চাকরি দেবার নামে প্রতারকচক্র থেকে সাবধান

সম্পাদকীয়: সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠানের ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে দুজনের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। ২৪ অক্টোবর যশোর সদর উপজেলার বড় বালিয়াডাঙ্গা গ্রামের খাইরুল ইসলাম ও রাজন ইসলাম এ মামলা করেছেন। আসামিরা হলো, যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়ার সৈয়দ শাজাহান আলী, ঢাকার মিরপুর পল্লবীর শিকদার সোহেল হাজারী ও খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার লালাহাটি বারাকপুরের সেলিম শরীফ।

আসামিরা সরকারি বিভিন্ন অফিস ও প্রতিষ্ঠানে চাকরি প্রদানকারী এজেন্ট বলে প্রচার করে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে ওই দুইজন অগ্রণী ব্যাংক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরে চাকরি জন্য ২০১৭ সালে ২০ লাখ টাকা দেন। তাদের দুজনের হাতে দুটি নিয়োগপত্র দেয় ওই প্রতারকরা। নিয়োগপত্র নিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটিতে যোগদান করতে গেলে তাদেরকে বলা হয় নিয়োগপত্র ভুয়া। পরে তাদের দেয়া টাকা ফেরত চাইলে না দিয়ে তালবাহনা করতে থাকে। গত ২১ অক্টোবর টাকা চাইলে তারা ফেরত দেবে না বলে জানিয়ে দেয়। এমনকি এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তারা তাকে খুন জখমের হুমকি দেয়।

ইউপি নির্বাচন: আলীগের সমর্থকদের সহিংসতা থামছে না

বর্তমান সরকারের আমলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনিয়মের বিষয়ে কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরোপ হচ্ছে। প্রতারকদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। নতুবা একদিন দেখা যাবে হতাশাগ্রস্ত মানুষের মিছিল লম্বা হতে হতে দেশের এ প্রান্ত থেকে ওপর প্রান্ত পর্যন্ত হয়ে গেছে। যা জাতির জন্য বড়ই ক্ষতিকর হবে।

অভিযোগ শোনা যায়, এসব প্রতারকদের নাকি সন্ত্রাসী বাহিনী আছে। যত ঝক্কি-ঝামেলা তারাই হুমকি দেখিয়ে এমন কি পেশিশক্তি প্রয়োগে করে মোকাবেলা করে। ফলে অনেকে তাদের সর্বস্ব শেষ করে প্রতারকদের হাতে তুলে দিয়ে পথের ফকির হলেও কিছুই করতে পারছে না। এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রিয় সহযোগিতা ছাড়া এ সব দুর্বৃত্তদের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় নেই। মাদক, সন্ত্রাস প্রভৃতি শক্তহাতে দমন করে সরকার যে প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, এই প্রতারকদের দমনেও সেইরূপ কঠোর ভূমিকা নিতে হবে। আমরা মনে করি এমন একটা পদক্ষেপ নিলে সাধারণ মানুষ অন্তত ঘরের টাকা পরের হাতে তুলে দিয়ে নিস্ব হবার হতে থেকে রেহাই পাবে। মানষের সর্বস্বান্ত হবার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য প্রতারকদের দমন সরকারের দায়িত্বও বটে।

স্বাআলো/আরবিএ