সেপ্টেম্বরেই খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

ঢাকা অফিস: দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হওয়ার পর পরই শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বন্ধ ঘোষণা করা হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। গত বছরের ১৭ মার্চ বন্ধ ঘোষণা করার পর বিভিন্ন সময়ে করোনার সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ায় অন্য সব কিছু স্বাভাবিক হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধই থাকে। অভিভাবকদের আকুতি আর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে বন্ধ থাকলেও দীর্ঘ ১৭ মাস স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে না যেতে পেরে চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে খুব শীঘ্রই সব শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় এনে যত দ্রুত সম্ভব স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দেয়ার আহবান জানিয়েছেন অভিভাবক থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ। এর প্রেক্ষিতে আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় ৪১ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনাও করেছে সরকার। কিন্তু টিকার মজুদের প্রেক্ষিতে সুরক্ষা এ্যাপে নিবন্ধিত টিকাপ্রত্যাশীদের পরিমাণ এত বেশি যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যপূরণ অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে টিকার মজুদ কিছুটা বাড়লেই শিক্ষার্থীদের টিকা দেয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাতকারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, এসএসসি ও এইচএসসির প্রায় ৪১ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দেয়ার পরিকল্পনা করছি আমরা। তাদের জন্য কোনো টিকা উপযোগী হবে তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। আমরা সেপ্টেম্বরেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে চাই এবং নভেম্বরে এসএসসি ও ডিসেম্বরে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়ার পরিকল্পনা আমাদের আছে। বর্তমানে দিন দিন করোনা সংক্রমণের হার কমছে। কিছুদিন আগেও এই সংক্রমণের হার ছিলো ৩০-৩২ শতাংশ। এখন সেটা কমে ২২-২৩ শতাংশে নেমে এসেছে। গত এক সপ্তাহ ধরে এই হার কমছে। আমরা আশা করছি, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে নভেম্বরের মাঝামাঝি এইচএসসি এবং ডিসেম্বরের শুরুতে এইচএসসি পরীক্ষা নিতে পারবো। আমাদের সেই প্রস্তুতি আছে।

নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে ৪১ লাখ শিক্ষার্থীকে করোনার টিকা দেয়া হবে

একই কথা বলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহেদুল খবির চৌধুরী। তিনি বলেন, ৪১ লাখ শিক্ষার্থীকে টিকা দিয়েই পরীক্ষায় বসাতে চায় সরকার। তাদের টিকা নেয়ার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা শিক্ষার্থীদের বিশেষ ইউনিক আইডি দিয়েই টিকা দেয়া সম্ভব। তবে শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষক-কর্মচারী সবাইকেই টিকার আওতায় এনে পরীক্ষা নিতে হবে।

এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার জন্য নিবন্ধন করার সুযোগ তৈরি হয়েছে সুরক্ষা এ্যাপে। কোভিডের টিকার নিবন্ধনের জন্য সুরক্ষা এ্যাপের ‘পরিচয় যাচাই’ অপশনে ১৮ বছর বা তদুর্ধ ছাত্রছাত্রীদের নিবন্ধনের জন্য নতুন একটি অপশন খোলা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সেন্টারের (এমআইএস) পরিচালক ও এইচআইএস এ্যান্ড ই-হেলথের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই সুরক্ষা এ্যাপে এই অপশনটি চালু হয়ে গেছে। সাধারণ মানুষের জন্য ২৫ বা তদুর্ধই আছে এখনো। তবে শিক্ষার্থীদের জন্য এটা ১৮ বছর বা তার উর্ধে করা হয়েছে।

স্বাআলো/এসএ