সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ প্রাপ্তির চিত্র হতাশাব্যঞ্জক

সম্পাদকীয়: অন্ন, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান এই পাঁচটি হলো মানুষের মৌলিক অধিকার। মানুষের এ অধিকারগুলো নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেশের সরকারের।জননন্দিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিচালিত সরকার মানুষেরে এসব অধিকার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানে সচেষ্ট। ১০ কেজির চাল, গৃহহীনদের বাড়ি প্রদান, বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, তৃণমূল পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা পৌছানোর জন্য দেশে ১৪ হাজার কম্যুনিটি ক্লিনিক স্থাপন ও ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান প্রভৃতি তারই দশ্যমান প্রমাণ। কিছু কিছু ক্ষেত্রে যে অনিয়ম ও দেখা যায় তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে ঘটে থাকে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে এমন একটি চিত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের গবেষণায় উঠে এসেছে। ইউনিটের মহাপরিচালক ড. শাহাদৎ হোসেন মাহমুদ উপস্থাপিত গবেষণায় বলা হয়, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মাত্র তিন শতাংশ রোগি ওষুধ এবং ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পান। অর্থাৎ সরকারি হাসপাতাল থেকে সেবাগ্রহণকারী অধিকাংশ রোগিকে ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয় এবং ডায়াগনস্টিক ল্যাব থেকে সেবাগ্রহণ করতে হয়। ফলে রোগির ব্যয় বেড়ে যায় এবং প্রায়ই রোগ আর্থিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হন।

প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার জন্য কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন প্রকার স্বাস্থ্যসেবায় উন্নতির ফলে সূচকে দেখা গেছে অভাবনীয় সাফল্য, মিলেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে দেশ পিছিয়ে রয়েছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশে রোগির নিজ পকেট থেকে ব্যয় ছিল ৬৪ ভাগ, যা ২০৩২ এর মধ্যে তা ৩২ ভাগে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবা অর্থায়ন কৌশল: ২০১২-২০৩২ প্রণয়ন করা হয়। কিন্তু ২০১৫ সালে এ খরচ বেড়ে দাঁড়ায় ৬৭ ভাগ। তাই বলা চলে, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা অর্জনে বাংলাদেশের প্রধান অন্তরায় হচ্ছে উচ্চ হারে রোগির পকেট থেকে ব্যয়।

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণের সময় এসেছে

রোগির নিজ পকেট থেকে ব্যয়ের প্রধান উৎস হলো ওষুধ খাতে ব্যয়, যা প্রায় ৬৪ ভাগ। হাসপাতালে আন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ থেকে সেবা নেয়ার মাধ্যমে যথাক্রমে ১২ ও ১১ ভাগ ব্যয় হয়। এছাড়া রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা খাতে ব্যয় হয় ৮ ভাগ। স্বীকৃত ডাক্তারদের পাশাপাশি পল্লী ও হাতুড়ে ডাক্তাররা ব্যবস্থাপত্রে অতিমাত্রায় ওষুধ লিখে থাকেন। যার কারণে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ওষুধ সেবন করা হয় এবং একজন রোগির ব্যয় বেড়ে যায়। এভাবে চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে অনেক মানুষ ভিটে-জমি হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা খাতের যোগানের দিক শক্তিশালী করার পাশাপাশি দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি (এসএসকে) সম্প্রসারণের মাধ্যমেও রোগির নিজ পকেট থেকে ব্যয় কমানো সম্ভব হতে পারে।

স্বাআলো/আরবিএ