যশোরে প্রস্তুত কোরবানির ৯৬ হাজার পশু, মিলবে অনলাইন হাটেও

পবিত্র ঈদুল আযহার প্রধান অনুসঙ্গ গবাদি পশু কোরবানি। ঈদ সামনে রেখে প্রস্তুত যশোরের খামারিরা। এ বছর জেলায় ৯৬ হাজার ৩৭ টি গবাদি পশু কোরবানির উপযোগী করে তোলা হয়েছে। যা চাহিদার তুলনায় ২৪ হাজার ৩২৭ টি বেশি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণরোধে লডকাউন চলমান থাকায় কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে শংকায় খামারিরা। তবে জেলা প্রশাসনের দাবি, অনলাইনে কোরবানির পশু বিক্রির প্ল্যাটফর্ম চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। একটি অ্যাপসে ৯টি হাটে বিক্রি হবে পশু। একই সাথে সংক্রমণ কমলে হাট চালু করা হবে। ফলে খামারিদের শংকা থাকবে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরে তথ্যমতে, এ বছরের কোরবানি সামনে রেখে যশোর জেলায় ৯৬ হাজার ৩৭ টি গবাদি পশু বাজারজাতকরণের উপযোগি করা হয়েছে। পশুর মধ্যে গরু ও মহিষে সংখ্যা রয়েছে ৪৪ হাজার ৫৫০। যার চাহিদা ছিলো ৩২ হাজার ৬৪০। ছাগল ও ভেড়া রয়েছে ৫১ হাজার ৪৮৭ টি। যার চাহিদা ছিল ৩৯ হাজার ৭০ টি। জেলায় মোট চাহিদা আছে ৭১ হাজার ৭১০টি পশু। সেই হিসেবে ২৪ হাজার ৩২৭ পশু উদ্বৃত্ত। মোটাতাজাকরণকৃত পশুর মধ্যে সদরে ১১ হাজার ৩৭, ঝিকরগাছায় ছয় হাজার ৯০৪, শার্শায় সাত হাজার ৫৫০, মণিরামপুরে ২৫ হাজার ৫৬০, কেশবপুরে ছয় হাজার ৭৮৫, অভয়নগরে পাঁচ হাজার ৩৮৩, বাঘারপাড়ায় সাত হাজার ৪৪৯ ও চৌগাছায় ১৬ হাজার ১০৮ পশু রয়েছে। এসব পশু বিক্রির জন্য অনলাইনে ৯ টি পশুরহাট চালু করা হবে। হাটগুলো হচ্ছে পশুরহাট যশোর, গট ফার্ম যশোর, পশুরহাট চৌগাছা, পশুরহাট শার্শা, পশুরহাট ঝিকরগাছা, পশুরহাট অভয়নগর, পশুরহাট মণিরামপুর, পশুরহাট কেশবপুর ও পশুরহাট বাঘারপাড়া। সহজেই পশুরহাটে প্রবেশ করতে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি অ্যাপস তৈরি করা হবে। একটি অ্যাপসের মধ্যদিয়ে ৯ টি পশুরহাটে প্রবেশ করা যাবে’।

যশোর জেলা দুগ্ধ ও মাংস উৎপাদন সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মফিজুর রহমান জানান, ‘জেলায় ১৬০ জন ডেইরি ফার্ম ব্যবসায়ী রয়েছেন। যাদের সবাই কুরবানিকে টার্গেট করে পশু মোটাতাজাকরণ করেছেন। এ সময় পশুর দামও ভাল পাওয়া যায়। খামারিদের প্রায় ২৫০ কোটি টাকা মূল্যের মোটাতাজাকরণ গরু রয়েছে। এর জন্য এক কোটির উপরে তাদের খরচ হয়েছে। কোভিডের কারণে যশোরের দোকানপাট, শপিংমল, বাজারঘাট সবকিছুই বন্ধ রয়েছে। পশুহাট চালু করার সম্ভবনা সেখানে নেই বললেই চলে। তাই ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে অনলাইন মার্কেট চালু করা ছাড়া কোন পথ নেই। অনলাইন পশুহাটে পশুর বিভিন্ন ধরণের ছবি দেয়া থাকবে। ফার্মের মালিকের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর থাকবে। পশু পছন্দ হলে ক্রেতাদের বাড়িতে পৌছে দেয়া হবে। মার্কেটে প্রবেশের জন্য আলাদা অ্যাপসের ব্যবস্থাও থাকবে। যার মাধ্যমে ক্রেতারা সহজেই পশুর হাটে প্রবেশ করতে পারবেন। কোভিড পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন না হলে সপ্তাহ খানেক পর থেকেই অনলাইন পশুহাট চালু করা হবে’।

সবজি নিয়ে কর্মহীনদের বাড়িতে উপজেলা চেয়ারম্যান বিপুল

তিনি আরো জানান, ‘বাঘারপাড়ার নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে প্রত্যাশা এগ্র্যো ফার্মের সত্ত্বাধিকারী তিনি। তার ফার্মে ২২ টি গরু রয়েছে। তারমধ্যে ১৪ টি বিক্রি করার জন্য তিনি মোটাতাজাকরণ করেছেন। প্রতিটি গরুর পিছনে তার ৪০ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। বাজার ভালমত জমজমাট হলে এক একটি গরু তিনি ৮০ হাজার টাকা করে বিক্রি করতে পারবেন। এ মুহূর্তে তিনি পশু বিক্রি করার জন্য অনলাইন মার্কেটের বিকল্প কিছু দেখছেন না। ব্যবসায়ীদের পশু বিক্রির ঝুঁকি প্রতিরোধে এটাই একমাত্র উপায়’।

ঘোপ নওয়াপাড়া রোড ডেইরি ফার্মের স্বত্তাধিকারি অভিজিত রায় জানান, ‘তার ফার্মে ৩৮ টি মোটাজাতকরণ গরু রয়েছে। প্রতিটি গরু লাখ টাকার উপরে বিক্রি করা সম্ভব। ইতিমধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টাকা তার ব্যয় হয়ে গেছে। লকডাউনে পশুহাট বন্ধ থাকলে তিনি কি করবেন চিন্তার শেষ নেই’।

বেজপাড়ার রাবেয়া ডেইরি ফার্মের স্বত্তাধিকারি রওশন আরা জানান, ‘তার ফার্মে বিক্রি করার মত ৩২ টি গরু রয়েছে। আসন্ন কুরবানিকে টার্গেট করে তিনি মোটাতাজাকরণ করেছেন। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তিনি দুঃচিন্তার মধ্যে পড়ে গেছেন। প্রশাসনের সহযোগিতায় তাদের সমিতির নেতৃবৃন্দ পদক্ষেপ না নিলে তার মত সবাই বড় ধরণের ঝুঁকিতে পড়ে যাবেন’।

এ বিষয়ে যশোর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শফিউল্লাহ বলেন, ‘যশোরের বর্তমান পরিস্থিতি যা তাতে পশুহাট চালু করা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় অনলাইনে পশুহাট জমজমাট করার সব উদ্যোগ নেয়া হবে’।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বখতিয়ার হোসেন বলেন, ‘যশোরে কোভিডের অবস্থা খুবই ভয়াবহ। কঠোর বিধি-নিষেধ বাস্তবায়ন হচ্ছে। সাধারণ মানুষকে কোনভাবেই ঘর থেকে বের হতে দেয়া হচ্ছে না। পরিস্থিতি এ রকম চলতে থাকলে অনলাইন পশুহাট ছাড়া খামারিদের বাঁচানোর কোন পথ নেই’। অনলাইন পশুরহাট জমজমাট করার সব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে কোভিড সংক্রমণের হার কিছুটা স্বাভাবিক হলেই স্বাস্থবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে স্বল্প পরিসরে পশুরহাটগুলো চালু করা হবে।

করোনা ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট: যশোর অঞ্চল যেন মৃত্যুপুরী

এ প্রসঙ্গে যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সব পশুহাট বন্ধ রাখা হয়েছে। লকডাউন চলমান রয়েছে। কুরবানির পশু বেচাকেনার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনলাইন প্লাটফর্ম সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অনলাইনে পশু বেচাকেনায় উদ্বুদ্ধ করছি। কুরবানির পশু বেচাকেনার জন্য স্বতন্ত্র পোর্টাল চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। একই সাথে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কম হলে কুরবানির আগেই পশুহাট চালু করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদী।

তিনি আরো বলেন, খামারিদের আতংকিত হওয়ার সুযোগ নেই। তাদের কোরবানির পশু বিক্রি করতে পারবেন।

স্বাআলো/আইআর/আরবিএ

.

Author