চিকিৎসা ক্ষেত্রে এ অবহেলা অমানবিক

সম্পাদকীয়: দেশের ১৬টি সরকারি হাসপাতালে ২৮টি রোগনির্ণয় যন্ত্র বাকসবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে।যন্ত্রগুলোর মধ্যে আছে ১৩টি এক্স-রে, ছয়টি ভেন্টিলেটর, চারটি আলট্রাসনোগ্রাম, একটি ইসিজি, একটি ল্যাপারোস্কপি, একটি কালচার ইনকিউবেটর, একটি হট এয়ার ওভেন ও একটি অটোক্লেভ মেশিন। পড়ে থেকে কোন যন্ত্র নষ্টও হয়ে গেছে। এ ছাড়া কোনটি নষ্ট হওয়ার উপক্রম।ফেলে রাখার রাখার ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

গত ২৪ আগস্ট ১৬টি হাসপাতালে ২৮টি যন্ত্র বাকসবন্দী’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন যুক্ত করে ২৬ আগস্ট জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী মনোজ কুমার ভৌমিক। বেশিরভাগ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই জানিয়েছে, যন্ত্র অব্যবহৃত থাকার প্রধান কারণ সংশ্লিষ্ট লোকবলের অভাব। কোথাও কারিগরি সহায়তার অভাবে যন্ত্র বসানো যায়নি।

আত্মহত্যার এ চিত্র উদ্বেগজনক

একটি খবর প্রকাশিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দিয়েই থাকে। এ ক্ষেত্রে তাই হয়েছে। লোকবলের সংকট থাকতেই পারে। কারিগরি সহায়তাও অপ্রতুল হতে পারে। তাতে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। কিন্তু এটিই কি দায় এড়ানোর গ্রহণযোগ্য যুক্তি। যে রোগ নির্ণয় যন্ত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তার সব ক’টি চিকিৎসাক্ষেত্রে অতীব গুরুত্বপূর্ণ। এই যন্ত্রগুলো যখন যে হাসপাতালে পৌছেছিল সম্ভাব্য সময়ের মধ্যে সেগুলো কাজে লাগানো না গেলে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো প্রয়োজন ছিল। এ কাজটি করা হয়েছিল কিনা তা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই ভালো জানে। চিকিৎসা যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক সময় চিকিৎসা সেবাদানে সংকট সৃষ্টি হয়। এই সংকট নিরসন করে মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণে সরকার যেখানে আন্তরিক তখন দায়িত্বপ্রাপ্তদের কেউ কেউ এতটাই উদাসিন যে তাদের কারণে সরকারের শুভ উদ্যোগগুলো ভেস্তে যায়। এর পরিণতিতে দায় চাপে সরকারের ঘাড়ে।চিকিৎসা যন্ত্রপাতিগুলো অবহেলায় পড়ে থাকার ঘটনাটা তাই প্রমাণ করে। বিষয়টা যদি কেউ বাকা দৃষ্টি নিয়ে বলে, রোগ নির্ণয় যন্ত্রগুলো হাসপাতালে বসানো হলে কারো কারো কমিশন বাণিজ্যে টান পড়বে। তাই যন্ত্রগুলো রোগী কল্যাণে ব্যবহারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাদের এ ধরনের মন্তব্যকে ঠেলে ফেলে দেবার নয়। মানুষের কল্যাণে সরকার যদি এক হাত এগিয়ে আসে তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১০ হাত এগিয়ে যেতে হবে। সরকারের সেই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে জনগণের সামনে দৃশ্যমান করতে হবে। ১৬ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তেমন কোন গরজ দেখায়নি বলে এমনটা হয়েছে। আদালত ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা মনে করি সুষ্ঠু তদন্ত হলে অনেক রাঘব বোয়ালের মুখোশ উন্মোচন হবে।

স্বাআলো/আরবিএ