ওমিক্রন ঠেকাতে ১৫ দফা নির্দেশনা অনসরণ করতে হবে

সম্পাদকীয়: দেশে গত এক সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ প্রায় সাত শতাংশ বেড়েছে। তবে মৃত্যু কিছুটা কমেছে। সংক্রমণ ও মৃত্যুর এই পরিস্থিতিতে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’। ‘ওমিক্রন’ ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ ঠেকাতে সব ধরনের জনসমাগম নিরুৎসাহিত করাসহ ১৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

এখন পর্যন্ত ১৩টি দেশে করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’র সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী জোহানেসবার্গ নিয়ে গঠিত দেশটির একটি প্রদেশে আরটি-পিসিআর পরীক্ষায় পাওয়া নমুনায় দেখা গেছে, এ সপ্তাহের মাঝামাঝি দক্ষিণ আফ্রিকায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে এক হাজার ১০০ জনের, যাদের মধ্যে ৯০ শতাংশ ‘ওমিক্রন’ ধরনে আক্রান্ত।

এছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার সীমান্তসংলগ্ন দেশ বতসোয়ানায় ১৯ জনের, যুক্তরাজ্যে তিনজনের শরীরে করোনার ওমিক্রন ধরন শনাক্ত হয়েছে।

বিভিন্ন দেশে করোনার দক্ষিণ আফ্রিকান ধরন ‘ওমিক্রন’র সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ায় অধিকতর সতর্কতার অংশ হিসেবে ১৫ দফা নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।

এর মধ্যে রয়েছে জনসমাগম বন্ধ করা, মাস্ক ব্যবহার, রেস্তোরাঁয় বসে খাওয়ার ব্যবস্থা ধারণক্ষমতার অর্ধেক করা, গণপরিবহনে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত  করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান  ও কোচিং সেন্টারে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা।

প্রচলিত কথায় আছে ‘সোজা আঙুলে ঘি ওঠে না’। জাতি হিসেবে আমাদের চরিত্রটাই যেন তেমন। নিজের ভালো পাগলে বুঝলেও এ জাতি বুঝতে চায় না। বিশ্বজুড়ে করোনার ‘ওমিক্রন’ নতুন করে কাপন সৃষ্টি করেছে। এ অবস্থায় যখন কেউ  করোনা প্রতিরোধ বিধি-নিষেধ মানছে না তখন স্বাস্থ্য অধিদফতর  মাস্ক ব্যবহারসহ কিছু নিয়ম-কানন পলনের নির্দেশনা দিয়েছে। আমরা এ নির্দেশনাকে স্বাগত জানাই।

করেনাভাইরাস যে মহামারী তাতে আর কোন সন্দেহ নেই কারো। এর ভয়াবহতা নতুন করে ব্যাখ্যা করারও প্রয়োজন নেই। গত এক বছর ধরে সারা বিশ্ব চষে বেড়িয়েছে এই করোনাভাইরাস। হালে আগ্রাসন কিছুটা কম হলেও নতুন ভেরিয়েন্ট উঁকি দিচ্ছে। তাই বিশেষজ্ঞরা আগেভাগে সতর্ক করছেন। ইতোমধ্যে আফ্রিকায় ওমিক্রন বিস্তার লাভ  করেছে।

নিয়মের মধ্যে না থাকলে শিশুরা বিশৃঙ্খল হয়

আশার কথা হলো আমাদের দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও  মৃত্যুহার কমেছে। তাই বলে অসতর্ক থাকা যাবে না। কেননা যখন একটি দুর্যোগ জাতির ঘাড়ে চাপে তখন সেটি দিনক্ষণ দিয়ে চাপে না। যদি  প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো পালন করা যায়  তাহলে দুর্যোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

যদি সবাই নির্দেশনা অনুসরণ করে তাহলে অটোমেটেকলি এটা থেকে রিলিফ পাওয়া যাবে। ওমিক্রন প্রতিরোধের করণীয় বিষয়ে সর্বপ্রথম গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে এবং তাদেরকে করণীয় বিষয়ের সাথে অংশ গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাআলো/আরবিএ