নিজের বাড়ির জন্য নিরাপত্তা চাই

সম্পাদকীয়: নিজের ঘর নিরাপত্তাহীন হয়ে উঠছে। বাড়িতে দৃর্বৃত্তদের হামলায় কেউ যে মারা যায় না তা নয়। কিন্তু নেত্রকোনা,গাজীপুর ও নড়াইলে সংঘটিত চারটি হত্যাকাণ্ড মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, ভয়-ভীতি, রোগ-শোক যার যত সমস্যাই থাকুক না কেন  নিজের বাড়িতে ফিরে সবাই  নিরাপত্তা বোধ করে ও শান্তি পায়। নেত্রকোনার মদনে শোবার ঘর থেকে এক দম্পতির রক্তাক্ত ও ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ১২ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে পুলিশ তিয়শ্রী  বালালী গ্রাম থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে। গাজীপুরে একটি বাড়িতে মালিক খুন হন। গত বছর  রাতে গাজীপুর মহানগরের একটি ছয় তলা বাড়িতে তিনি খুন হন। এর আগে নড়াইলে এক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নিজের বাড়িতে খুন হন।  নড়াইলে   বেসরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ওই শিক্ষক  গত বছর নড়াইল সদর উপজেলার বেনাহাটি গ্রামে নিজ বাড়িতে  খুন হন।

নিজের বাড়িতে যদি এভাবে মানুষ খুন হয় তাহলে যাবে কোথায়? স্বস্তিতে নিরাপদে দাঁড়ানোর জন্য নিজের বাড়িই তো  সর্বোত্তম স্থান। দিন বদলের হাওয়ায় কর্মসংস্থানের ব্যাপ্তি বাড়ায় মানুষ ছুঠছে দূর-দূরান্তে। দেখা যাচ্ছে অধিকাংশ পরিবারের বয়সীরা ছাড়া আর সবাই কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বাইরে থাকছে। নিজেদের বাড়ি ও সহায় সম্পদ রক্ষার জন্য প্রবীণ লোকটি একা থাকছেন বাড়িতে। আর তাদের একাকিত্বের সুযোগ নিয়ে দুর্বৃত্তরা সহজেই তাদের লক্ষ্য হাসিল করে যাচ্ছে। এ অবস্থার নিরসন না হলে একদিন দেখা যাবে দূরের কাজ ফেলে কর্মজীবীদের বাড়িতে এসে উঠতে হবে। এতে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা বাড়ায় সমাজের সমস্যা সৃষ্টি হবে।

পেঁয়াজের দাম বাড়ালেই শাস্তি

জানমালের নিরাপত্তা মানুষের সবচেয়ে বড় দাবি। সরকার এই নিরাপত্তা দিতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এজন্য আছে নির্দিষ্ট বাহিনী, আছে আইনের কড়াকড়ি ব্যবস্থা। তারপরও অপরাধগুলো ঘটেই যাচ্ছে। সমাজে স্বার্থান্ধ মানুষের সংখ্যা যেন দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। এ শ্রেণির মানুষ অবৈধভাবে সম্পদ ও আধিপত্য বিস্তারের কারণে মানুষ খুন করতে দ্বিধা করে না। সেই সাথে বাড়ছে উচ্ছৃঙ্খল তরুণদের সংখ্যা। তাদের আচরণের কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের টার্গেটে পড়তে হয় প্রতিবাদকারীদের। এদের কঠোর হস্তে দমন করা গেলে এ ধরনের অপরাধ কমে আসতে পারে।

স্বাআলো/আরবিএ