মদ বেচে কেরুর আয় ১৯৫ কোটি টাকা, চাহিদা বেশি ঢাকা ও শ্রীমঙ্গলে

মফিজ জোয়ার্দার, চুয়াডাঙ্গা: দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের চাহিদা বেড়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এই তিন মাসে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের বিক্রি প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

চলতি বছরের ২ জুলাই থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বেসরকারি কূটনৈতিক বন্ডেড ওয়্যারহাউজগুলোর মধ্যে শুল্কমুক্ত আমদানি সুবিধার অপব্যবহার রোধে তৈরি একটি সফটওয়্যার ব্যবহার নিয়ে রেষারেষির কারণে কমে গেছে বিদেশি মদের সরবরাহ। ফলে দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদিত মদের চাহিদা বেড়েছে।

কারখানা সূত্র জানায়, অন্যান্য বছর প্রতি মাসে কেরু কোম্পানির উৎপাদিত মদ সাড়ে ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার কেস বিক্রি হতো। কিন্তু চলতি বছরের অক্টোবর মাসে এ সংখ্যা বেড়ে ১৮ হাজার ৫৭৯ কেস এবং নভেম্বর মাসে ১৯ হাজার ৪৪৬ কেস বিক্রি হয়েছে। ডিসেম্বরে ২০ হাজার কেস বিক্রি হবে বলে আশা করছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। একটি কেসে ৭৫০ মিলিলিটারের ১২টি বোতল, ৪৬৫ মিলিলিটারের ২৪টি বোতল এবং ১৮০ মিলিলিটারের ৪৮টি মদের বোতল থাকে।

জানতে চাইলে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মদের চাহিদা বেড়েছে। সারাদেশে ১৩টি ওয়্যারহাউজ ও তিনটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে এরই মধ্যে বাড়তি অর্ডার পেয়েছি। বিশেষ করে ঢাকা এবং শ্রীমঙ্গল ওয়্যারহাউজে চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এছাড়া দেশের দুই পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় দুটি নতুন বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মাড়াই করা আখ থেকে উপজাত হিসেবে অ্যালকোহল উৎপাদনের জন্য ডিস্টিলারি প্ল্যান্টে উৎপাদন বাড়ানো হয়েছে। ডিস্টিলারি ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে কেরুর কোম্পানির আয়ের অন্যতম উৎস। দীর্ঘদিন ধরে চিনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে কোম্পানিকে মোটা অংকের লোকসান গুনতে হয়। তবে মোটা অংকের লাভ হয় কেরুর উৎপাদিত মদ বিক্রি করে। ফলে চিনি উৎপাদনের ক্ষেত্রে যে টাকা লোকসান হয় মদ বিক্রির লাভের টাকায় ওই লোকসান পুষিয়ে যায়।

কারখানা সূত্র জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে শুধু মদ বিক্রি করেই ১৯৫ কোটি টাকা আয় করেছে কেরু কোম্পানি। কোম্পানিটির প্রধান পণ্য হচ্ছে চিনি। তবে আখ থেকে চিনি আহরণের পর উপজাত হিসেবে বিভিন্ন পণ্য তৈরি করা হয়। এসব উপজাতের মধ্যে রয়েছে- দেশি মদ, বিদেশি মদ, ভিনেগার, স্পিরিট ও জৈব সার। এছাড়া কোম্পানি কান্ট্রি স্পিরিট, রেক্টিফায়েড স্পিরিট, ডিনেচারড স্পিরিট, মল্টেড ভিনেগার ও হোয়াইট ভিনেগার নামে দুই ধরনের ভিনেগার উৎপাদন করে থাকে।

কেরুর নয়টি ব্র্যান্ডের বিদেশি মদ রয়েছে। এগুলো হলো- ইয়েলো লেভেল মল্টেড হুইস্কি, গোল্ড রিবন জিন, ফাইন ব্র্যান্ডি, শেরি ব্র্যান্ডি, ইম্পেরিয়াল হুইস্কি, সারিনা ভদকা, রোসা রাম ও ওল্ড রাম।

ম্যানুয়াল সিস্টেম ব্যবহার না করে অটোমেশনের মাধ্যমে মদের উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে প্রকল্পটি প্রক্রিয়াধীন। এটি বাস্তবায়ন হলে উৎপাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ হবে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের।

এদিকে শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) দর্শনা চিনিকলে নতুন অর্থবছরে আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ঘোষণা দেন, কেরু অ্যান্ড কোম্পানির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে আরেকটি ইউনিট করা হবে।

স্বাআলো/এসএ

.