অবশেষে মুক্তি পেলেন সৌদি রাজকুমারী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিনাদোষে তিন বছর কারাগারে থাকা সৌদি রাজকুমারী বাসমা বিনতে সৌদ ও তার কন্যা সুহৌদকে মুক্তি দিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

দেশটির মানবাধিকার সংস্থা বলছে, প্রায় তিন বছর ধরে রিয়াদের আল-হাইর নামে একটি কারাগারে এই রাজকুমারীকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই সৌদি রাজ কর্তৃপক্ষ বন্দি করে রেখেছিলো।

জানা গেছে, বাসমা বিনতে সৌদ দীর্ঘদিন ধরে রাজতন্ত্রের সংস্কার ও নারী অধিকার নিয়ে কাজ করেন। ২০১৯ সালের মার্চে তাকে কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটক করা হয়। পরে ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি অসুস্থ হলে বাদশাহ সালমান এবং ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের কাছে মুক্তি প্রার্থনা করেন। সেই বিবেচনায় তাকে মুক্তি দেয় হয় বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি সংশ্লিষ্ট সৌদি কর্মকর্তারা।

ওমরাহ পালনে নতুন নির্দেশনা সৌদি আরবের

এদিকে বাসমার আইনি উপদেষ্টা হেনরি এস্ট্রাম্যান্ট বলেছেন- রাজকুমারী ভালো আছেন, তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি ক্লান্ত বলে মনে হচ্ছে কিন্তু মানসিক দিক দিয়ে ভালো আছেন এবং সরাসরি তার ছেলেদের সঙ্গে পুনরায় মিলিত হতে পেরে কৃতজ্ঞবোধ করছেন।

ধারণা করা হচ্ছে রাজপরিবারের কড়া সমালোচনা করার জন্যই তাকে আটক হয়।

উল্লেখ্য, বাসমা সাবেক সৌদি রাজার ১১৫ সন্তানদের একজন। যিনি ১৯৫৩ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত সৌদি আরব শাসন করেছিলেন। বাসমা পাঁচ সন্তানের জননী। বিবাহ বিচ্ছেদের পর ২০১০ থেকে ২০১১-এর দিকে তিনি লন্ডনে পাড়ি জমান। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে আরব অঞ্চলের দুর্নীতি, মানবাধিকার এবং সম্পদের বৈষম্য নিয়ে কথা বলে আলোচনায় আসেন। সৌদি আরবে ধর্মীয় পুলিশের ক্ষমতা হ্রাস, নারীদের অধিকারসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক সংস্কারের দাবিও জানান তিনি।

এরপর ২০১৫ সালের দিকে সৌদি আরবে ফিরে আসেন বাসমা। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বিবিসি অ্যারাবিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইয়েমেন যুদ্ধের ইতি টানতে সৌদি আরবের প্রতি আহবান জানান তিনি। এরপর থেকে তাকে আর গণমাধ্যমে দেখা যায়নি। সূত্র: এএফপি, বিবিসি, ডয়েচে ভেলে, এনডিটিভি

স্বাআলো/এস