খালেদার সবশেষ অবস্থা নিয়ে যা বললেন চিকিৎসক

ঢাকা অফিস: বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ‘লিভার সিরোসিস’ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। তিনি ‘মৃত্যু ঝুঁকিতে’ আছেন বলে জানিয়েছেন তার মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসক ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

রবিবার (২৮ নভেম্বর) রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

খালেদা জিয়ার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের পক্ষ থেকে বোর্ডের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. ফখরুদ্দিন মো. সিদ্দিকী (এএফএম সিদ্দিকী) বলেন, ম্যাডামের সিরোসিস অব লিভার (লিভার সিরোসিস)। ওনার ম্যাসিভ রক্তক্ষরণ হয়েছে। এখন ম্যাডামের গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্লিডিংটা হয়নি। এখন স্ট্যাবল আছেন। কিন্তু আমরা আগেও বলেছি, এখনো বলছি—এই যে স্ট্যাবল আছেন, এটা কিন্তু বিশ্বের বেস্ট সেন্টারগুলোতে এই ধরনের রোগীর ওপর প্রচুর ডাটা আছে; এ ধরনের রোগীর ম্যানেজমেন্ট যদি ফেইলিওর হয় পরবর্তী স্টেপ কী এবং তাদের কীভাবে লাইফ সেভিং করা যায়।

এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ম্যাডামের এখন যদি ‘টিপস’ মেথড অ্যাপ্লাই করা না হয় তাহলে আগামীতে আবার রি-ব্লিডিং হওয়ার আশঙ্কা আছে। এটা পরের সপ্তাহে ৫০%, পরের ৬ সাপ্তাহে ৬০% এবং তারপরেও যদি যায়, আল্লাহ না করুক এটা অভিয়াস ব্যাপার ঘটতে যাচ্ছে। এটা বলার উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমরা যা করছি, আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টায়। এখন আমরা কিন্তু হেলপলেস ফিল করছি। এখন এরকম একটা অবস্থার মধ্যে দিয়ে তিনি যাচ্ছেন।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে উন্নত সেন্টারে নিয়ে চিকিৎসার কথা আপনারা বলছেন, তা করা হলে কী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে এভার কেয়ার হাসপাতালের মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসক বলেন, আশঙ্কা করছি ওনার যদি রি-ব্লিডিং হয় তাহলে রি-ব্লিডিংটাকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং সেটাকে বন্ধ করার মতো সাপোর্টিভ টেকনোলজি আমাদের এখানে নেই। সে ক্ষেত্রে ওনার ব্লিডিং (রক্তক্ষরণ) হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যাবে।

খালেদা জিয়ার ‘লিভার সিরোসিস’ শনাক্ত

‘টিপস’ পদ্ধতি কোন দেশের চিকিৎসা কেন্দ্রে হয় জানতে চাইলে অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, টিপস হাইলি টেকনিক্যাল কাজ। আমাদের দেশে টিপস করা রোগী আমি দেখিনি। যারা আমরা রোগী ডিল করি তাদের দ্বিতীয়বার তৃতীয়বার রক্তক্ষরণ হলে সারভাইভ করা খুবই ডিফিকাল্ট। এই সেন্টারগুলো আমেরিকা ও ইউরোপ বেসড। ইউএসএ, ইউকে ও জার্মানি। সেখানে এসব রোগের চিকিৎসার জন্য অ্যাডভান্স সেন্টার আছে। তারা এর চিকিৎসা করে। সেখানেও দেশব্যাপী এই রোগের সেন্টার নেই, দুই-একটা আছে।

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, আমরা ম্যাডামের যারা ক্লোজড রিলেটিভ তাদের জানিয়েছি, যারা ওনার সঙ্গে আছেন তাদের জানিয়েছি। আমরা ওনাদের বলেছি, যত দ্রুত পারেন অ্যারেঞ্জ করেন, সেটা আমরা বলেছি।

বাইরে থেকে চিকিৎসক ও চিকিৎসা পদ্ধতি ঢাকায় এনে করা সম্ভব কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আপনি যদি বুঝে থাকেন যে, টিপস টেকনোলজিটা, আপনি ইমাজিন করেন এটা ইউকের কিংস কলেজে। যদি যুক্তরাজ্যের অন্য হাসপাতালে কোনো রোগী এরকম হয়, ওরাই তাকে হেলিকপ্টারে ওই হাসপাতালে পাঠায়। হাইলি সিলেকটিভ। এভাবে একজন রোগীর জন্য একটা হাসপাতালকে ঢাকায় নিয়ে আসা সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে মেডিকেল বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক একিউএম মহসিন, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক নুরউদ্দিন, অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ডা. আল মামুন উপস্থিত ছিলেন।

স্বাআলো/আরবিএ