শুভঙ্করের ফাঁকি দিচ্ছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়

শ্যামল শর্মা: চলতি (২০২০- ২০২১) শিক্ষাবর্ষের অনার্স ভর্তির ফলাফল ঘোষণা করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ উচ্চতর শিক্ষা সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যলয়’।

দেশের সব নামকরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে নামমাত্র বাছাইয়ের মাধ্যমে গত ১ সেপ্টেম্বর প্রথম ফলাফল ঘোষণা করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

সুযোগ প্রাপ্তদের ভর্তির জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে চলতি মাসের ১১ তারিখ। এরপর ২য় পর্যায়ের ফলাফল ঘোষণা করবে চলতি মাসের ১৮ তারিখ যার ভর্তি সময়সীমা দেবে সম্ভবত ২৮ অক্টোবর।

এদিকে দেশের সর্ব বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা এখনো সম্পন্ন হয়নি। করোনা পরিস্থিতির জন্য বার বার তারিখ পেছালেও আগামী ১ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমন্মিত গুচ্ছ প্রদ্ধতিতে আসা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে।

উচ্চতর শিক্ষাজীবনের অনিশ্চয়তা থেকে বাধ্য হয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি আবেদন করে ভর্তি হতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কার্যক্রমের তারিখের দিকে নজর দিয়ে খুব কৌশলের সাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভর্তি কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

নিয়ম অনুযায়ী ভর্তি ফি বাবদ নির্ধারণ করেছে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা সাথে নেয়া হবে এইচএসসি পরীক্ষার মুল নম্বরপত্র। শুধু এখানেই শেষ নয় পরবর্তীতে যদি কোনো শিক্ষার্থী কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায় তাহলে তাকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই ভর্তি বাতিল করে মূল নম্বরপত্র নিতে ভর্তিকৃত প্রতিষ্ঠানের এক বছরের বাৎসরিক ফি বাবদ গুনতে হবে প্রায় ৬ হাজার টাকা।

দেশের এই ক্লান্তিকালে কি চমৎকার শুভঙ্করের ফাঁকি যা শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তাছাড়া দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের বেসরকারি কলেজ সমূহতে শাখা করে উচ্চতর ডিগ্রী লাভের সুযোগ করে দিয়ে বেকার তৈরীর কারখানায় পরিণত হয়েছে এই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

একটা দেশের শিক্ষানীতি নির্ধারিত হয় শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে কিন্ত এই নিয়ম কোনো শিক্ষানীতি অনুসরণ করে?

উল্লেখ্য যে, ইতোপূর্বে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা গ্রহণ করা হত ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারি মাসে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষে। তাহলে কেন এই পরিবর্তন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলতে পারে এটা তাদের নিজস্ব নীতিমালা কিন্তু আমি মনে করি একটা গণতান্ত্রিক দেশের সরকার দেশের নাগরিক তথা শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সর্বপ্রথম চিন্তা করে থাকে এজন্য টাকা যার শিক্ষা তার এই নীতির বিরুদ্ধে করা ঐতিহাসিক ৬২ শিক্ষা আন্দোলনের চেতনার সাথে মিল রেখে এই প্রদ্ধতি পরিবর্তন করা অতিব জরুরী হয়েছে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মত এমন ব্যবসায়ী আচরণ কোনো সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করতে পারে না। শিক্ষাকে পুঁজি করে এমন অনিয়মের বিরুদ্ধে সঠিক পদক্ষেপ নিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদয় দৃষ্টি ও হস্তক্ষেপ আশা করছি।

লেখক: সহ-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী