যুবকদের প্রতি মহানবী (সা.)-এর উপদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট: সর্বদা আল্লাহর ওপর ভরসা করো: আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, একদিন তিনি বাহনে রাসুল (সা.)-এর পেছনে ছিলেন। তখন রাসুল (সা.) তাঁকে বলেছেন, ‘হে তরুণ, আমি কিছু কথা শেখাব। তুমি আল্লাহর নির্দেশ সংরক্ষণ করবে। তোমাকেও তিনি সংরক্ষণ করবেন। তুমি আল্লাহর নির্দেশনা পালন করবে, তুমি তাঁকে তোমার সামনে পাবে। কোনো কিছু চাইলে আল্লাহর কাছে চাও। কারো কাছে সাহায্য চাইতে হলে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাও। জেনে রাখো, পুরো জাতি তোমার উপকার করতে চাইলেও আল্লাহ যতটুকু তোমার জন্য লিখে রেখেছেন ততটুকু হবে। তারা তোমার ক্ষতি করতে চাইলেও আল্লাহ যতটুকু তোমার জন্য লিখে রেখেছেন ততটুকু হবে। (কারণ তাকদিরের) কলম তুলে নেওয়া হয়েছে এবং পৃষ্ঠাগুলো শুকিয়ে গেছে।’ (তিরমিজি, হাদিস: ২৫১৬)

যৌবনে আল্লাহর ইবাদত করো: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আল্লাহ তাআলা সাত ধরনের ব্যক্তিকে আরশের ছায়া দেবেন, যেদিন তার (আরশের) ছায়া ব্যতীত আর কোনো ছায়া থাকবে না। ন্যায়পরায়ণ শাসক। এমন যুবক যে রবের ইবাদতে গড়ে উঠেছে ।…’ (বুখারি, হাদিস : ১৪২৩)

বিয়ের প্রতি উৎসাহ প্রদান: আলকামা (রহ.) বর্ণনা করেছেন, আমি আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। এ সময় উসমান (রা.)-এর সঙ্গে দেখা হয়। তিনি বলেন, হে আবু আবদুর রহমান, আপনার সঙ্গে আমার কথা আছে। তারা পৃথক হয়ে কথা বলেন। উসমান (রা.) বলেন, আবু আব্দুর রহমান, আমরা তোমাকে পুনরায় বিয়ে দিতে চাই, তোমার কী মত? এতে তোমার আগের কথা মনে পড়বে। অতঃপর তিনি বলেন, রাসুল (সা.) আমাদের বলেছিলেন, হে যুবক সম্প্রদায়, তোমাদের কেউ সামর্থ্যবান হলে সে যেন বিয়ে করে। তা দৃষ্টি রক্ষা করবে এবং লজ্জাস্থান রক্ষা করবে। আর কেউ তা না পারলে সে যেন রোজা রাখে। কারণ তা তাকে নিয়ন্ত্রণ করবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০৬৫)

আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করো: মালিক বিন আল হুওয়াইরিস (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, আমরা রাসুল (সা.)-এর কাছে আসি। আমরা সমবয়সী কয়েকজন যুবক ছিলাম। মহানবী (সা.)-এর কাছে আমরা প্রায় ২০ দিন পর্যন্ত অবস্থান করি। রাসুল (সা.) ছিলেন অত্যন্ত দয়ালু ও স্নেহপরায়ণ। তিনি ভাবলেন যে আমরা হয়তো পরিবারের সাক্ষাৎ করতে চাইছি। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আমাদের কে কে আত্মীয়-স্বজন রেখে এসেছে? আমরা তাঁকে বললাম। অতঃপর তিনি বলেন, ‘তোমরা পরিবারের কাছে ফিরে যাও। তোমাদের পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাও। তাদের শিক্ষা দাও। আল্লাহর আদেশ-নিষেধ জানাও। আর নামাজের সময় যেন তোমাদের একজন আজান দেয়। অতঃপর তোমাদের কোনো প্রবীণ ব্যক্তি যেন তোমাদের ইমাম হন।’ (বুখারি, হাদিস : ৬৩১)

দোয়া পাঠের পরামর্শ: মুআজ (রা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) আমাকে বলেছেন, ‘হে মুআজ, আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালোবাসি। আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ অতঃপর তিনি বলেছেন, ‘হে মুআজ, আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি, তুমি প্রত্যেক নামাজের পর কখনো এই দোয়া পড়া ছাড়বে না : আল্লাহুম্মা আইন্নি আলা জিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনি ইবাদিকা।’ অর্থ : হে আল্লাহ, আমাকে সহযোগিতা করুন, যেন আমি আপনাকে স্মরণ করি, কৃতজ্ঞতা জানাই ও আপনার ইবাদত সুন্দরভাবে করি। (আবু দাউদ, হাদিস : ১৫২২)

মেধাবীদের জ্ঞানার্জনে উৎসাহ: জায়েদ বিন সাবিত (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুল (সা.) মদিনা আগমন করলে আমার বাবা আমাকে নিয়ে তাঁর কাছে যান। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসুল, এ কিশোর বনু নাজ্জার গোত্রের সন্তান। ইতিমধ্যে সে আপনার ওপর মহান আল্লাহর অবতীর্ণ কোরআনের প্রায় ১০টি সুরা সে মুখস্থ করেছে। এ কথা শুনে রাসুল (সা.) খুবই মুগ্ধ হলেন। তিনি বলেন, ‘হে জায়েদ, তুমি আমার জন্য ইহুদিদের কিতাব শিখে নাও। আল্লাহর শপথ, আমি নিজের কিতাবের ব্যাপারে ইহুদিদের নিরাপদ মনে করি না। জায়েদ (রা.) বলেন, অতঃপর আমি তাদের কিতাব শিখতে শুরু করি। মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই আমি তাতে ব্যুৎপত্তি অর্জন করি। আমি রাসুল (সা.)-কে তাদের পাঠানো চিঠিপত্র পড়ে শোনাতাম। তাঁর পক্ষ থেকে চিঠির উত্তর দেওয়া হতো। (বুখারি, হাদিস: ৭১৯৫)

জীবন সুন্দর করার পরামর্শ: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘হে আবু হুরায়রা, আল্লাহভীরু হও অর্থাৎ সন্দেহযুক্ত বিষয় পরিহার করো, তুমি মানুষের মধ্যে সবচেয়ে ইবাদতগুজার হিসেবে গণ্য হবে। আল্লাহ প্রদত্ত রিজিকে সন্তুষ্ট হও, সবচেয়ে ধনী হবে। তুমি নিজের জন্য ও পরিবারের জন্য যা পছন্দ করো তা অন্য মুসলিম ও মুমিনের জন্য পছন্দ করো। নিজের জন্য যা অপছন্দ করো তা অন্যের জন্য অপছন্দ করো। তাহলে তুমি পরিপূর্ণ মুমিন বলে গণ্য হবে। পড়শীর সঙ্গে সুন্দরভাবে থাকো, তুমি পরিপূর্ণ মুসলিম বলে গণ্য হবে। বেশি হাসা পরিহার করো। কারণ বেশি হাসা অন্তর মৃত হওয়ার মতো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩০৫)

স্বাআলো/আরবিএ