আবরার হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট পরিবার, দ্রুত কার্যকরের দাবি

জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া: বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন তার পরিবার ও প্রতিবেশীরা। অতিদ্রুত এই রায় কার্যকর করার দাবি তাদের। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা অমিত সাহাসহ বাকি পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বললেন আবরারের মা রোকেয়া খাতুন।

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যা মামলার রায়ে তার মা রোকেয়া খাতুন সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেছেন, মামলার যাবজ্জীবন কারাদন্ডাদেশ প্রাপ্তদেরও ফাঁসির আওতায় আনতে হবে তা না হলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবো।

তিনি আরো বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম আসামি অমিতের ফাঁসির রায় আশা করেছিলাম কেনোনা অমিত ঘটনাস্থলে না থাকলেও ফোনে এবং সব কিছুতেই তার সম্পৃৃক্ততা ছিলো।

আবরার হত্যায় ২০ আসামির ফাঁসি, ৫ জনের যাবজ্জীবন

বুধবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টা ১২ মিনিটে আবরারের মামলার রায় ঘোষণার মুহুর্তে আবরারের মা ছিলেন কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোডস্থ বাসায়। মামলার রায় শুনতে ১২টার দিকে তিনি টিভির রুমে প্রবেশ করেন এসময় তিনি সাংবাদিকদের উপস্থিতি দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

তিনি বলেন, আজ আমার বাড়িতে অনেক মানুষ এসেছে, দেখে মনে হচ্ছে আবরার বিয়ের লোকজন এসেছে। আমি আমার ছেলের সুন্নতে খাৎনায় কোনো অনুষ্ঠান করেনি আমার বড় আশা ছিলো খুব ধুমধাম করে আবরার বিয়ে দিবো। ওরা আমার সব আশা ভরসা শেষ করে দিয়েছে।

তিনি আহাজারি করে বলেন, আজ আবরার ফাহাদের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজের পরীক্ষা ছিলো কেউ ফোন দিয়ে জিজ্ঞাসা করেনি কিন্তু আবরার বেঁচে থাকলে ঠিকই ফাইয়াজের পরীক্ষার খবর নিতো। আমি আজ দুই বছর দুই মাস এই মামলার রায়ের অপেক্ষায় ছিলাম। ১২টা ১২মিনিট টিভির পর্দায় আবরারের রায় ঘোষণা দেখতে পেয়ে তিনি কান্না শুরু করেন, তিনি সাংবাদিকদের জানান, আদালত যে রায় দিয়েছে তাতে আমি এবং আমার পরিবার সন্তুষ্ট তবে বাকি পাঁচজনকে ফাঁসির আদেশ না দেয়ার বিষয়টি আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না। তিনি দ্রুত এই ফাঁসির রায় কার্যকরের পাশাপাশি বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাবেন বলে জানান।

আবরারের সকল হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড চান মা

এসময় আবরারের ছোট ভাই ফাইয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা রায়ে খুশি তবে সকলের ফাঁসির আদেশ হলে আমরা আরো খুশি হতাম। ফাইয়াজ বলেন, আমরা বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো। এসময় তাদের পাশে ছিলো আবরারের কাকা, মামা, চাচী, মামী, খালতো ভাইসহ বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

আলোচিত আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার রায়ে খুশি এলাকাবাসীরাও। অতিদ্রুত এই রায় কার্যকর করার দাবি তাদের।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর দিনগত রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করেন। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরের দিন ৭ অক্টোবর চকবাজার থানায় একটি হত্যা মামলা করেন আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ।

বুধবার দুপর ১২টার কিছুক্ষণ পর বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার হত্যা মামলার রায়ে ২০জনকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয় আদালত।

স্বাআলো/এস

.