পেঁয়াজের দাম বাড়ালেই শাস্তি

সম্পাদকীয়: বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুদ আছে। সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। দেশে প্রায় পাঁচ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ মজুদ রয়েছে। ভারত ও মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) ৩০ টাকা কেজি দরে ট্রাক সেলের মাধ্যমে পেঁয়াজ বিক্রি অব্যাহত রেখেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন নতুন পেঁয়াজ বাজারে আসবে।কারো আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। অনৈতিকভাবে কেউ দাম বাড়ালে বা বাড়ানোর চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মন্ত্রী ১১ অক্টোবর সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ, সরবরাহ, আমদানি, মূল্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে আয়োজিত সভা শেষে ভার্চুয়ালি প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন।

দুঃখজনক হলেও সত্যি যে আমাদের সমাজের একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জনসাধারণের পকেট থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার সুযোগ সন্ধান করে। তারা যেন হা করে থাকা হাঙর। মানুষ যখন ঠেকে যায় তখন তারা সততা পদদলিত করে চেনে শুধু টাকা।

যশোরে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের দাবি বাড়তি চাওয়া নয়

যখন চাহিদা বাড়ে তখন মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যগুলোও চালিয়ে দেয়ার পায়তারা করে। আরো অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে তাদের এরূপ নগ্ন চিত্র দেখা যায়। কিছু দিন আগেও পেঁয়াজের ক্ষেত্রে তারা অসাধুতার পরিচয় দেয় বেশি। অতীতে দেখা গেছে পেঁয়াজ পঁচে গেছে, কিন্তু ন্যায্য দামে মানুষকে খেতে দেয়নি। প্রশ্ন জাগে যে, আসলে বাঙালিদের মধ্যে এরূপ প্রবণতা কেন যে, রাত বেশি হয়েছে, ভাড়া বেশি হবে-না দিলে যাবো না। ঈদের সময় যাত্রী বেশি তাই ভাড়া দ্বিগুণ দিতে হবে। বৃষ্টি নামছে ভাড়া দ্বিগুণ না যাবো না। রোজা আসলে তো কথাই নেই, পর্যাপ্ত মজুদ থাকা সত্ত্বেও দ্রব্যসামগ্রীর আকাশ ছোয়া দাম। বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে সরকারকে হিমশিম খেতে হয়। কোনো জিনিসের চাহিদা বাড়লেই তারা দাম বাড়িয়ে ফেলে যা সচারাচর নির্ধারিত মূল্যের ধারে কাছেও থাকে না।

যারা ব্যবসা করেন তারা অন্তত সংকটময় মুহূর্তে মানুষের জন্য কিছু করুন। দাম বৃদ্ধির এ প্রবণতা মোটেই কাম্য নয়। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যাতে সহনশীল পর্যায়ে থাকে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের খেয়াল রাখা দরকার।

স্বাআলো/আরবিএ