কপোতাক্ষ নদে নৌ চলাচল বিঘ্নিত: আট দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরের ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের ছয় লেনের সেতু নির্মাণে নকশার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই নকশায় সেতু নির্মাণ হলে নদের নাব্যতা হ্রাস ও নৌ চলাচল বিঘ্নিত হবে। নদের নাব্যতা বৃদ্ধি ও নৌ চলাচলের উপযোগী করাসহ ৮ দফা দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

সোমবার (১৬ আগস্ট) যশোরের জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এ স্মারকলিপি দিয়েছে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলন।

স্মারকলিপিতে সংগঠনের আহবায়ক অনিল বিশ্বাস উল্লেখ করেছেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট (বাংলাদেশ) কর্তৃক সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে ঝিকরগাছা কপোতাক্ষ নদের উপর নিম্নমানে নিচু ব্রিজ নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে নদের নাব্যতা হ্রাস ও নৌ-চলাচল বিঘ্নিত হবে। এ সমস্যা সমাধানে ৮ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।

কপোতাক্ষ নদের স্রোতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, কচুরিপানা ঢুকছে ফসলি জমিতে

দাবিগুলো হলো- নীতিমালা লঙ্ঘন করে ব্রিজের নির্মিত অংশ নাব্যতা ও নৌ-পরিবহণের উপযোগী করে পুনর্গঠন করতে হবে ও বাকি অনির্মিত অংশটি সেভাবেই নীতিমালা অনুযায়ী নির্মাণ করতে হবে। নীতিমালা লঙ্ঘনের সাথে সংশ্লিষ্টদের বিচার ও পুনর্নির্মাণের দায় নির্মাণ প্রতিষ্ঠানকে নিতে হবে। দেশের ৮০৫টি ব্রিজ নির্মাণে নীতিমালা লঙ্ঘন অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতির সাথে সংশ্লিষ্টদের বিচার করতে হবে। কপোতাক্ষ নদ সংস্কার ও নৌ-পরিবহন ব্যবস্থার প্রয়োজনে নদের উপর নির্মিত নীতিমালা পরিপন্থী অন্যান্য ব্রিজ-কালভার্ট অপসারণ ও পুনর্নির্মাণ করতে হবে। চলমান নদ সংস্কারের কাজ শুরু করার আগেই ডিজাইন অর্থাৎ প্রি-ওয়ার্ক ও পোষ্ট ওয়ার্ক জনসম্মুখে ঘোষণা করতে হবে। নদীতট (ভড়ৎবংযড়ৎব) নীতিমালা মেনে নদী সংস্কারে খননকৃত মাটি পাড়ের বাইরে রাখতে হবে। অবিলম্বে পাখিমারা বিলে টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট (টিআরএম) চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, জমি-জোতের মালিকদের বকেয়া ক্ষতিপূরণ প্রদান করে মোহনা সচল রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং উজানে নদী সংযোগের কাজ যুগপৎ সম্পন্ন করতে হবে। সংস্কার কাজ তদারকিতে কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনকে সংশ্লিষ্ট করতে হবে।

কপোতাক্ষ নদে সেতু নির্মাণে বিআইডব্লিউটিএর গেজেট মানা হয়নি

কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের আহবায়ক অনিল বিশ্বাস বলেন, নদীকে নৌ চলাচলের উপযোগী ও নাব্যতা রক্ষায় সকল বাঁধা, স্থাপনা, নিচু ব্রিজ অপসারণ করতে হবে। সে লক্ষ্যে সরকার ৮০৫টি ব্রিজ অপসারণ ও পুনর্নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন। এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত ও অভিনন্দন জানাই। ঠিক সে সময়ে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কে ঝিকরগাছায় কপোতাক্ষ নদের উপর ব্রিজ নির্মাণে সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে নৌ-চলাচলে স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিআইডব্লিউটিএ বা নৌ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া প্রয়োজন বোধ করেনি এবং নির্ধারিত ডিজাইন নীতিমালাও উপেক্ষা করে আপনার ঘোষণাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। ইতোমধ্যে ২৯ জুলাই ২০২১ ইং বিআইডব্লিউটিএ সরেজমিনে সাইট পরিদর্শন করে আপত্তি উত্থাপন করেছে। কিন্তু নির্মাণ প্রতিষ্ঠান সে আপত্তিতে কর্ণপাত করছে না। ব্রিজের একাংশের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ফলে বাকি অংশ নীতিমালা অনুযায়ী করার সুযোগ রয়েছে। অপর অংশটি নীতিমালা মেনে পুনঃনির্মাণ করা জরুরি।

বিআইডব্লিউটিএ র নৌ-চলাচলের উপযোগী করার জন্য ৫৩টি নদী তালিকায় ৭ নম্বর ক্রমিকে কপোতাক্ষ নদ রয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক নৌ-চলাচলের উপযোগী করার জন্য বরাদ্ধ প্রস্তাবনা রয়েছে ২৫০ কোটি টাকা।

ঝিকরগাছায় নতুন ব্রিজ কপোতাক্ষের গলার কাঁটা!

২০০৮ সালে আপনার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাতক্ষীরার পাখিমারা বিলে টিআরএম সহ কপোতাক্ষ সংস্কারের ১ম পর্যায়ে ৪০০ কোটি টাকার প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। তা বাস্তবায়নে কপোতাক্ষ অববাহিকার জনগণ জলাবদ্ধতার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন এবং এলাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরে এসেছে। তবে এ সকল কাজেও অনিয়ম দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি-অনিয়ম না হলে নদের পরিস্থিতি আরো উন্নত হতো। বর্তমানে পাখিমারা বিলের টিআরএম আবারো বিপর্যয়ের মুখে। আবারো নদ পলি ভরাট হতে শুরু করেছে। মোহনা উন্মুক্ত রাখার জন্য টিআরএম ও উজানের নদী সংযোগের কাজ যুগপৎ হতে হবে। সে পরিকল্পনাও চলমান বলে আমরা অবহিত। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার নদ সংস্কারের কাজ সম্পূর্ণ করার জন্য কপোতাক্ষ সংস্কার (২য় পর্যায়)-এ ৫০০ কোটি টাকার বরাদ্ধকৃত প্রকল্পের মধ্যে কপোতাক্ষ ও আপার ভৈরবের জীবননগর পর্যন্ত সংস্কারের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। সে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান এবং কয়েকটি অংশের টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী প্রবাহ ও নৌ-চলাচলের উপযোগী করার ক্ষেত্রে পদ্মা-মাথাভাঙ্গা নদীর সাথে ভৈরবের সংযোগে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এইসকল প্রকল্প বাস্তবায়ন জনপদের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে, জীববৈচিত্র্য-নদী-পানি-পলি ব্যবস্থাপনা, সুন্দরবন রক্ষা, জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা নিরসনে ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন কপোতাক্ষ বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল কবির জাহিদ, কেশবপুরের আহবায়ক অ্যাড. আবু বক্কার সিদ্দিক, সদস্য অ্যাড. আমিনুর রহমান হিরু, ঝিকরগাছার আহবায়ক আব্দুর রহিম, সদস্য সচিব মাস্টার আশরাফুজ্জামান বাবু, ঝিকরগাছার সদস্য বাবু সুভাষ চন্দ্র ভক্ত ও বিমল কুমার ঘোষ।

স্বাআলো/এসএ

.