করোনার আতঙ্কের মাঝে ডেঙ্গুর হানা, বাঁচতে হলে যা করবেন

স্বাস্থ্য: দেশে করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যেই দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রেকর্ড ১৪৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে রাজধানীতে ৪৮ এবং বাইরের হাসপাতালে ৯৫ জন রয়েছেন। এর আগে সোমবার রেকর্ড ১২৩ ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলো।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের নিয়মিত ডেঙ্গু বিষয়ক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে মোট ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৬৫৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ২৯১ এবং ঢাকার বাইরে ৩৬৩ জন ভর্তি রয়েছেন।

এদিকে, দেশে কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু। প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে শত শত মানুষ। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ২৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এ নিয়ে দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় মোট ১৯ হাজার ৭৭৯ জনের মৃত্যু হলো।

এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৪ হাজার ৯২৫ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৭৫২ জনে।

মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে যা যা করবেন

বর্ষা এলেই বেড়ে যায় ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত ভাইরাসজনিত জ্বর।

ডেঙ্গু ভাইরাসের চারটি স্ট্রেইন (ডেন-১, ২, ৩ ও ডেন-৪)। এর যেকোনো একটি দিয়ে ডেঙ্গু জ্বর হতে পারে। আর এই ভাইরাস বহন করে এডিস ইজিপ্টি ও এডিস এলবোপিকটাস প্রজাতির মশা।

১০১ ডিগ্রি থেকে ১০২ ডিগ্রি তাপমাত্রা থাকতে পারে। এর সাথে শরীরে ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা এবং চামড়ায় লালচে দাগ হতে পারে। তবে এগুলো না থাকলেও ডেঙ্গু হতে পারে।

এ সময় ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সচেতন হতে হবে সবাইকে। করোনার পাশাপাশি এখন ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্যও প্রস্তুত হতে হবে। জেনে নিন ডেঙ্গু প্রতিরোধে যা করবেন:

এডিস মশার জন্ম হয় পাত্রে জমে থাকা পানিতে। সপ্তাহে অন্তত একদিন আপনার বাড়ি এবং বাড়ির চারদিকে ঘুরে দেখুন কোথাও কোনো পাত্রে পানি জমে আছে কি না। যদি থাকে তাহলে তা ফেলে দিন বা পরিষ্কার করুন। যদি পাত্রটি এমন হয় যে পানি ফেলে দেওয়া যাচ্ছে না, তাহলে সেখানে ব্লিচিং পাউডার বা লবণ দিন। গাড়ির অব্যবহৃত টায়ার বাসায় রাখবেন না, কারণ এখানে এডিস মশার জন্ম হয় । দই বা যেকোনো খাবারের পাত্র বাইরে ফেলবেন না। বাথরুমে যদি পানি ধরে রাখতে হয় তাহলে পানির পাত্র সপ্তাহে অন্তত একবার ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ভালো করে ধুয়ে আবার পানি ভর্তি করুন। এডিস মশা পানির পাত্রের কিনারে ডিম পাড়ে এবং পাত্রের গায়ে আটকে থাকে, যে কারণে পানি ফেলে দিলেও ডিম যায় না। তাই এটিকে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে ভালোভাবে ঘষে পরিষ্কারের প্রয়োজন পড়ে। আপনার বাড়ির পাশে কোনো নির্মাণাধীন ভবন থাকলে, এটির লিফটের গর্ত, ইট ভেজানোর চৌবাচ্চা, ড্রাম পরীক্ষা করুন। যদি এসব জায়গায় জমে থাকা পানিতে ছোট ছোট পোকা দেখতে পান, তাহলে বুঝবেন সেটি এডিস মশার লার্ভা বা বাচ্চা। নির্মাণাধীন ভবনের মালিককে সামাজিকভাবে চাপ প্রয়োগ করুন, যেন তিনি তাঁর বাড়িতে মশা জন্মানোর স্থান তৈরি না করেন। নির্মাণাধীন ভবনটি যদি আপনার হয় তাহলে সেখানে জমে থাকা পানিতে ব্লিচিং পাউডার দিয়ে রাখুন। আপনার বাড়ির আশপাশে যদি কোনো সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা থাকে মশা জন্মানোর মতো, তাহলে ওই অফিসকে জানান। বাড়ির আশপাশে গাছের গর্ত বা কাটা বাঁশের গোড়া মাটি দিয়ে বন্ধ করে দিন। কারণ গাছের কোটর বা বাঁশের গর্তে এডিস মশার জন্ম হয়।

মনে রাখবেন, আপনার-আমার বাড়ির আশপাশে পানি জমে থাকা পাত্রে এডিস মশার জন্ম হয়। এগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন, ডেঙ্গুমুক্ত থাকুন। আপনার-আমার সচেতনতা এবং সামান্য কার্যক্রমই পারে সবার পরিবারকে ডেঙ্গুমুক্ত রাখতে। সবার পরিবার ডেঙ্গুমুক্ত থাকলেই দেশ ডেঙ্গুমুক্ত হবে।

স্বাআলো/এসএ