আত্মহত্যার এ চিত্র উদ্বেগজনক

সম্পাদকীয় ডেস্ক: সারাদেশে বেড়ে গেছে আত্মহত্যার প্রবণতা। ১৪-২৯ বছর বয়সীদের মৃত্যুর বড় কারণ আত্মহত্যা। গত ১০ মাসে দেশে আত্মহত্যা করেছে ১১ হাজার নারী-পুরুষ। সেই হিসেবে গত ১০ বছরে প্রায় এক লাখ মানুষ আত্মহত্যা করেছে। গত বছরের তুলনায় এবার আত্মহত্যার হার বেড়েছে ১৩ শতাংশ। আত্মহত্যা বিষয়ক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বশেষ প্রতিবেদনে এসব তথ্যই উঠে এসেছে। আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। বয়সের হিসেবে তরুণ-তরুণীরাই বেশি আত্মঘাতী হচ্ছেন।একটি জাতীয় দৈনিকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

সমাজ বিশ্লেষক ও মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, যখন কোনো ব্যক্তির জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক ও উপলব্ধি-অনুধাবন শক্তি লোপ পায়, নিজেকে অসহায়-ভরসাহীন মনে করে, তখনই ধর্ম-কর্ম ভুলে মানুষ আত্মহত্যা করে বসে। প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপও আত্মহত্যার পেছনে কাজ করে। আবার জাগতিক দুঃখ-কষ্ট, লাঞ্ছনা ও অপমান থেকে আত্মরক্ষা করতে দুর্বল চিত্তের ব্যক্তিরা আত্মহননের মধ্য দিয়ে মুক্তি খোঁজে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আত্মহত্যার অন্যতম কারণ হলো ডিপ্রেশন বা মানসিক অবসাদ। দীর্ঘদিন ডিপ্রেশনে ভোগা ব্যক্তিরা একসময় আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এ জন্য শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়েও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।

শিশুশ্রম বন্ধের আগে সঙ্গত সমস্যার দিকে নজর দিতে হবে

বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। আত্মহত্যার চরম ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে ঝিনাইদহ পরিচিত।

আত্মহত্যা একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এর পেছনে রাষ্ট্রের দর্শন, অর্থনীতি ও রাজনীতি জড়িত। রাষ্ট্রে যখন বেকারত্ব বাড়ে এবং অবিচার হয় তখন আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে। আমরা যদি এর দায়িত্ব না নেই তাহলে এ হার আরো বাড়বে। যারা হতাশায় আছে তাদেরকে বুঝতে হবে জীবন অনেক সুন্দর। একবার ব্যর্থ হওয়া মানে সব শেষ নয়। জীবনে অনেক সুযোগ আসবে।

আত্মহত্যা কোনোভাবেই ব্যক্তিগত নয়। এ কারণে প্রচলিত আইনে আত্মহত্যার চেষ্টাকারীকে সাজার মুখে পড়তে হয়। আর ইসলাম ধর্মে তো একটি বড় গোনাহ। এ ধর্মে বিশেষভাবে বলা হয়েছে যে আত্মহত্যা করবে সে কবিরা গোনাহ অর্থাৎ বড় গোনাহের কাজ করবে। তাহলে আমাদের বুঝতে বাদ থাকছে না যে কোনোক্রমেই আত্মহত্যা করা যাবে না। নানাভাবে নানা কৌশলে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে আত্মহত্যা করার ভেতর কোনো কৃতিত্ব নেই। এ ধরাধামে বেঁচে থেকে ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিকে এগোতে হবে। মানুষ হয়ে যখন জন্ম নেয়া হয়েছে তখন চলার পথ কোথাও কুসুমাস্তীর্ণ কোথাও কন্টকিত। কন্টকিত পথ চলতে গিয়ে এই যে অবস্থা তাতে জীবনের স্বাদ আছে, বৈচিত্র আছে। এভাবে জীবন না হলে তো সে জীবন মূল্যহীন হয়ে যায়।

নিষ্ঠুরতা বাড়ছে

আত্মহত্যা প্রতিরোধে সামাজিকভাবে সকলকে সচেতন করতে সরকারি ও বেসরকারিসহ সব ধরনের প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসতে হবে। মনে রাখতে হবে মানুষ নিয়েই সমাজ ও রাষ্ট্র, মানুষের জন্যই সমাজ ও রাষ্ট্র।

স্বাআলো/এস