কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিদ্রোহীদের কাছে নৌকার হার, নেপথ্যে ৩ কারণ

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া: তৃতীয় ধাপে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় বিদ্রোহীদের কাছে নৌকার হার হয়েছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জয়ী হয়েছেন মাত্র ৪টিতে। আর ১০টিতেই জয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী।

রবিবার (২৮ নভেম্বর) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ভোট গণনা শেষে রাতে এ ফলাফল পাওয়া গেছে।

এমন ভরাডুবির নেপথ্যে ৩টি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রথমত, মনোনয়নে ত্রুটি, সব ইউনিয়নে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী এবং আওয়ামী লীগে দ্বিধা বিভক্তি।

মণিরামপুরে ৯ নৌকা, ৫ বিদ্রোহী ও ২ স্বতন্ত্র প্রার্থীর জয়

ইউপি নির্বাচনে প্রতীকের বিষয়টিও আত্মঘাতি মনে করছেন কেউ কেউ। জামায়াত-বিএনপি প্রার্থী না দেয়ায় তাদের ভোট পড়েছে বিদ্রোহী প্রার্থীদের ঝুলিতে। আর সেকারণে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নৌকার ভরাডুবি ঘটেছে।

এবিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও দৌলতপুর আসনের সংসদ সদস্য আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশা মনে করেন, ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রতীকে নির্বাচন করায় এমনটি হয়েছে। তাছাড়া মনোনয়নেও কিছুটা সমস্যা ছিলো। বেশ কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিলো। তাছাড়া আওয়ামী লীগে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় এমন ফলাফল হয়েছে। আওয়ামী লীগের একক প্রার্থী থাকলে অর্থাৎ বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে সব ইউনিয়নেই নৌকার প্রার্থী জয়লাভ করতো। যেমনটি গত নির্বাচনে ঘটেছিলো।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র এক নেতা মনে করেন, দৌলতপুরে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থান খুবই দুর্বল মনে হয়েছে। আওয়ামী লীগের ১৪ প্রার্থীর বিপরীতে আওয়ামী লীগেরই বিদ্রোহী প্রার্থী ২৩ জন। তাদেরকে কোনোভাবেই বসানো সম্ভব হয়নি। তাছাড়া অনেক প্রার্থীই নানা অপকর্মে বিতর্কিত হয়েছেন। নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটাররাও নাখোশ ছিলেন তাদের ওপর। তবে ওই নেতা মনে করেন এখনো সময় আছে দৌলতপুর আওয়ামী লীগকে রক্ষা করতে হলে অবশ্যই সঠিক পদক্ষেপ নেয়া।

স্বাআলো/এসএ