কেশবপুরে ‌‌‍‍‍’লকডাউন’ বাস্তবায়নে গ্রাম পুলিশের ভূমিকা প্রশংসিত

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর (যশোর): উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে লকডাউন বাস্তবায়ন করতে কাজ করছে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। ইউনিয়নের মহাসড়ক, সড়ক-উপ সড়কগুলোতে তল্লাশীর মাধ্যমে যাত্রীবাহী যান চলাচল বন্ধ, মাস্ক পরতে সচেতনতা সৃষ্টিতে রাত-দিন নিরলসভাবে কাজ করে সবার দৃষ্টি কাড়ছে গ্রাম পুলিশের শতাধিক সদস্য।

সারাদেশে কোভিড-১৯ (করোনাভাইরাস) সংক্রমণ ও মৃত্যু হার বৃদ্ধি পাওয়ায় ১৪ দিন কঠোর লকডাউন ঘোষনা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন সরকার।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২৩ জুলাই থেকে ৫ আগষ্ট পর্যন্ত যশোর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় সর্বাত্মক লকডাউন পালনে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইরুফা সুলতানা ও কেশবপুর থানার ওসি বোরহান উদ্দীনের তত্ত্বাবধানে পৌর এলাকাসহ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জোরদার টহল দিতে দেখা গেছে।

উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানের নির্দেশে কেশবপুরের ১১টি ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ ও আনসার ভিডিপি দল তৎপরতার সাথে ইউনিয়নের হাট-বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষকে জনসচেতনতামূলক প্রচার, সরকারি বিধি-নিষেধ মেনে চলা, সকল প্রকার জনসমাগম এড়িয়ে চলা, প্রয়োজন ব্যাতিরেকে ঘরে থাকা, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি লকডাউন করা ও খাদ্য সামগ্রী পৌছে দেয়া, বিশেষ প্রয়োজনে বাড়ীর বাহির হলে মাস্ক পরিধান করাসহ সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য অনুরোধ জানিয়ে কাজ করে ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছেন।

কেশবপুরের হাসানপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, শুধু সরকারী নিদের্শনা নয়-আমরা দেশের জন্য, জনগণের জন্য, সমাজের জন্য সর্বদা জনগণের পাশে থেকে সরকারি বিধি-নিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছি।

আজ বুধবার উপজেলার হাসানপুর বাজারে লকডাউনে বাস্তবায়নে গ্রাম পুলিশ ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে লাভলু, আবুল হোসেন ও রুস্তম আলীকে কাজ করতে দেখা যায়। তারা সকলেই হাসানপুর ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের দায়িত্বে রয়েছেন। কঠিন দূঃসময়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারায় আনন্দিত বলেও জানান তারা।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন জানান, কেশবপুরের ১১টি ইউনিয়নে ১০৫ জন গ্রাম পুলিশ কর্মরত রয়েছেন। গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে সরকারের সকল সচেতনতামূলক কর্মকান্ডে নানাভাবে ভূমিকা রাখছে। পরিষদের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনা মহামারী রোধে গ্রাম পুলিশের এ ধরনের ভূমিকা প্রশংসনীয়।

স্বাআলো/এস