দুর্নীতি বিরোধী নানা কথা

সম্পাদকীয়: দুর্নীতি এখন একটি জাতীয় ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নানের কথায় সেই কথাটিই প্রতিধ্বনিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, কেন্দ্রে থেকে ১০০ টাকা বরাদ্দ হলে তা ঠিকাদারের মাধ্যমে সাব-ঠিকাদারের হাতে যায়। সাব-ঠিকাদার আবার তার সাব-ঠিকাদারের হাতে দেয়। এভাবে নানা হাত বদলের মাধ্যমে ১০০ টাকা বরাদ্দ দিলে গ্রামে ১০ টাকা পৌঁছায়। তবে সরকার এই বলয় ভেঙে ফেলতে নানাভাবে কাজ করছে।

দুর্নীতি সমাজে অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি ও সুষম রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন ব্যাহত করছে। দুর্নীতিকে না বলে দুর্নীতিবাজদের সামাজিকভাবে বয়কটের মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে। আমাদের পূর্বপুরুষরা অনেক ত্যাগ ও কষ্টের বিনিময়ে আমাদের এই স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছেন। কিন্তু আজ এই দুর্নীতি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রবেশ করে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও চেতনাকে অবমাননা করছে।

আমরা সবাই যদি দুর্নীতির ক্ষতিকর বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারি তাহলে এই কাল ব্যাধি থেকে মুক্তি মিলতে পারে। বিষয়টি সাধারণ মানুষ বুঝলেও জাতির যারা কর্ণধর তারাই বিষয়টা বুঝতে চান না। সাধারণ মানুষ দুর্নীতি করে না। করার সুযোগও নেই। যারাই নীতি নির্ধারক, যাদের ওপর দেশ পরিচালনার দায়িত্ব অর্পণ করা হয় তারাই বেহায়ার মতো দুর্নীতি করে। কিন্তু কেন সুযোগ সন্ধানীরা এই দুর্নীতি করছে। এর অন্যতম কারণ হলো বাংলাদেশে দুর্নীতিবিরোধী আইনি ও নীতি কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও সেই চর্চা ও প্রয়োগ এখনো ঘাটতি রয়েছে। শুধু মুখে দুর্নীতি প্রতিরোধের কথা বলে দুর্নীতি হ্রাস করা যাবে ন্। দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কার্যকর প্রয়োগ করতে হবে। বিশেষ করে দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক দলগুলোর সুনির্দিষ্ট অঙ্গিকার এবং তা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা দিতে হবে।

সরকারি হাসপাতাল থেকে ওষুধ প্রাপ্তির চিত্র হতাশাব্যঞ্জক

দুর্নীতির কালো ছায়া জাতিকে এমনভাবে ঢেকে ফেলছে যে, আজ দেশের শীর্ষ ব্যক্তিরা তা নিয়ে বিস্তর চিন্তা ভাবনা করছেন। বিষয়টি এমন এক পর্যায়ে পৌছেছে যে, এই কালো ছায়া দূর করে মানুষকে আলোর পথে আনতে হলে রাজনৈতিক অঙ্গিকার প্রয়োজন। তাছাড়া এ অবস্থা থেকে বের হবার আর কোনো পথ খোলা আছে বলে আমরা মনে করিনে। নৈতিক শিক্ষার মাধ্যমে সৎ মানুষ তৈরি করলে দুর্নীতি বন্ধ হবে বলে যারা বলছেন তাদের বিরোধী আমরা নই। তবে এ কথা সত্যি যে, রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে শুধু নৈতিক শিক্ষায় কাজ হবে না। অনেক বিষয় আছে যেখানে আইনের কড়াকড়ি প্রয়োগ ছাড়া কোনো কিছুই বাস্তবায়ন হয় না। আজ যারা দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের কাছ থেকে কিন্তু এ দেশের মানুষকে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে চরিত্রগত সনদ নিতে হচ্ছে। অপরাধীদের হাতে এমন দায়িত্ব থাকার বিধান উঠিয়ে দিতে হবে। নতুবা দুর্নীতি চলতেই থাকবে বন্ধ হবে না।

স্বাআলো/আরবিএ