যশোরে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের দাবি বাড়তি চাওয়া নয়

সম্পাদকীয় ডেস্ক: যশোর চির অবহেলিত ও চির বঞ্চিত। অথচ এই যশোর অত্যাধুনিক উন্নত হবার দাবিদার। যুগে যুগে কালে কালে এই যশোর সব দিকে থেকে প্রথম ছিলো। এই যশোর দেশের প্রথম জেলার স্বীকৃতিপ্রাপ্ত জেলা। এর আগে এই যশোরের রাজ্যের মর্যাদা ছিলো। দেশের প্রথম শত্রুমুক্ত জেলার গৌরবে গৌরাবান্বিত, তে-ভাগা আন্দোলন, নীল বিদ্রোহসহ গণমানুষের ন্যায্য অধিকার আদায়ে প্রতিটি সংগ্রামে বীরোচিত ভূমিকা আজো স্বর্ণাক্ষরে লিখিত রয়েছে। কিন্তু হলে কি হবে। এসব গৌরবের স্বীকৃতি দিতে মনে হয় কারো কারো কার্পণ্য রয়েছে। তা না হলে এই যশোরকে এমনভাবে অবহেলিত রাখার কারণ কি? কেন যশোরের উন্নয়নে কারো মাথা ব্যথা নেই? এ পর্যন্ত যৎসামান্য যা কিছু হয়েছে তার সবটাই আন্দোলন করেই করা হয়েছে। যশোরে মেডিকেল কলেজটিও (যমেক) আন্দোলনের ফসল। কিন্তু তা অসম্পূর্ণ বলতে হবে। মেডিকেল কলেজ হলে তার সাথে ৫০০ শয্যার হাসপাতাল থাকে। কিন্তু যশোরই একমাত্র ব্যতিক্রম। আর তাই এই দাবিতে যশোরবাসীকে আবারো পথে নামতে হয়েছে। ১০ অক্টোবর এ দাবিতে সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়নে একইসাথে যশোর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। যমেক হাসপাতাল বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ একাত্ম্যতা প্রকাশ করেন। মেডিকেল কলেজ চালু হওয়ার এক দশক পার হলেও ৫০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপন না হওয়ায় সমাবেশে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বক্তারা।

যশোরে কেন এমন সমস্য হবে? এখানে কি কৃতি সন্তানের অভাব, নাকি আমাদের চাওয়ার সমস্যা। কিছু চাইলেই আমরা পায় না। চাওয়া পূরণ করতে গেলেই কেন আন্দোলন করতে হবে? যশোরের প্রতিবেশী জেলা কুষ্টিয়া ও সাতক্ষীরাতে যশোরের পরে হয়েছে মেডিকেল কলেজ। অথচ সেখানে হাসপাতাল স্থাপন হয়েছে। যশোর কেন পিছিয়ে আছে তার জবাব কে দেবে।

হাসপাতাল না থাকেলে মেডিকেল কলেজ পূর্ণাঙ্গ হয় না। কারণ শিক্ষার্থীদের তত্ত্বীয় বিষয়ের পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাও অনিবার্য। আর এই শিক্ষার জন্য মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের কলেজ থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু এই হাসপাতালে পর্যাপ্ত সুবিধা না থাকায় শিক্ষার্থীরা অনেক ক্ষেত্রেই বিড়ম্বনায় পড়েন। সাধারণ মানুষও বঞ্চিত হন মেডিকেল কলেজের মতো পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা থেকে।

যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের যে দাবি তোলা হয়েছে তা মোটেও বাড়তি কোনো চাওয়া নয়। এই এলাকার সর্বস্তরের মানুষের হৃদয় উৎসারিত আকুতি। এ দাবির ব্যাপারে বরফ গলবে কি না তা সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষই জানে। যশোরের স্বার্থ রক্ষায় আর উদাসিনতা সমর্থনযোগ্য নয়। একটি পাখির দুটি ডানার একটি যদি ভেঙে দেয়া হয় তা হলে ওই পাখিটি আর উড়তে পারে না। তেমনি একটি দেশের কোনো অংশকে অবহেলিত রেখে উন্নয়নের কাক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে না।

স্বাআলো/এসএ