করোনা: গতবছর জানুয়ারিতে সংক্রমণের হার ছিলো ৫, এবার ১২

ঢাকা অফিস: ২০২১ সালের জানুয়ারিতে করোনা সংক্রমণের হার পাঁচ শতাংশ থাকলেও, এবছর এখন পর্যন্ত সংক্রমণের হার ১২ শতাংশের বেশি। তবে কমেছে হাসপাতালে রোগী ভর্তি।

দেশে করোনার প্রথম ঢেউ মোকাবিলা করে ২০২১ সালের জানুয়ারিতে সংক্রমণের হার নেমে আসে পাঁচে। তখনো হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং প্রতিদিনের মৃত্যু কমেনি।

বছরের শেষ দিকে করোনায় আক্রান্ত কমার পাশাপাশি কমেছে হাসপাতালে ভর্তি রোগী। কিন্তু এবছর জানুয়ারির শুরুতেই বাড়ছে সংক্রমণ।

২০২১ সালের ১৩ জানুয়ারি ১৫ হাজার ৭২৭ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এবছর ১৩ জানুয়ারি পরীক্ষা করা হয় ২৭ হাজার ৯২০ জনের। গতবছরের চেয়ে নমুনা বেশি পরীক্ষা হয়েছে ১২ হাজার ১৯৩টি। গতবছর এই দিনে শনাক্ত হয় ৮৯০ জনের। এবার তা বেড়ে ৩ হাজার ৩৫৯ জন।

গত বছর ১৩ জানুয়ারি সংক্রমণের হার ছিলো ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এবছর তা বেড়ে ১২ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। গতবছর এইদিনে সুস্থ হয়েছিলেন ৮৪১ জন, এবছর সুস্থ ৩০২ জন। ওই সময় মারা যান ১৪ জন। এবছর মারা গেছেন ১২ জন।

এবার কমেছে হাসপাতালে ভর্তি রোগী। গতবছরের ১৩ জানুয়ারি সারাদেশের হাসপাতালে রোগী ভর্তি ২ হাজার ৭৪ জন, এবছর তা ১ হাজার ৫৩ জন।

গতবছর এসময় আইসিইউতে ছিলো ২৩৪ জন। এবছর তা কমে ১৫২ জন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন, করোনার টিকা নেয়া এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতিতে এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভালো। আরেকটি কারণ হচ্ছে মানুষ আগের চেয়ে কিছুটা সচেতন হয়েছে। তবে টিকা নেয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও মানুষ আবারো বেপরোয়া হয়ে ওঠছে। সেজন্যই আবার বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে ডেল্টা এবং ওমিক্রন একসঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে। এখনই সতর্ক না হলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার আশঙ্কা তাদের।

আইইডিসিআর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এ এস এম আলমগীর বলেন, আমাদের এখনো প্রি ডমিনেন্টলি ডেল্টা সার্কুলেশনে আছে। ডেল্টা সার্কুলেশনে থাকলে একটা ভয়ংকর কথা হচ্ছে যে মৃত্যু অনেক বেশি হয়। ওমিক্রনের সংক্রমনের সক্রিয়তা হচ্ছে যে অনেক বেশি রোগি হয়ে যেতে পারে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপরও একতা বিশাল চাপ পড়বে।

সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাআলো/এসএ