শহরের যানজট নিরসনে যৌক্তিক ব্যবস্থা চাই

সম্পাদকীয়: যশোর শহরটাকে স্বাচ্ছন্দ্য চলাচলের শহরে পরিণত করা সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে। সেই আগেকার দিনে দড়াটানা থেকে সিভিল কোট, চৌরাস্তা, সদর হাসপাতাল আর বকুলতলার মধ্যে শহরটা সীমাবদ্ধ নেই। এর ব্যাপ্তি আজ একটা বৃহৎ এলাকা জুড়ে। পরিসর বাড়ার সাথে সাথে শহরে লোক সমাগম বেড়েছে, বেড়েছে যানবাহনও।

এ অবস্থায় ট্রাফিক ব্যবস্থা যদি জোরদার করা না যায় তাহলে চলাচলের ক্ষেত্রে তো সমস্যা হবেই। কিন্তু সে দিকে কারো নজর আছে বলে মনে হয় না। যাদের ওপর দায়িত্ব তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সীমা নেই। তারা শহরে বে-আইনী যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে উদাসীন। আবার অবৈধ অর্থ উপার্জনে দশ হস্ত। যার ফলে আজ শহরে ট্র্রাফিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বেড়েছে ট্রাফিক হয়রানি চাঁদাবাজি ও দুর্ব্যবহার।

দুর্নীতি বিরোধী নানা কথা

শহরের ব্যস্ততম সড়কে লেগেই থাকে জানজট। অবৈধ ইজিবাইক, ব্যাটারি চালিত রিকশা ও নসিমন করিমনে ভরে গেছে শহর। রাতে নির্দিষ্ট সময়রে আগে শহরে প্রবেশ করছে ভারী যানবাহন। এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড দেখার কেউ নেই। আসলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আন্তরিক হলেই যানজট নিরসন কোনো কঠিন কাজ নয়। আমরা লক্ষ্য করেছি যানজট সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো ট্রাফিক আইন মেনে না চলা। আজ ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইকের ওপর যে দোষ চাপানো তা কোনো ক্রমেই যুক্তি নির্ভর কথা নয়। শহরে এগুলো চলাচলের আধিক্য আছে ঠিকই, তাই বলে একটি বাইক অথবা রিকশাও যাত্রী না নিয়ে কি খালি ঘুরে বেড়ায়। যদি যাত্রী নিয়ে চলাচল করে তাহলে বুঝতে হবে মানুষের প্রয়োজনের তাগিদে এগুলো চলছে। শহরে যানজট যেমন সমস্যা তেমনি যদি যানবাহন সংকট হয় তাহলে সেটা একটা সমস্যা হবে। ইতোপূর্বেও এই যানজট নিয়ে কথা উঠেছে। শহরের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট মণিহার মোড়ে যানজট কাটাতে যখন সিভিল প্রশাসন ব্যর্থ হয় তখন সেনাবাহিনী মাত্র আধা ঘন্টার ব্যবধানে সেখানকার যানজট নিরসন করেছিলো। এটা করতে কি সেনাবাহিনী জাদুর মন্ত্র দিয়েছিলো? সেনাবাহিনী সেখানে গিয়ে শুধু বলে এসেছিলো প্রতিটি যানবাহনকে লাইনে চলতে হবে। যে লাইন ভাঙবে তাকে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এ কথা বলার আধা ঘন্টার মধ্যে সেখানকার যানজট কেটে গিয়েছিলো। সাবেক এক পুলিশ সুপার কোনো এক সোমবার দুপুরে বলেছিলেন, বুধবারের মধ্যে গাড়িখানার ট্যাক্সি স্ট্যান্ড তুলে নিতে হবে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে বুধবার পর্যন্ত যেতে হয়নি। ওই দিন সন্ধ্যার মধ্যে ট্রাক্সি স্ট্যান্ড উঠে গিয়েছিলো। বিষয়টি পর্যালোচনায় বোঝা যায়, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সুপারের আদেশের মধ্যে আন্তরিকতা ছিলো শতভাগ। মানুষের প্রয়োজনে ইজিবাইক, রিকশা প্রভৃতি চলে। কেউ রুটি-রুজির প্রয়োজনে চালায়। আবার কেউ জরুরি প্রয়োজনে তাতে চড়ে।

মায়ের মাজার কোথায় আর কানছি কোথায় এর মতো চিন্তা-চেতনাহীন পদক্ষেপ নেয়া হলে সমস্যা বাড়বে বৈ কমবে না।

স্বাআলো/এস