রংপুরে হিন্দুপাড়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা, আটক ২০

রংপুর ব্যুরো: এক হিন্দু কিশোর কর্তৃক ফেসবুকে পবিত্র কবা শরীফের অবমাননাকর ছবি পোস্টের ঘটনা রংপুরে পীরগঞ্জের রামনাথপুর ইউনিয়নের উত্তর করিমপুর কসবা মাঝিপাড়া গ্রামে বেশ কিছু হিন্দু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ২০ জনকে আটক করেছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের খাবার ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, ফেসবুকে পবিত্র কাবাঘর নিয়ে অবমাননাকর পোস্টটি দেয় রামনাথপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের প্রসেনজিত রায়ের পুত্র পরিতোষ রায়। ঘটনাটি পীরগঞ্জ থানায় জানিয়ে পরিতোষকে গ্রেফতারের দাবি করে স্থানীয়রা।

এ নিয়ে রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল থেকে উত্তেজনা চলছিলো ওই এলাকায়। থানা পুলিশ সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পৌর মেয়র, উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ পরিতোষের বাড়িতে অবস্থান নেয়। বিক্ষুব্ধ জনতাও ঘিরে ফেলে বাড়ি। এর আগেই স্বপরিবারে পালিয়ে যায় পরিতোষ। রাত ৯ টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত তার বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে করিমপুর-কসবা-মাঝিপাড়া এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে হামলা চালায়। বাড়ির সামনে এবং রাস্তার ধারের অনেক খড়ের পিলেও দেয়া হয় আগুন। ১৮টি ঘর ও একটি দোকানে দেয়া হয় আগুন। আগুনে পুড়ে যায় সুমতি রানীর গরু, প্রদীপ চন্দ্রের ভ্যানসহ থাকার ঘর। পুড়ে ছাই হয়ে যায় নিখিলের দোকান। অনেক বাড়িতে চালানো হয় ভাংচুর। লুটকরা হয় গরু, ঘরের আসবাবপত্রসহ মালামাল। আতংকে নারী ও পুরুষ অনেকেই আশ্রয় নেন পাশের ধানক্ষেতসহ বিভিন্ন জায়গায়। ভাংচুর করা হয় মন্দিরের প্রতিমাও।

ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সেখানে ফাকা গুলি ও রাবারবুলেট নিক্ষেপ করে পুলিশ। রাত ১ টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুরো ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সেখানে রাতভর উপস্থিত থাকেন জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তারা। মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত বিজিবি, র‌্যাব ও পুলিশ। আটক করা হয়েছে ২০ জনকে। উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সকালে খাবার বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন থেকে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য। এছাড়াও এঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

রংপুরের ১৮ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ১০১ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল

রংপুর পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার সরকার জানান, পরিতোষ সরকার নামের ১৫-১৬ বছরের ছেলে ফেসবুকে একটি অত্যন্ত বাজে স্ট্যাটাস পোস্ট দিয়েছিলো। সেই পোস্টটিকে কেন্দ্র করে সন্ধার পরপর অসংখ্য লোকজন উত্তেজিত হয়ে উঠে এবং পরিতোষের বাড়ি আক্রমণের জন্য সমবেত হতে থাকে। এই খবর পাওয়া মাত্রই ওসির নেতৃত্বে পুলিশ ফোর্স এবং ইউএনও এর নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসনের লোকজন সেখানে আসে। আমরা খবর পেয়ে আমরা ফোর্স পাঠিয়েছি এবং ডিসি সাহেব খবর পেয়ে ডিসি সাহেবসহ অন্যান্যরা এসেছেন। তখন আমরা সবাই মিলে পরিতোষের বাড়ির আশেপাশের পরিবেশ অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। মূল আক্রমণের স্থল পরিতোষের বাড়ি আমরা রক্ষা করতে পেরেছি। কিন্তু পরবর্তীতে পেছন দিক থেকে আমরা কিছু নাম পেয়েছি, প্রায় ২০ জনের মতো আটক করেছি। তারা এসে আশেপাশের দুরবর্তি যে গ্রামগুলো রয়েছে সেখানে বিনা উস্কানিতে কিছু মানুষের বাড়িঘরে হামলা চালায়, গবাদিপশু লুটপাট করেছে অগ্নিসংযোগ করেছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে। মন্দিরে প্রতিমাও ভাঙচুর করেছে। এটি পরিতোষের বাড়ি থেকে অনেক দূরে আধ-এক কিলোমিটার দূরে। এতে বোঝা যায় এটি একেবারেই সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এটা করেছে।

স্বাআলো/আরবিএ