চিকিৎসা বর্জ্যের ঝুঁকি: বিশ্ব ও বাংলাদেশ

অধ্যাপক আব্দুল হাই: বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা সেবাদাতাদের কাছে চিকিৎসা বর্জ্যের সৃষ্টি , সংগ্রহ ও অপসারণ একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পরিবেশের উপর চিকিৎসা বর্জ্যের মারাত্মক প্রভাব রয়েছে। চিকিৎসা বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা থেকে নানা ধরনের অসুখ সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চিকিৎসা বর্জ্যের ক্রমাগত বৃদ্ধি এই ঝুঁকিকে আরো বাড়িয়ে দিচ্ছে। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর চেয়ে মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে সাধারণত চিকিৎসা বর্জ্যের পরিমাণ কম হয়ে থাকে (WHO,2004)। তবে নিয়ম মেনে বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী আলাদা করতে পারলে ও সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে পারলে চিকিৎসা বর্জ্যের পরিমাণ যেমন কমে যায় তেমনি ঝুঁকি ও অনেক হ্রাস পায়। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে চিকিৎসা বর্জ্যের প্রতি যথেষ্ট মনোযোগ দেওয়া হয় না। একে সাধারণ গৃহস্থ আবর্জনার মত গণ্য করা হয় এবং গৃহস্থ আবর্জনার সঙ্গে যত্রতত্র ভাগাড়ে নিক্ষেপ করা হয়।

বাংলাদেশে নগরায়নের উচ্চহার, শিক্ষার নিম্নহার এবং সার্বিকভাবে পরিবেশ দূষণের উচ্চ হারের কারণে চিকিৎসা বর্জ্যের দূষণ পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে । এই অবস্থাকে কঠিন করে তুলছে চিকিৎসা বর্জ্যের দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং ক্ষেত্রবিশেষে ব্যবস্থাহীনতা। ফলে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় , ল্যাব টেকনিশিয়ান, পরিচ্ছন্নতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ দর্শনার্থী পর্যন্ত নানা ধরনের কঠিন ব্যধিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার মাটি জল ও বাতাসেও দূষন ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে Covid-19 জনিত কারণে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়া, সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে সার্জিক্যাল মাস্কের ব্যবহার বৃদ্ধি ও ব্যবহার শেষে যত্রতত্র মাস্কের নিক্ষেপন এবং ভ্যাকসিন প্রদান ও ব্যবহৃত নিডলের নিক্ষেপ চিকিৎসা বর্জ্যের ঝুঁকির বিষয়টিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

চিকিৎসা বর্জ্য কি?

যেকোনো ধরনের বর্জ্য, যদি তা থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা বা ভয় থাকে তবে তাকে চিকিৎসা বর্জ্য বলা হয় । অর্থাৎ চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সম্পর্কিত যেকোন ধরনের বর্জ্য যেগুলো ডাক্তারের অফিস, হাসপাতাল, ল্যাবরেটরীতে চিকিৎসা গবেষণা ক্ষেত্র, দন্ত চিকিৎসকের চেম্বার, ব্লাডব্যাংক, উল্কি পার্লার , দেহ আর্ট পার্লার, প্রবীনদের জন্য নার্সিংহোম এবং পশু হাসপাতাল থেকে উৎপন্ন হয় তার সবকিছুই চিকিৎসা বর্জ্যের অন্তর্ভুক্ত। আবার শরীর থেকে নির্গত যেকোনো ধরনের তরল যেমন রক্ত ও অন্য যেকোনো দূষিত পদার্থ ও এর মধ্যে পড়ে।

১৯৮৮ সালের “মেডিকেল ওয়াষ্ট ট্রাকিং এ্যাক্ট” এর সংজ্ঞা অনুযায়ী চিকিৎসা গবেষণা, পরীক্ষণ, রোগ নির্ণয়, প্রতিষেধক প্রদান অথবা মানুষ ও প্রাণীর চিকিৎসা দিতে গিয়ে উদ্ভূত যে কোনো বর্জ্যকে হাসপাতাল বর্জ্য বলে। যেমন- কালচার করা ডিশ, যে কোন কাঁচের পাত্র( স্লাইড, বিকার, ফানেল, টিউব), গজ, ব্যান্ডেজ, তুলা, মাস্ক, গ্লাভস , বাতিল হওয়া ছুরি-কাঁচি, সূচ, স্যালাইন ব্যাগ,এ্যম্পুল, রক্তের ব্যাগ, সংগৃহীত লালা, শ্লেস্মা বা কফের নমুনা, দেহরস, টিস্যু, টিউমার, মানব অঙ্গ প্রত্যঙ্গ প্রভৃতি।

চিকিৎসা বর্জ্যের বিভিন্ন নাম

চিকিৎসা বর্জ্যকে ভিন্ন ভিন্ন অনেক নামে অভিহিত করা হলেও সবগুলোর মৌলিক বিষয়বস্তু এক। অর্থাৎ চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে উদ্ভূত যেকোনো ধরনের বস্তু, যেটা থেকে সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে তাকেই চিকিৎসা বর্জ্য বলে। চিকিৎসা বর্জ্যের প্রচলিত নাম গুলো হলঃ মেডিকেল বর্জ্য, বায়োমেডিকেল বর্জ্য, ক্লিনিক্যাল বর্জ্য, বায়োহ্যাজার্ডাস বর্জ্য , রেগুলেটেড মেডিকেল বর্জ্য (RMW), ইনফেকশাস মেডিকেল বর্জ্য, হেলথকেয়ার বর্জ্য প্রভৃতি। সংজ্ঞাগত দিক থেকে একই ধরনের অর্থ নির্দেশ করলেও এগুলোর মধ্যে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থা (WHO) এ ধরনের বর্জ্যকে দুটি শ্রেণীতে ভাগ করেছে।

১। সাধারণ চিকিৎসা সেবা সম্পর্কিত বর্জ্য (General health care waste) সংক্রমণের সম্ভাবনাহীন যে কোন বস্তু যেমন- প্রাণীর টিস্যু, অফিস পেপার, ঝাড়ুযোগ্য আবর্জনা, রান্নাঘর আবর্জনা প্রভৃতি।

২। ঝুঁকিপূর্ণ বা বিপদজনক চিকিৎসা বর্জ্য (Hazardous biomedical waste) চিকিৎসা সেবা সংক্রান্ত যেকোন তীক্ষ্ণ ও ধারালো বস্তু যেমনঃ নিডল, ছুরি-কাঁচি ,ব্লেড এবং মানব টিস্যু, তরল ও সংক্রমণের সম্ভাবনাসহ যে কোন বস্তু।

ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্যগুলো কে আবার আরো দুটি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়

ক) রেড ব্যাগঃ দূষিত বা সম্ভাব্য দূষিত পদার্থের জন্য ব্যবহৃত । এটি রক্ত ও অন্যান্য সম্ভাব্য সংক্রামক পদার্থ (OPIM) ধারণ করে।

খ) তীক্ষ্ণ বা ধারালো (SHARPS)
হাইপোডার্মিক সূঁচ, স্ক্যালপেল (Scalpel) প্রভৃতি।

চিকিৎসা বর্জ্যের উৎস

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা(WHO) ও চিকিৎসা ( ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ) বিধিমালা , ২০০৮ চিহ্নিত বর্জ্যের উৎস গুলো নিম্নরূপঃ

*স্বাস্থ্য কেন্দ্র, চিকিৎসকের অফিস, ডেন্টাল
ক্লিনিক, বহির্বিভাগীয় রোগী ক্লিনিক, ধাত্রীবিদ্যা ও
প্রসূতি ক্লিনিক, আকুপাংচারবিদ, কাইরোপ্রেক্টর
প্রভৃতি
*পরীক্ষাগার ও গবেষণা কেন্দ্র;
*নার্সিংহোম , মনোরোগ হাসপাতাল, বিকলাঙ্গ
প্রতিষ্ঠান;
*শবাগার ও ময়না তদন্ত কেন্দ্র;
*ব্লাড ব্যাংক ও রক্ত সংগ্রহ সেবা;
*সৌন্দর্যবর্ধক কান ছিদ্রকরন, উল্কি আঁকার ঘর;
*শব সৎকার ও এম্বুলেন্স সেবা;
*বৃদ্ধদের নার্সিংহোম;
*প্রাণী গবেষণা পরীক্ষা ও চিকিৎসাকেন্দ্র প্রভৃতি।

চিকিৎসা বর্জ্যের ধরন

চিকিৎসা বর্জ্য শব্দের ব্যাপকতা গভীর। চিকিৎসাসামগ্রী উৎপাদন থেকে শুরু করে চিকিৎসা গবেষণা এবং হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে গিয়ে যত ধরনের উপজাত ও উচ্ছিষ্ট তৈরি হয় তার সবকিছুই চিকিৎসা বর্জ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। তাই চিকিৎসা বর্জ্যের তালিকা ও দীর্ঘ হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আট ধরনের বর্জ্যের উল্লেখ করেছে। তার সঙ্গে আরো তিনটি যুক্ত করে চিকিৎসা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা , ২০০৮ এ এগারো ধরনের বর্জ্যের তালিকা করা হয়েছে।

তীক্ষ্ণ বা ধারালো বর্জ্য

আমাদের ত্বক ভেদ করতে পারে এমন যে কোন ধারালো বস্তু যেমন – সকল প্রকার সূঁচ, ব্লেড, ভাঙ্গা স্লাইড, ব্যবহৃত এ্যম্পুল , ভাঙ্গা বোতল, কাঁচ, টেস্টটিউব, পিবোট, জার ,নেইল,রেজর, স্টিলের তার, অর্থোপেডিক কাজে ব্যবহৃত স্ক্রু, স্টিল, প্লেট, পিন ইত্যাদি।

সংক্রামক বর্জ্য

সংক্রামক অথবা সংক্রমণের সম্ভাবনা আছে এরকম যেকোন বস্তু যেমন- সোয়াব (কফ, থুতু, লালা, শ্লেস্মা), রক্ত /পুঁজ,/দেহরস দ্বারা সংক্রমিত গজ , ব্যান্ডেজ,তুলা, স্পঞ্জ, মব, প্লাস্টার, ক্যাথেটার , ড্রেনেজ টিউব, রক্ত সঞ্চালনের ব্যাগ/টিউব, রক্ত দ্বারা সংক্রমিত স্যালাইন সেট ,জমাট বাঁধা রক্ত, দেহরস, ডায়রিয়া রোগীর সংক্রমিত কাপড়চোপড়, সংক্রমিত সিরিঞ্জ, মানুষ ও প্রাণীর দেহ নির্গত বর্জ্য(ঘাম, মল,মূত্র), নিষ্পত্তিযোগ্য চিকিৎসা যন্ত্রাদি ও ল্যাব কালচার , বাতিল হওয়া, ডায়াগনস্টিক নমুনা, ময়না তদন্ত সংশ্লিষ্ট বর্জ্য প্রভৃতি।

তেজস্ক্রিয় বর্জ্য

রেডিও একটিভ আইসোটোপ, তেজস্ক্রিয় বস্তু দ্বারা সংক্রমিত সকল বর্জ্য, অব্যবহৃত এক্সরে মেশিনের হেড অথবা সংক্রমিত যেকোনো গ্লাসওয়ার ও হতে পারে।

প্যাথলজিক্যাল বর্জ্য

ল্যাবরেটরি কালচার , মজুদ অথবা বিভিন্ন টিকার নমুনা, বায়োলজিক্যাল টক্সিন, পরীক্ষার জন্য দেওয়া রক্ত, কফ , মল-মূত্র, সিরাম, টিস্যু, অস্থিমজ্জা, শরীরের নিঃসরণ ইত্যাদি।

এনাটমিকাল বর্জ্য

মানবদেহের কেটে ফেলা বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ, টিস্যু, অপসারণ করা টিউমার, গর্ভফুল,গর্ভপাত /গর্ভসংক্রান্ত বর্জ্য, সংক্রমিত প্রাণী দেহ বা দেহাবশেষ প্রভৃতি।

ফার্মাসিটিউক্যাল বর্জ্য

অব্যবহৃত , মেয়াদ উত্তীর্ণ ও নষ্ট হয়ে যাওয়া ভ্যাকসিন, ঔষধ ,এন্টিবায়োটিক, ইনজেকশন এবং নানা ধরনের পিল।

রাসায়নিক বর্জ্য

ল্যাবরেটরীতে সংক্রমণ রোধের জন্য ব্যবহৃত নানা ধরনের দ্রবণ, চিকিৎসা সামগ্রী ও যন্ত্রে ব্যবহৃত ভারী ধাতুব যেমন মার্কারি (ভাঙা থার্মোমিটার থেকে নির্গত), ব্যাটারির জন্য ব্যবহৃত দ্রাবক ও রিএজেন্ট, ডায়ালাইসিস এ ব্যবহৃত রাসায়নিক ইত্যাদি।

জেনোটক্সিক বৈশিষ্ট্যযুক্ত বর্জ্য

উচ্চমাত্রার বিপদজনক চিকিৎসা বর্জ্য যেমন- ক্যান্সার চিকিৎসা থেকে উদ্ভূত, অস্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় চিকিৎসা থেকে উদ্ভূত, বংশগতি সম্পর্কিত চিকিৎসা থেকে উদ্ভূত এবং এন্টি ক্যানসার ড্রাগ থেকে সৃষ্ট বর্জ্য।

সাধারণ অনিয়ন্ত্রিত চিকিৎসা বর্জ্য

বিপদজনক নয় এমন যে কোন চিকিৎসা বর্জ্য (বিশেষ কোন রাসায়নিক, জৈবিক, দৈহিক অথবা তেজস্ক্রিয় ঝুঁকি সৃষ্টি করে না এ ধরনের বর্জ্য), ব্যবহার্য কাগজ/ মোড়ক, প্লাস্টিক বা ধাতব কৌটা ,ওষুধের স্ট্রিপ, খালি বাক্স ও কার্টুন, প্যাকিং বাক্স, পলিথিন ব্যাগ, মিনারেল পানির বোতল, কাঁচের খালি বোতল, বিস্কুটের মোড়ক, ইনজেকশনের খালি ভায়েল, অসংক্রমিত ব্যবহৃত স্যালাইন ব্যাগ ও সেট, অসংক্রমিত ব্যবহার্য সিরিঞ্জ, অসংক্রমিত কাপড়,গজ, তুলা , অসংক্রমিত রাবার দ্রব্য, কর্ক, ফলমূলের খোসা, ডাবের মালা, প্রেসারাইজ খালি কৌটা ইত্যাদি।

তরল বর্জ্য (সংক্রমিত ও অসংক্রমিত)

ব্যবহৃত পানি,পানের পিক, বমি, কফ, সাকশন করা তরল , পুজ, দেহরস, সিরাম, তরল রক্ত, গর্ভের পানি, তরল রাসায়নিক দ্রব্য, বীর্য, যোনি স্রাব, সেরিব্রো স্পাইনাল তরল , অব্যবহৃত তরল ঔষধ, ড্রেনেজ ব্যাগের তরল বর্জ্য ইত্যাদি।

প্রেসারাইজ বর্জ্য

প্রেসারাইজ কৌটা, ক্যান, কন্টেইনার ইত্যাদি

চিকিৎসা বর্জ্য নিষ্পত্তির পদ্ধতি

ইনসিনারেশন: উচ্চতাপে পোড়ানো। এনাটমিকাল, প্যাথলজিক্যাল এবং ফার্মাসিটিউক্যাল বর্জ্য নিষ্পত্তির প্রচলিত জনপ্রিয় পদ্ধতি।

অটোক্লেভিং: উচ্চচাপযুক্ত গরম বাষ্পের মাধ্যমে বর্জ্য জীবাণুমুক্তকরণ পদ্ধতি‌। তীক্ষ্ণ ও ধারালো বর্জ্যের জন্য ব্যবহৃত ।

মাইক্রোওয়েভিং: ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় এবং জেনোটক্সিক বর্জ্যের জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি।

রাসায়নিক পদ্ধতি: রক্ত এবং তরল বর্জ্যের জন্য ব্যবহৃত।

বায়োলজিক্যাল পদ্ধতি: সাধারণ এবং অসংক্রমিত বর্জ্যের জন্য ব্যবহৃত। মূলত মাটিচাপা দিয়ে নিষ্পত্তিকরণ।

চিকিৎসা বর্জ্যের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি

চিকিৎসা বর্জ্যে সম্ভাব্য ক্ষতিকারক অনুজীব থাকে যা চিকিৎসক, নার্স, ওয়ার্ডবয় থেকে শুরু করে চিকিৎসা সেবার সঙ্গে জড়িত সকল পেশাজীবী, রোগী এবং সাধারণ মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। আবার ড্রাগ প্রতিরোধী অণুজীবগুলো স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রগুলি থেকে পরিবেশে ছড়িয়ে অন্যান্য সম্ভাব্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। স্বাস্থ্যসেবা বর্জ্য এবং উপজাত দ্রব্যগুলি থেকে সম্ভাব্য যে সকল বিপদ হতে পারে।

#তীক্ষ্ণ ও ধারালো বর্জ্য থেকে বিভিন্ন ধরনের জখম  হতে পারে।

#ফার্মাসিটিউক্যাল পণ্যগুলি বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু অ্যান্টিবায়োটিক এবং সাইটোটক্সিক ড্রাগ থেকে পারদ অথবা ডাইঅক্সিন ড্রাগগুলো পরিচালনার সময় বা পোড়ানোর সময় পার্শ্ববর্তী পরিবেশে বিষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

#বর্জ্য পরিশোধন কার্যক্রম যেমন জীবানুনাশকরন (Disinfection), জীবাণুমুক্তকরণ (Sterilization), এর সময় রাসায়নিক বিকিরণ হতে পারে।

#চিকিৎসা বর্জ্য পোড়ানোর সময় পার্টিকুলেট ম্যাটারগুলো বাতাসে ছড়িয়ে বায়ু দূষণ সৃষ্টি করতে
পারে।

#চিকিৎসা বর্জ্যের উন্মুক্ত জ্বলন বা ইনসিনাটরে পোড়ানোর সময় তাপীয় জখম (Thermal injury) হতে পারে।

#তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হতে পারে।

তীক্ষ্ণ ও ধারালো বর্জ্য সংক্রান্ত ঝুঁকি

বিশ্বব্যাপী প্রতিবছর আনুমানিক ১৬ বিলিয়ন ইনজেকশন ব্যবহৃত হয়। সূঁচ এবং সিরিঞ্জগুলো যে সবসময় নিরাপদে নিষ্পত্তি হয় তা নয়। ফলে এগুলো থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর এবং আহত হওয়ার ঝুঁকি যেমন তৈরী হয় ; তেমনি পুনর্ব্যবহারের ও সুযোগ তৈরী হয়। ইনজেকশন ডিভাইসগুলি পুনরায় ব্যবহারের প্রবণতা হ্রাসকরণ প্রচেষ্টার কারনে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশ গুলিতে দূষিত সূঁচ ও সিরিঞ্জগুলির সাথে ইনজেকশন ব্যবহার সাম্প্রতিক বছরগুলিতে যথেষ্ট পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে। এই অগ্রগতি সত্বেও ২০১০ সালে ৩৩৮০০টি নতুন এইচআইভি সংক্রমণ, ১.৭ মিলিয়ন হেপাটাইটিস-বি সংক্রমণ এবং ৩১৫০০০ হেপাটাইটিস-সি সংক্রমণের জন্য অনিরাপদ ইনজেকশনগুলি দায়ী ছিল। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে সংক্রমিত রোগীর ব্যবহৃত সূঁচ থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অন্য ব্যক্তির মধ্যে এইচবিভি (HBV), এইচসিভি (HCV) এবং এইচআইভি (HIV) সংক্রমণের হার যথাক্রমে ৩০ শতাংশ, ১.৮ শতাংশ এবং ০.৩ শতাংশ।

অতিরিক্ত বিপদগুলো ঘটে আবর্জনা অপসারণের স্থানে আবর্জনা পরিচালনা করার সময় হাত দিয়ে বিপদজনক বর্জ্যগুলো বাছাই তথা আলাদা করা এবং খোঁজাখুঁজির সময় । পৃথিবীর অনেক অঞ্চলে বিশেষত নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে চিকিৎসা বর্জ্য পরিচালনার এটিই প্রচলিত পদ্ধতি। ২০১৫ সালে ২৪ টি দেশ থেকে প্রাপ্ত নমুনার ওপর পরিচালিত WHO এবং UNICEF এর একটি যৌথ সমীক্ষায় দেখা যায়, মাত্র ৫৮ শতাংশ ক্ষেত্রে এসব দেশে এ ধরনের চিকিৎসা বর্জ্যের নিরাপদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

চিকিৎসা বর্জ্যের পরিবেশগত প্রভাব

চিকিৎসা বর্জ্যগুলো পরিবেশে জীবাণু ও বিষাক্ত দূষণ ছড়িয়ে নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে-

#বর্জ্য গুলি সঠিকভাবে পরিশোধন না করে নিক্ষেপ করলে তা মাটির সঙ্গে সঙ্গে খাবার পানি বিশেষ করে ভূপৃষ্ঠস্থ ও ভূগর্ভস্থ পানির উৎসকে দূষিত করতে পারে , যদি বর্জ্য নিক্ষেপের আধার যথাযথভাবে নির্মাণ না করা হয়।

#রাসায়নিক জীবাণুনাশকগুলির সঙ্গে চিকিৎসা বর্জ্যের মিশ্রণের ফলে রাসায়নিক গুলি পরিবেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে যদি যথাযথভাবে সেগুলি পরিচালন, সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি না করা হয়।

#বর্জ্য পুড়িয়ে নিষ্পত্তি করা প্রচলিত এবং জনপ্রিয় পদ্ধতি। তবে অপর্যাপ্ত জ্বলন ও অনুপযুক্ত পদার্থের জ্বলন বাতাসে দূষণ ছড়িয়ে দিতে পারে এবং অবশিষ্টাংশ হিসাবে বিপুল পরিমাণ ছাই তৈরি হতে পারে। এটিও চিন্তার কারন হতে পারে। ক্লোরিনযুক্ত পদার্থগুলি পোড়ালে ডাইঅক্সিন ও ফিউরান তৈরি করতে পারে। যা মানব কার্সিনোজেন ও ক্ষতিকর স্বাস্থ্যগত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে । ভারী ধাতব অথবা উচ্চমাত্রার ধাতব ধারণকারী সামগ্রী পোড়ালে (বিশেষত সীসা , পারদ ও ক্যাডমিয়াম) পরিবেশে বিষাক্ত পদার্থ ছড়াতে পারে।

# বিশেষ গ্যাস ক্লিনিং যন্ত্রপাতি সজ্জিত অত্যাধুনিক ইনসিনাটরে কেবলমাত্র ৮৫০°-১১০০° ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পোড়ালে ডাইঅক্সিন ও ফিউরানের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্গমন রক্ষা করা যায়। নতুবা তা বিপদজনক হয়।

#রাসায়নিক এবং বিপজ্জনক বর্জ্যের দূষণ কমানোর জন্য যেখানে ইনসিনারেশনের ব্যবস্থা নেই সেখানে অটোক্লেভিং, মাইক্রোওয়েভিং এবং ষ্টীম পরিশোধন ব্যবস্থা যৌথভাবে প্রয়োগ করলে পরিবেশের ক্ষতি কিছুটা কমানো যেতে পারে।

চিকিৎসা বর্জ্যের বৈশ্বিক চিত্র

বিশ্বের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলে চিকিৎসা বর্জ্যের উৎপাদন একটি ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত সমস্যা। ইউরোপ আমেরিকার দেশগুলোতে নিষ্পত্তি ব্যবস্থার কড়াকড়ি প্রয়োগের কারণে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি নয়। কিন্তু এশিয়া-আফ্রিকার নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলিতে এটি একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এর মতে বিশ্বে প্রতিবছর ৫ থেকে ৯ মিলিয়ন টন চিকিৎসা বর্জ্য উৎপাদন হয় । এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ বর্জ্য বিপজ্জনক নয়(Non-Hazardous)। বাকি ১৫ শতাংশ বিপজ্জনক(Hazardous) বর্জ্য। এগুলো সংক্রামক, বিষাক্ত অথবা তেজস্ক্রিয় হতে পারে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ইঞ্জেকশন বর্জ্য সৃষ্টি হয় । প্রতিদিন ২ মিলিয়ন নিডল (Niddle) বর্জ্য এবং প্রতি বছর ৮ লক্ষ নিডল ষ্টিক(N T05 H) বর্জ্য সৃষ্টি হয়। বিশ্বের নির্দিষ্ট কিছু দেশের চিকিৎসা বর্জ্যের পরিসংখ্যান নিম্নরূপঃ

চিকিৎসা বর্জ্য সংক্রান্ত বাংলাদেশের চিত্র

চিকিৎসা বর্জ্য উৎপাদন ও এর বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে কতগুলি নিয়ামকের উপর । এগুলো হচ্ছে চিকিৎসা ব্যবস্থার ধরন, চিকিৎসা সুবিধা বিশেষায়নের মাত্রা, চিকিৎসাসেবার সঙ্গে সম্পর্কিত আইটেমগুলোর পুনর্ব্যবহারের হার, মৌসুমী রোগের প্রকোপ, রোগীর চাপ, ডাক্তার-রোগীর অনুপাত এবং বেড সংখ্যার উপর।

স্বাস্থ্য বুলেটিন ২০১৯ অনুসারে বাংলাদেশের প্রতি ১৮৬০ জন জনসংখ্যার জন্য একটি বেড রয়েছে যা WHO নির্দেশিত আদর্শ মানের তুলনায় মাত্র ১৭ শতাংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিচালিত একটি জরিপে দেখানো হয়েছে আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন হাসপাতালের বর্জ্য উৎপাদনের হার অপেক্ষাকৃত বেশি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল(BMCH) ও শমরিতায় হাসপাতাল বর্জ্য উৎপাদনের হার যথাক্রমে ০.৭৩ ও ০.৭৪ কেজি/রোগী/দিন । যেখানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (DMCH) এই হার ০.৬৭ কেজি/রোগী/দিন।

সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের চিকিৎসা বর্জ্য উৎপাদনের নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায় না। তবে ২০০৫-২০০৬ সালে ঢাকা শহরের ৬০ টি হাসপাতালের ওপর পরিচালিত একটি জরিপ থেকে দেখা যায় গড় বর্জ্য উৎপাদনের হার ১.৯ কেজি/বেড/দিন। মূলত এই জরিপের উপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশের চিকিৎসা বর্জ্য উৎপাদনের প্রজেকশন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার(WHO) মতে এই হার ০.১৭ কেজি/বেড/দিন হলেই তা বিপদজনক।

ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সালে MOHFW কর্তৃক প্রকাশিত ‘Environmental Assessment and Action Plan’ এ বলা হয়েছে বছরে যদি ৮ শতাংশ রোগী বৃদ্ধি পায় এবং গড় বর্জ্য উৎপাদনের উক্ত হার (১.৯ কেজি/বেড/দিন) যদি বজায় থাকে তবে MWM এর বৃদ্ধি ঘটবে ৫ শতাংশ এবং প্রকৃত চিকিৎসা বর্জ্য বৃদ্ধি পাবে ৩ শতাংশ। ফলে বছরে মোট MW এর পরিমাণ হবে ৩৩২২১ টন । এর মধ্যে ৮২০৮ টন হবে বিপদজনক(২০০৯)। এই হার বজায় থাকলে ২০১৫ সালে তা হবে ৩৯৬৬৮ টণ । এর মধ্যে ৯৮০১ টন হবে বিপদজনক বর্জ্য।

উপরোক্ত পরিসংখ্যানগুলো বলে দিচ্ছে বাংলাদেশ চিকিৎসা বর্জ্য উৎপাদনের পরিমাণ এবং বৈশিষ্ট্য দু’টিই বিপজ্জনক মাত্রায় উপনীত হয়েছে। কিন্তু সে তুলনায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তেমন অগ্রগতি ঘটেনি। এক্ষেত্রে লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে ২০০৭ সালে National Implementation Committee(NICe) গঠনের মধ্য দিয়ে। একই সালে(২০০৭) Active Asian Association (জাপান) এর সহায়তায় দেশের প্রথম ইনসিনারেটর (Incinerator) স্থাপন করা হয়। ২০০৮ সালে চিকিৎসা বর্জ্য (ব্যবস্থাপনা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ) বিধিমালা-২০০৮ প্রকাশ করা হয় এবং উক্ত বিধিমালায় বর্জ্যগুলো কে পৃথক করে আলাদা আলাদা রঙের বিনে (Bin) রাখার কোড নির্দেশ করা হয় । ২০০৮ সালে দেশে দ্বিতীয় ইনসিনারেটর স্থাপন করা হয় এবং MOHFW , DCC , ও PRISM নামের একটি এনজিও যৌথভাবে চিকিৎসা বর্জ্য নিষ্পত্তির কার্যক্রম শুরু করে। এতে আর্থিক সহায়তা করছে WSP ও CIDA। উক্ত কার্যক্রমের আওতায় হাসপাতাল থেকে বর্জ্য নিয়ে যাত্রাবাড়ির পার্শ্ববর্তী মাতুয়াইলে বর্জ্য ডাম্পিং করা হয়। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন দুই ভাগে বিভক্ত হওয়ার পরে হাসপাতাল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আলাদা কোন কাঠামো এখনো তৈরি হয়নি। ফলে নতুন ডাম্পিং স্টেশন তৈরি হয়নি। আর পুরনো ডাম্পিং স্টেশনেও এখন আর জায়গা নেই। উল্লেখ্য যে PRISM যশোরে ও চিকিৎসা বর্জ্য নিষ্পত্তির কাজ করছে। এছাড়াও Prodipon নামে আর একটি বেসরকারি সংস্থা খুলনাতে চিকিৎসা বর্জ্য নিষ্পত্তির কিছু কাজ করছে। ২০১০ সালে DMCH তাদের অভ্যন্তরীণ বর্জ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। আর বেসরকারি পর্যায়ে হলি ফ্যামিলি সহ আরো কিছু হাসপাতাল এসব কাজ করছে। কিন্তু বেশিরভাগ হাসপাতালেই নেই নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট।

অর্থাৎ বলা যায় দেশে বর্তমানে কিছু হাসপাতাল MWM কোড মানছে । কেউ আংশিক মানছে, আর কেউ কেউ কিছুই মেনে চলছে না। ফলে সাধারণ বর্জ্যের সঙ্গে চিকিৎসা বর্জ্য মিশে গিয়ে বিপদ বাড়াচ্ছে। আর এগুলো কাছে-দূরের নদী-নালা, নর্দমা ও সাধারণ কঠিন বর্জ্যের ভাগাড়ে নিক্ষিপ্ত হয়ে দূষণ ছড়াচ্ছে এবং ছড়িয়ে পড়ছে হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, যক্ষা, ডিপথেরিয়া, এমনকি এইডসের মতো মরণব্যাধির ঝুঁকি।

চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: ব্যর্থতার কারণ

স্বাস্থ্য ব্যবস্থা থেকে উদ্ভূত চিকিৎসা বর্জ্যের দূষণ সম্পর্কে সচেতনতার অভাব, যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্পত্তি ব্যবস্থার অনুপস্থিতি, আর্থিক ও মানব সম্পদের অপর্যাপ্ত বরাদ্দ, চিকিৎসা বর্জ্য নিষ্পত্তির বিষয়টিকে নিম্ন অগ্রাধিকার দেওয়া ব্যর্থতার কারণ বলে অনেকে মনে করেন। এ ছাড়াও অধিকাংশ দেশে এসম্পর্কিত বিধি-বিধান নেই। আবার থাকলেও তা প্রয়োগে কোন মনোযোগ নেই।

করণীয় বা এগিয়ে যাওয়ার পথ

চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্বল অনুশীলন থেকে সংক্রামক ও বিষাক্ত উপাদানগুলি বৃদ্ধি পায়। এই সমস্যাগুলো এড়াতে এই খাতে অধিক মনোযোগ প্রয়োজন এবং প্রয়োজন আধুনিক ব্যবস্থাপনা। সমস্যা থেকে উত্তরণে করণীয়গুলো হতে পারে নিম্নরূপঃ

#বর্জ্য উৎপাদন কম হবে এ ধরনের অনুশীলনকে উৎসাহিত করতে হবে।

#জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করণের জন্য উৎস স্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণ, ধ্বংস ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থার ক্রমবর্দ্ধমান উন্নয়নের জন্য শক্তিশালী তদারকি ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কার্যকর কৌশল ও পদ্ধতি উদ্ভাবন করতে হবে।

#সম্ভাব্য নিরাপদ এবং পরিবেশগতভাবে নির্ভরযোগ্য বর্জ্য নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে (অটোক্লেভিং , মাইক্রোওয়েভিং, ষ্টিমিং অথবা সবগুলো পদ্ধতির সমন্বয়ে একটি মিশ্র পদ্ধতি এবং রাসায়নিক পরিশোধন ইত্যাদি)।

#একটি সম্পূরক ব্যবস্থা গড়ে তোলার উপর মনোযোগী হতে হবে এবং এই খাতে সম্পদ বরাদ্দ করতে হবে‌। এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। ধারাবাহিক উন্নয়নের মাধ্যমে টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।

#বর্জের সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং নিরাপদ অনুশীলন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।

#নিরাপদ এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবস্থাপনা নির্বাচন করতে হবে এবং জনসাধারণকে বর্জ্য সংগ্রহ, পরিচালন, সংরক্ষণ, পরিবহন ও নিষ্পত্তির সময় বিপদ থেকে রক্ষা করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

#বর্জ্য পরিচালনা ও নিষ্পত্তির দায়িত্ব নিতে এবং উৎস স্থলে বর্জ্য পৃথকীকরণের কালার কোড (কালো ,হলুদ ,লাল, নীল,সিলভার, সবুজ) মেনে চলতে হাসপাতালগুলোকে বাধ্য করতে হবে।

#বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ইউনিট না থাকলে ক্লিনিক বা হাসপাতালগুলোর পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদান বন্ধ করতে হবে এবং বিধিমালা লঙ্ঘনের দন্ড নিশ্চিত করতে হবে।

#ব্যয় সংকোচন এবং পরিচালন সামর্থের নিরিখে প্রয়োজনে একাধিক হাসপাতালকে একসঙ্গে বর্জ্য নিষ্পত্তি ব্যবস্থা গড়ে তোলার অনুমোদন দেয়া যেতে পারে।

বর্জ্য পরিচালনার সর্তকতা:

বর্জ্য পরিচালনায় নিম্নবর্ণিত সতর্কতাগুলো অবলম্বন করলে চিকিৎসা বর্জ্যের ঝুঁকি কমানো যেতে পারে-

#বাঁধা গাউন /এপ্রন পরিধান করা;
#হ্যান্ড গ্লাভস পরা;
#প্রতিরক্ষামূলক চশমা পরা;
#মুখোশ ও মাস্ক পরা;
#হ্যান্ড স্যানিটাইজার , সাবান ব্যবহার করা প্রভৃতি।

লেখক: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া।