাতমাইল হাটে গরু কেনাবেচা করি। এবার এই কোরবানি ঈদে হাটটি বন্ধ করে দেয়ায় আমরা হতাশায় ভুগছি। কারণ সারাবছর ধরে গরু খামারের গরু লালন-পালন করে এখন মাথায় হাত দেয়ার উপক্রম হয়েছে। বাইরে থেকে ব্যাপারী না এলে আমাদের গরু লোকসানে বেচাকেনা করতে হবে।’

যশোরে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা

সাতমাইল হাটের ইজারাদার আব্দুল খালেক খতিব ধাবক গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ছয় কোটি ১৫ লাখ টাকা দিয়ে হাটটি ইজারা নিয়েছি। এর শেয়ার রয়েছে তিন হাজার। প্রায় ১২০ জন লোক নিয়ে প্রতি হাট স্বাস্থ্যবিধি মেনে পরিচালনা করা হচ্ছিল। হাট বন্ধ করে দেয়ায় কীভাবে সরকারের রাজস্বের ছয় কোটি টাকা পরিশোধ করব ভাবছি।’

এ প্রসঙ্গে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সব পশুহাট বন্ধ রাখা হয়েছে। লকডাউন চলমান রয়েছে। কুরবানির পশু বেচাকেনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইন প্লাটফর্ম সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে পশু বেচাকেনায় উদ্বুদ্ধ করছি। কুরবানির পশু বেচাকেনার জন্য স্বতন্ত্র পোর্টাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সাথে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কম হলে কুরবানির আগেই পশুহাট চালু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী।

তিনি আরো বলেন, খামারিদের আতংকিত হওয়ার সুযোগ নেই। তাদের কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারবেন।

স্বাআলো/আরবিএ/আইআর