মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, তবু ব্যবসা চলে কেন?

সম্পাদকীয় ডেস্ক: যশোরের চৌগাছা থানার এক এএসআই ক্রেতা সেজে মাদকবিক্রেতাকে ধরতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন। ৯ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে চাঁদপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পরে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী শাহিন আলম পাপ্পুকে রাতেই আটক করেছে পুলিশ। তার বাড়ি চাঁদপাড়া গ্রামে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায় মাদক ব্যবসায়ীর হামলায় আহত ওই পুলিশের নাম জিকু আলী। তিনি মাদক ব্যবসায়ীর ধারালো হাসুয়ার কোপে আহত আহত হন। তাকে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

মাদকের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স। এ অবস্থায় দেশের প্রশাসনের এমন কোনো কর্মকর্তা নেই যিনি মাদকের বিরুদ্ধে দু-পাঁচটা কথা বলেন না? এমন কোনো ওসি নেই যিনি মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করেননি? তার পরও ফলটা কি? একেবারেই শূন্য। বিতর্ক করলে অনেক কথা বলা যাবে। আর এ বিতর্কের কোনো মীমাংসা নেই। চোরা পথে আসা মাদকে দেশ ভাসছে যেন। কোথা থেকে কি হচ্ছে, কেনইবা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোরতার পরও চোরাচালানীরা নিবৃত হচ্ছে না এটা ভাবলে মাথা বিগড়ে যাবার কথা।

নেশার কালো থাবা এমনভাবে মানুষকে গ্রাস করে যে নেশাসক্ত নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। জীবন তাদের কাছে হয়ে ওঠে তুচ্ছ। মরবে কি বাঁচবে সে জ্ঞান তাদের থাকে না। এ কারণেই একজন পুলিশের ওপর ওই মাদব ব্যবসায়ী হামলা চালাতে পেরেছে।তার নিশ্চয় জানা আছে পুলিশের ওপর হামলা করে সে টিকে থাকতে পারবে না। তবু এমন কাজটি সে করেছে। আর ধর্ম জ্ঞান সে তো অনেক দূরের বিষয়। তারা সব সময় মানসিক উচ্ছৃঙ্খলা, অবসাদ ও বিষন্নতায় ভোগে। আর তাই বিত্তবান ঘরের উচ্চ শিক্ষিত তরুণরা মাদক সেবন ও ব্যবসায় নেমেছে।

সরকার মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স অবস্থান গ্রহণ করলেও ফল কিন্তু সন্তোষজনক নয়। এ ব্যবসাকে ডেডস্টপ করতে হবে। বিকশিত হবার আগেই হারিয়ে যায়, কত উদীয়মান প্রতিভা। বিধবা হয় কত নারী, কত শিশু এতিম হয়। মাদকাসক্তরা পরিবার সমাজে অস্বাভাবিক জীবনযাপনের শিকার হয়।

মাদকের মূলোৎপাটনে সরকার যে শুভ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা সফল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক হতে হবে।