যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে দুই আসামির ফাঁসি কার্যকর

নিজস্ব প্রতিবেদক: চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় দুই বান্ধবীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের পর খুনের মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। সোমবার রাত ১০টা ৪৫ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে রশিতে ঝুঁলিয়ে তাদের মৃত্যু কার্যকর করা হয়।

রাতেই চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার রায়লক্ষীপুর গ্রামের মিন্টু ওরফে কালু ও একই গ্রামের আজিজ ওরফে আজিজুলের লাশ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রাত সাড়ে ১০টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আসেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কাজী সাইমুজ্জামান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জাহাঙ্গীর আলম। এর আগে রাত ৯টা ৫০ মিনিটে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করেন সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন। এর পরপরই আসেন যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আসিফ ইকবাল। আর ১০টা চার মিনিটে আসেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত জেল সুপার জাকির হোসেন।

ফাঁসি কার্যকর করতে জল্লাদের ভূমিকা পালন করে কেতু কামার, মশিয়ার রহমান, লিটু হোসেন ও আজিজুর রহমানসহ আটজন।

রাত ১১টা ৫৮ মিনিটে ফাঁসির রায় কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলগেটে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জেলার তুহিন কান্তি খান।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, ২০০৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর আজিজুল ওরফে আজিদ ওরফে আজিজ এবং মিন্টু ওরফে কালু আলমডাঙ্গার রায় রায়লক্ষীপুর গ্রামের কমেলা খাতুন ও তার বান্ধবী ফিঙ্গে বেগমকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় পরদিন চারজনের নামে মামলা করা হয়। হত্যার আগে তাদের দুজনকে ধর্ষণ করা হয়। গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধের পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলাকাটা হয় ওই দুই নারীকে।

দীর্ঘ সাক্ষ্য-প্রমাণ শেষে চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ আদালতের বিচারক ২০০৭ সালের ২৬ জুলাই আসামি আজিজুল, মিন্টু ওরফে কালু ও সুজনের মৃত্যুদ-ের আদেশ দেন। এরপর আসামিরা হাইকোর্টে আপিল করেন। পরে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানি শেষে হাইকোর্ট তা বহাল রাখেন। ২০১২ সালে ১১ নভেম্বর নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখার আদেশ দেন হাইকোর্ট। চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আজিজুল ও কালুর রায় বহাল রাখেন এবং অপর আসামি সুজনকে বেকসুর খালাস দেন। এ বছরের ২০ জুলাই যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান খালাসপ্রাপ্ত সুজন।

স্বাআলো/ডিএম

.