বিদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো সম্মানজনক নয়

সম্পাদকীয় ডেস্ক: পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বিদেশ গিয়ে ২৩ শতাংশ নারী শ্রমিক এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই দেশে ফিরেছেন, এক বছরের সামান্য বেশি সময় থেকেছেন ১৮ শতাংশ আর ৫৫ শতাংশ দেশে ফেরত আসা ছিলো জবরদস্তিমূলক।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজ (বিলস)-এর ‘দেশে ফিরে আসা অভিবাসী নারী শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিলস দেশের তিনটি জেলার ( যশোর, চট্টগ্রাম এবং ফরিদপুর) ৩২৩ জন প্রত্যাবাসী-অভিবাসী নারী শ্রমিকের ওপর জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

গবেষণায় দেখা যায়, দেশে ফেরত আসা নারী শ্রমিকের মধ্যে যেসব সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে সাত শতাংশ যৌন এবং ৩৮ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। বিদেশ ফেরত নারী শ্রমিকরা সামাজিকভাবেও হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন। পরিবার ও সমাজ তাদের সঙ্গে বৈরি এবং অমানবিক আচরণ করে।

৩৮ শতাংশ নারী শ্রমিক বলছেন, সমাজে তাদের নিম্ন শ্রেণির চরিত্রহীন নারী বলে গণ্য করা হয়। নারীরা মায়ের জাতি। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সর্বত্র নারীর মর্যাদা স্বীকৃত। কিন্তু আমাদের নারীদের বিদেশের মাটিতে যা ঘটছে তাতে এই সত্য কথাটি বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। কারণ তাদের নিয়ে প্রতিনিয়ত এ দেশে যা ঘটছে তা কোনো ক্রমেই সমর্থনযোগ্য নয়। নারীদের নিয়ে কোনো না কোনো খারাপ খবর প্রায়ই পত্রিকায় ছাপা হয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে যেনো কারো গাত্রদাহ নেই।

দখল বাণিজ্য রুখতেই হবে

এসব ঘটনার মধ্যে খুন, ধর্ষণ, নিপীড়ন, নির্যাতন উল্লেখযোগ্য। গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এক নারী সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে সৌদি আরব গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ধর্ষিত হয়ে মা হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেই সন্তানটিকে কোলে নিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন। এর চেয়ে অপমানকর ঘটনা ওই নারীর জীবনে কি ঘটবে? সমাজে তিনি কোন মুখ নিয়ে এসে দাঁড়াবেন? যে নারীরা ওই দেশে যাচ্ছে তারা যে বিত্ত বৈভবের মালিক হচ্ছে তাও নয়। এক নারী দুই বছরের বেশি সময় কাজ করলেও তার পরিবার মাত্র ১৬ হাজার টাকা পেয়েছে।

দালাল চক্রসহ অন্যরা আবিরনের বেতনের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এর চেয়ে শোষণ-নির্যাতন হতে পারে বলে আমাদের জানা নেই। শুধু তাই নয়, তাকে হত্যাও করা হয়েছে। স্বজনদের মুখে হাসি ফোটাতে নারীরা সৌদি যান। দুই বছর তিন মাস পর কফিনে মোড়া আবিরনের মরদেহ দেশে আসে। এভাবে কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে ফিরছেন বেশুমার।

এমন ঘটনা কিন্তু একটা-দুইটা নয়। নির্যাতনের খণ্ডচিত্র মাত্র। প্রতিনিয়ত এ ধরনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। অভাবগ্রস্ত সহজ সরল মানুষ একটি ভালো কাজের সন্ধান পেলে তাতে জড়িয়ে পড়ার জন্য প্রলুব্ধ হয়। আর হওয়াটাও স্বাভাবিক। কিন্তু এভাবে তারা জীবনের সব চেয়ে মূল্যবান সম্পদ সতীত্ব খুইয়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। আমরা মুখে নারী অধিকারের কথা বলে মঞ্চ মাতিয়ে তুলি। কিন্তু এই যে ব্যাপক সংখ্যক নারী সতীত্ব হারিয়ে সমাজে কুলটার অপবাদ নিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিচ্ছে তা নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কই।

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মীরা শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। অনেক নারী সেখানে কর্মরত অবস্থায় মারাও যাচ্ছে। ভিনদেশে নারী শ্রমিক পাঠানো দেশের জন্য সম্মানজনক নয়। সম্মানের চিন্তা করলে বিদেশে নারী পাঠানো বন্ধ করতে হবে।

স্বাআলো/এস