জনস্বার্থে এমন নির্দেশনা কার্যকর করা প্রয়োজন

সম্পাদকীয়: যদি কোনো চালক গাড়ি চালানোর সময় মোবাইলফোনে কথা বলেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চালককে আটক ও গাড়ি জব্দ করার জন্য বেশ কিছুদিন আগে ট্রাফিক বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার। চলন্ত গাড়িতে যদি চালক কথা বলেন, তাহলে ড্রাইভিংয়ে মনোযোগ থাকে না। মোবাইলে কথা বলার কারণে অনেক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ঢাকা শহরে অনেক পথচারীকে হেডফোন কিংবা মোবাইলফোন কানে ধরে রাস্তা পার হতে দেখা যায়। দেখা যায় বাচ্চা নিয়ে রোড ডিভাইডার পার হতে। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে হাত দিয়ে ইশারায় গাড়ি থামানোর সংকেত দেয়া হয় অহরহ। তারা জেব্রা ক্রসিং ব্যবহার করেন না। তাদের বিরুদ্ধেও এখন থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে। দুর্ঘটনায় প্রাণহানির জন্য শুধুমাত্র চালকদের দোষ দেয়া যাবে না।

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিলো ওই নির্দেশটি। কিন্তু সেই নিদের্শনার পর দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেছে। তবে কতটুকু কার্যকর হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। এমন নির্দেশ কার্যকর হওয়া এবং তা অব্যাহত থাকা জরুরী। আমরা নিয়মনীতি না মানার সংস্কৃতি লালন করছি যেন। যদি কোনো একটি অনিয়মের বিষয়ে ছাড় দেয়া হয় সেটি আমরা আর মানতে চাইনে। ভাবখানা এই যে অনিয়মটাই যেন নিয়ম। সড়কে এই অনিয়মটা বেশি। ব্যস্ত সড়কে গাড়ি চালাতে চালাতে চালক মোবাইলে দিব্বি খোশ গল্প জুড়ে দেয়। এ নিয়ে সচেতন যাত্রীরা আপত্তি তুললে ঠাই পান না। রূঢ় কথা শোনা ছাড়াও হেনস্তাও হতে হয় পরিবহণ শ্রমিকদের হাতে। শুধু ডিএমপি নির্দেশনা দিলে হবে না, সারা দেশে এমন নির্দেশনা দিয়ে তা কার্যকর করা হোক। যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হোক। মফস্বলের ছোট্ট জেলা শহরে ট্রাফিকের দৃষ্টির বাইরে দীর্ঘপথ নিয়ন্ত্রণহীনভাবে চালকরা গাড়ি চালায়। তাদের খামখেয়ালীপনা দেখার বা নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা আপাতত নেই। গাড়ি চালানো অবস্থায় মোইলে কথা বলা মফস্বলে অতিমাত্রায় চর্চা হচ্ছে। গাড়ির চালকরাতো মোবাইলে কথা বলছেই, পথচারীরাও মোবাইলে কথা বলতে বলতে রাস্তায় চলছে। এতে ঘা-গুথো কম খাচ্ছে না। কিন্তু চেতনার দুয়ারটা এমনভাবে রুদ্ধ হয়ে গেছে যে ওসব যেন কিছুই না। সব কিছুতেই একটা ড্যাম কেয়ার ভাব। আবার ইদানিং মোবাইল কানে দিয়ে ঘাড় কাত করে চেপে মোটরসাইকেল চালানো স্টাইলে পরিণত হয়েছে। কি খারাপ রাস্তা, কি ভালো রাস্তা, কি ব্যস্ত রাস্তা, কি ফাকা রাস্তা ঘাড় কাত করে মোবাইল চেপে কথা বলতে বলতে মোটরসাইকেল চালাতেই হবে। এই যথেচ্ছাচার বন্ধে অবশ্যই উদ্যোগ নিতে হবে। শৃঙ্খলার স্বার্থে কারো ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দকে প্রশ্রয় দেয়া সমীচিন নয়। যে আচরণ দৃষ্টিকটু, যার কারণে দুর্ঘটনা অনিবার্য হয়ে ওঠে সেসব বিষয়গুলো কঠোরহস্তে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে হবে। মফস্বলের রাস্তায় ট্রাফিক না থাকায় ভ্রাম্যমাণ ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করে এই বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে।

স্বাআলো/আরবিএ