বাগেরহাটে করোনা টিকাদানে অব্যবস্থাপনা, দুর্ভোগ চরমে

আজাদুল হক, বাগেরহাট: জেলা সদর হাসপাতালে করোনার টিকা নিতে গিয়ে ফিরে যাচ্ছেন নিবন্ধনকারীরা। টিকার মজুদ শেষ হওয়ার তথ্য সাধারণ মানুষকে না জানানোয় প্রতিদিন কেন্দ্রে ভিড় বাড়ছে। দিনশেষে টিকা না নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন তারা। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। স্বাস্থ্য বিভাগের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।

সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের পাটর গ্রামের দিনমজুর শেখ আসাদ বলেন, মজুরি বন্ধ রেখে সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে হাসপাতালে এসে টিকার জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। বেলা ১১টা পর্যন্ত টিকা প্রদান কক্ষ তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখতে পেয়ে খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারি টিকার মজুদ নাই। টিকা দেয়া হবে না।

বৃদ্ধ পিতাকে টিকার দেয়ার জন্য ইজিবাইকে করে হাসপাতালে নিয়ে এসে টিকা না পেয়ে দুপুরে ফিরে যাওয়ার সময় গোটাপাড়া এলাকার শ্যামল দাস বলেন, টিকা দেয়া হবে না বা মজুদ নাই এই তথ্যটি সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিলে ভোগান্তি হতো না। শত শত মানুষ কাজ বাদ দিয়ে টিকার লাইনে না দাঁড়িয়ে বাড়িতে গিয়ে কাজ করতো।

সদর উপজেলার গোবরদিয়া গ্রামের রমিচা বেগম বলেন, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে টিকার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। অথচ, কেউ এসে বলেনি তোমরা লাইনে দাঁড়িয়েছ কেনো? স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে তো বলতে পারতো টিকার মজুদ শেষ, আবার আসলে জানানো হবে। তা কেউ বলেনি। পরে অন্যরা চলে গেছে আমিও দুপুরের দিকে চলে এসেছি।

টিকা নিতে আসা আরো অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাগেরহাট হাসপাতাল চত্বরে সকাল থেকে টিকার জন্য নিবন্ধনকারীরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। অথচ টিকার মজুদ শেষ হয়েছে বিষয়টি কেউ এসে আমাদের জানায়নি। কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারনে শত শত মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।

বাগেরহাটে শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত স্কুল প্রাঙ্গণ, অভিভাবকরা স্বস্তিতে

বাগেরহাটের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সদর হাসপাতালের টিকাদান কেন্দ্রের মজুদ আগের দিন শেষ হয়েছে। পরবর্তীতে টিকা প্রাপ্তি সাপেক্ষে আবারো যথারীতি টিকা দেয়া শুরু হবে। আর নিবন্ধনকারীরা যাতে টিকা নিতে এসে ফিরে না যায় এজন্য আমরা মাইকিং করেছি। টিকাদান কেন্দ্রের সামনে টিকা শেষ লেখা সম্বলিত ব্যানার লাগিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলায় এ পর্যন্ত মোট দুই লাখ ৩৫ হাজার ৭৪৫ জন টিকা নিয়েছেন। এদের মধ্যে প্রথম ডোজ নিয়েছেন এক লাখ ৫৪ হাজার ২৫৬ জন এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন ৮১ হাজার ৪৮৯ জন।

স্বাআলো/এস