দড়াটানার ব্যারিকেটে লোকসমাগম ঠেকানো যাচ্ছে না, দুর্ভোগও কমেনি

রুহুল আমিন, যশোর: শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানায় লোকসমাগম ঠেকাতে ব্যারিকেটে দেয়া হয়েছে। সেটি কার্যত কাজে আসছে না। ব্যারিকেটের পাশের গলি দিয়ে হুড়মুড় করে মানুষ পার হচ্ছেন ঠিকই। মাঝখান দিয়ে রোগী ও তার স্বজনদের ভোগান্তির শেষ নেই। জরুরি রোগীরা সহজে হাসপাতালে পৌঁছাতে পারছেন না। অনেকে হাসপাতালে নেয়ার আগেই জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়ে যাচ্ছেন। তাদের কয়েক কিলোমিটার ঘুরে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে। অথচ ব্যারিকেটের পাশের গলি দিয়ে পার হচ্ছেন মানুষ দেদারসে। এমন পদক্ষেপে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, যশোরে কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়লে গত রমজান মাস থেকে প্রশাসনের পক্ষে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়। শুধুমাত্র ঔষধের দোকান ছাড়া সব ধরণের দোকানপাট বন্ধ করে দেয়া হয়। সেই সময় থেকে শহরের দড়াটানা চত্বরে পুলিশ ব্যারিকেট দেয়। মাঝে কিছুদিন লকডাউন শিথিল করলে ব্যারিকেট তুলে দেয়া হয়। ব্যারিকেটের কারণে সাধারণ মানুষকে বড় ধরণের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। দড়াটানা চত্তরের পাশে সদর হাসপাতালসহ অধিকংশ প্রাইভেট হাসপাতাল অবস্থিত। কোভিডে আক্রান্তসহ সব ধরণের রোগীদের হাসপাতালে পৌছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। স্বজনরাও জরুরী প্রয়োজনে চলাচল করতে পারছেন না।

শহরের বেজপাড়ার বাসিন্দা রওশন আলী জানন, ‘তার ছোট ভাই আলাফ আলী একতা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তিনি ছাড়া তার ভাইকে দেখার মত কেউ নেই। তার বয়স সত্তোরের কাছাকাছি। ভাইয়ের ঔষধ কিনতে তাকে কয়েকবার বঙ্গবাজারে যেতে হয়েছে। দড়াটানায় ব্যারিকেট থাকায় রিক্সা ভাড়া দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। বেশ ঝামেলায় পড়তে হচ্ছে।

মণিহার অঞ্চলের বাসিন্দা মুশফিকুর রহমান জানান, প্রশাসন নিজেদের গায়ের জোরে ব্যারিকেট দিয়ে রেখেছে। সাধারণ মানুষের অযথা দুর্ভোগ ছাড়া এর কোন যৌক্তিকতা নেই। তার বোনকে রাতে হাসপাতালে আনতে যেয়ে বুঝতে পারেন রোগীদের কতটা দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

বিষ্ণুপদ মল্লিক জানান, তার বাড়ি রাজারহাটে। ব্যারিকেট রোগীদের জন্য কতটা কষ্টের সেটা তিনি খুব কাছ থেকে উপলিদ্ধ করেছেন। গত কয়েকদিন আগে তার ছোট ছেলে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে আনেন। দড়াটানার ব্যারিকেটে যে কতটা অস্তির মধ্যে ফেলে সেদিন তিনি বুঝতে পারেন। অতিরিক্ত তিন কিলোমিটার রাস্তা ঘুরে হাসপাতালে পৌছাতে হয়।

চাঁচড়া ইউনিয়নের রুপদিয়া সাড়াপোল গ্রামের আব্দুল মান্নান জানান, তার গর্ভবতী মেয়েকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সিজার করার জন্য ঔধষ, অপারেশন সামগ্রী ও রক্ত যোগাড় করতে তাকে একাধিকবার বঙ্গবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে যেতে হয়েছে। ব্যারিকেটের জন্য আসা-যাওয়ার সময় বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তাকে। মানুষের সুবিধার্থে ব্যারিকেট তুলে দেয়া প্রয়োজন। প্রশাসন মানুষের ভাল যেয়ে বেকায়দায় ফেলে দিচ্ছে।
ঝিকরগাছা উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিন ধরে তার বাবার করোনা উপসর্গ ছিল। চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে ঔষধ খাওয়ান। হঠাৎ করে শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে সদর হাসপাতালে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। দড়াটানায় এসে দেখে ব্যারিকেট রয়েছে। তিন কিলোমিটারের বেশি রাস্তা ঘুরে বাবাকে তিনি হাসপাতালে নিয়ে যান। ব্যারিকেটের জন্য রোগীদের চরম বিপদে পড়তে হচ্ছে।

যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সায়েমুজ্জামান বলেন, দড়াটানা হলো করোনার হট পয়েন্টে। আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো দড়াটানায় ভীড় কমানো। তাই ব্যারিকেট দিয়ে আটকানো হয়েছে। দড়াটানায় মানুষের আড্ডাবাজিও বন্ধ হয়েছে। রোগীরা তো গাড়িতে যাতায়াত করেন। এতে কারোর অসুবিধা হওয়ার কথা না।

স্বাআলো/আরবিএ

.

Author