করোনা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট: যশোর অঞ্চল যেন মৃত্যুপুরী

যশোর: করোনার ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তান্ডবে রীতিমতো মৃত্যুপুরী হয়ে উঠেছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলো। খুলনা বিভাগের এসব জেলায় জ্যামিতিক হারে বাড়ছে মৃত্যু। তবে কঠোর লগকডাউন ফাঁকি দেয়ার প্রতিযোগিতাও চলছে। প্রশাসনের কঠোরতার অভাবে অপ্রয়োজনে যেখানে সেখানে আড্ডা দিতেও দেখা যাচ্ছে মানুষকে।

যশোর সিভিল সার্জন অফিস ও জেলারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, জেলায় গত ১১ দিনে ১০১ জন করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। এর মধ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে ৫৬ জন ও করোনা উপসর্গ নিয়ে যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আরো ৬০ জন। সর্বশেষ আজ সোমবার মারা গেছেন ১৬ জন। এর মধ্যে করোনায় ছয়জন ও উপসর্গ নিয়ে ১০ জন মারা যান। এছাড়া ৪ জুলাই ১৭ জন, ৩ জুলাই ১৫ জন, ২ জুলাই ৯ জন, ১ জুলাই ৯ জন, ৯০ জুন সাত জন, ২৯ জুন ১২ জন, ২৮ জুন তিনজন, ২৭ জুন ছয় জন, ২৬ জুন সাতজন ও ২৫ জুন মারা যান ১৫ জন। এই সময় যশোরে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজার ৮৮৪ জন।

আমাদের খুলনা প্রতিনিধি জানান, গত ১০ দিনে খুলনায় করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১০৪ জন। এর মধ্যে করোনায় মারা গেছেন ৮৬ জন ও উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১৮ জন। আজ সোমবার খুলনায় মারা গেছেন ১০ জন করোনা রোগীসহ মারা গেছেন ১৭ জন। এর আগের দিন মারা যান ১৫ জন। এছাড়া ৩ জুলাই ১১ জন, ২ জুলাই ১১ জন, ১ জুলাই ১০ জন, ৩০ জুন সাতজন, ২৯ জুন ১২ জন, ২৮ জুন ১১ জন, ২৭ জুন ১৭ জন ও ২৬ জুন মারা যান আরো ১১ জন।

যবিপ্রবির ল্যাবে ২৪ ঘণ্টায় যশোরের ১৮৬ জনের করোনা শনাক্ত

আমাদের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, একই সময় কুষ্টিয়ায় মারা গেছেন ৮৮ জন। যাদের মধ্যে করোনা আক্রান্ত ছিলেন ৭৯ জন। আর উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯ জন। আজ সোমবার কুষ্টিয়ায় মারা গেছেন ১৭ জন। যাদের মধ্যে ১৪ জন করোনা আক্রান্ত ছিলেন। এর আগের দিন সবচেয়ে বেশি ১৯ জন মারা যান। যাদের মধ্যে করোনা রোগী ছিলেন ১৩ জন। বাকি ছয়জন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যান।

একইভাবে বিভাগের সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা জেলাতেও আশঙ্কাজনক হারে করোনা ও উপসর্গ থাকা রোগী মারা যাচ্ছেন।

এদিকে, যশোরে করোনা রোগীর চাপ সামলাতে হিমসিম খাচ্ছে স্বাস্থ্যবিভাগ। ইতিমধ্যে যশোর জেনারেল হাসপাতালে করোনা রোগীর শয্যা সংখ্যা থেকে অনেক বেশি ভর্তি করা হয়েছে। রেড জোন ও ইউলো জোনে নতুন রোগী ভর্তির কোন জায়গা নেই। এমন পরিস্থিতিতে জেলার কয়েকটি বেসরকারি হাসাপাতালে রোগী ভর্তির জন্য ১০০টি শয্যা নির্ধারণ করা হয়েছে। অক্সিজেনেরও সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেলার বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতি সংগঠন ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। বেশ কয়েকটি সংগঠন যশোরে ইতিমধ্যে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করছে।

স্বাআলো/আরবিএ/আইআর

.

Author