এমএম কলেজ শিক্ষক পরিষদ: গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে ‘ভিন্ন কায়দায় নির্বাচন’

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোর সরকারি এমএম কলেজে শিক্ষক পরিষদের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে গোপনে নির্বাচনের নামে সিলেকশনের তৎপরতা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এজন্য ইতিমধ্যে একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। যে কমিটি আজ রবিবার মনোনয়নপত্র বিতরণ করেছে। কিন্তু অনেক শিক্ষকই বিষয়টি জানেন না। দুই একজন শিক্ষক নেতা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলেও তাদের তা দেয়া হয়নি। উল্টো মনোনয়ন সংগ্রহ করতে গিয়ে এক সাবেক ছাত্রনেতার হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে তাদের।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার প্রফেসর খান শাহবুদ্দিন বলেন, ‘এটা একটি ভিন্ন কায়দায় নির্বাচন হচ্ছে। তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তা অধ্যক্ষ স্যারের কাছে আছে। আজ রবিবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহের শেষ দিন। তবে কেউ সংগ্রহ করেছেন কিনা সেটা অধ্যক্ষ স্যার জানেন। আমি অসুস্থ্য, বাসায় আছি। আমি কিছু জানি না।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন এমএম কলেজের শিক্ষক পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়। তবে করোনা পরিস্থিতির নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। এজন্য কলেজের অধ্যক্ষ এমএ আব্দুল মজিদ গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কমিটির মেয়াদ এক মাস বৃদ্ধি করেন। এরই মধ্যে গত ১৫ জুলাই কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ১৪০তম বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং নির্বাচনের জন্য প্রফেসর খান শাহাবুদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। ওই কমিটির কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পান ড. হারুণ-অর-রশিদ ও প্রদীপ কুমার অধিকারী। সেই হিসেবে সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে কঠোর লকডাউনের মধ্যে এই নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তবে রবিবার নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষ দিনেও অনেক শিক্ষক তা সংগ্রহ করতে পারেননি। অধ্যক্ষের অনুমতি না থাকায় সবাইকে মনোনয়নপত্র দেয়া হয়নি।

তবে কলেজের শিক্ষক নেতারা বলেছেন, শিক্ষক পরিষদ একটি স্বতন্ত্র সংগঠন। এই সংগঠনের মাধ্যমে শিক্ষকদের ন্যায় সংগত দাবি আদায় করা হয়। এমন একটি সংগঠনের নির্বাচনের সিদ্ধান্ত একাডেমিক কাউন্সিলে হতে পারে না। শিক্ষক পরিষদের নিজস্ব গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে একাডেমিক কাউন্সিলের বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশন গঠন করা অবশ্যই একটি অবৈধ পন্থা।

জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য যশোর জেলা বিসিএস শিক্ষক সমিতির সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক ছোলজার রহমান অপর এক শিক্ষক নেতাকে নিয়ে রবিবার সকালে অধ্যক্ষের সাথে দেখা করেন। এসময় তিনি গঠনতন্ত্র মেনে নির্বাচনের আয়োজনের অনুরোধ করেন। তিনি প্রস্তাব করেন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন করতে হলে অথবা স্থগিত করতে হলে অবশ্যই জরুরী সাধারণ সভা করতে হবে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে স্বশরীরে এটা সম্ভব নয়। এজন্য অনলাইনে একটি সাধারণ সভার আয়োজন করা হোক। তবে তার দাবি মানা হয়নি।

যশোরে করোনা ও উপসর্গে ৬ জনের মৃত্যু

এব্যপারে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ছোলজার রহমান বলেন, ‘এটা একটি অধ্যক্ষের পচ্ছন্দের ভোটারহীন নির্বাচন হতে যাচ্ছে। তফসিল পাওয়া যাচ্ছে না। মনোনয়নপত্র ক্রয় করতে কমিশনের সাথে যোগাযোগ করলে বলা হচ্ছে অধ্যক্ষ স্যারের অনুমতি ছাড়া দেওয়া যাবে না। সবচেয়ে বড় কথা শিক্ষক পরিষদের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে এসব করা হচ্ছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে যাওয়ায় সাবেক এক ছাত্রনেতা আমাকে হুমকি পর্যন্ত দিয়েছে।’

এমএম কলেজের অধ্যক্ষ এমএ আব্দুল মজিদ বলেন, ‘শিক্ষক পরিষদের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখন নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। কিন্তু করোনার কারণে নির্বাচন করা যাচ্ছে না। এজন্য একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষে নেয়া হয়েছে।’

স্বাআলো/আরবিএ