ইউপি নির্বাচন নিয়ে যে ৪ সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ

ঢাকা অফিস: ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য এক মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই নির্বাচনে একদিকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের বিপর্যয় ঘটেছে, অন্যদিকে সারাদেশে বিদ্রোহ ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে, এমনকি কেন্দ্রীয় নেতারাও এই নির্বাচন নিয়ে বিভক্ত। এরকম পরিস্থিতিতে আগামী ১৯ নভেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আর এই বৈঠকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে কিছু সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে।

ইউপি নির্বাচনে ফল বিপর্যয়: কঠোর অবস্থানে আ.লীগ সভাপতি

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সূত্রে জানা গেছে, সারাদেশে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সম্পর্কে সব রিপোর্টগুলো এখন আওয়ামী লীগ সভাপতির টেবিলে। তিনি তার নিজস্ব উদ্যোগে সারাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও সাংগঠনিক সম্পাদকদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত তিন ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য। যেটি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে আলোচনা হবে। আর এই বৈঠকে আওয়ামী লীগ একাধিক কঠোর এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যে সমস্ত সিদ্ধান্তগুলো আসতে পারে তার মধ্যে রয়েছে:

১. দলীয় প্রতীকে আর ইউপি নির্বাচন নয়:

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দলীয় প্রতীকে করা নিয়ে আওয়ামী লীগের মধ্যে এমনিতেই একটি বিভক্তি ছিলো। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা মনে করতো ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনটা দলীয় প্রতীকে করা সমীচীন হবে না। কারণ এতে বিভক্তি বাড়বে। কিন্তু আওয়ামী লীগের অনেকেই মনে করতো দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হলে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে। এই বিবেচনায় থেকে আওয়ামী লীগ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন। তিন দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেইরকম অবস্থাটি ঘটেনি বরং এটি আওয়ামী লীগের লাভের চেয়ে ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন। আর এই বিবেচনায় আওয়ামী লীগের মধ্যে আবার নতুন করে দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন না করার বিষয়টি সামনে এসেছে। সে রকম একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২. বহিষ্কার:

আওয়ামী লীগ সভাপতি এবার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে যারা নির্বাচন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে যাবে এবং তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার এবং আর কখনো তাদেরকে নৌকা প্রতীক দেয়া হবে না এই মর্মে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হতে পারে। ফলে আওয়ামী লীগ করে কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী এরকম প্রায় চার শতাধিক ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হতে পারেন। সেরকম একটি চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগ নিবে কিনা সে নিয়ে অবশ্য আওয়ামী লীগের মধ্যে সংশয় রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম একজন সদস্য বলেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি কঠোর অবস্থানে আছেন। কাজেই কোনো ভাবেই তিনি তার অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।

৩. তদন্ত কমিটি গঠন:

ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন, তাদেরকে যারা সমর্থন দিয়েছেন এবং যে সমস্ত নেতাকর্মীরা বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করেছেন তাদেরকে চিহ্নিত করার জন্য আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে। এই কমিটি খুঁজে বের করবে মন্ত্রী-এমপি, স্থানীয় নেতা, কেন্দ্রীয় নেতা কারা নেপথ্যে ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৪. দলে চেইন অফ কমান্ড ফিরিয়ে আনার জন্য আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্দেশনা:

এবার কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দলের চেইন অফ কমান্ড এর ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে এবং চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনার জন্য কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ সভাপতি বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত দিতে পারেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বলেই একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

স্বাআলো/এসএ