কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে ডাল শস্যের বাম্পার ফলন

জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম: জেলার নাগেশ্বরীর চরাঞ্চলে ডাল এখন জাতীয় ফসলের শস্য ভাণ্ডার। ভালো ফলন আর ন্যায্য দাম পাওয়ায় চরাঞ্চলের ডাল চাষীরা অনেক খুশি।

নাগেশ্বরী উপজেলার বেশকিছু চরাঞ্চল ঘুরে দেখা যায়, কৃষকের বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে ডাল জাতীয় শস্যের সবুজ সমারোহ। ডাল নয়, যেনো তারা সোনা ফলিয়েছেন। সেসব ডাল শস্যের মধ্যে রয়েছে মাষকলাই, শুল্টি, মশুর, মুগ, মটর ও খেসারী। উপজেলার কেদার, বল্লভেরখাষ, কচাকাটা, নারায়ণপুর, কালিগঞ্জ, নুনখাওয়া, বামনডাঙ্গা, রায়গঞ্জ, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চল গুলোতে চাষ হয়েছে ডাল জাতীয় এসব ফসল।

কৃষকরা জানান, এ বছরে বন্যা পরবর্তী সময়ে চরে পলি জমে থাকায় ডাল চাষের জন্য উপযোগী এছাড়াও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় পোকা-মাকড়ের আক্রমণও তুলনামূলক কম। তাই ডাল জাতীয় এসব ফসলের চাষাবাদ ভালো হয়েছে এবং ডালের দানাও হয়েছে পরিপুষ্ট। আবার কোথাও কোথাও শুরু হয়েছে ডাল উত্তোলনের কাজ। তাই ডাল ফসলের কাটা-মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চারাঞ্চলের কৃষকরা।

তীব্র ঠাণ্ডায় জবুথবু কুড়িগ্রামে জনপদ

স্থানীয় ডাল চাষিরা জানায়, এ বছর প্রকার ভেদে প্রতি বিঘায় ৪-৬ মণ পর্যন্ত ডাল ফসল পাওয়া যাচ্ছে। প্রকার ভেদে প্রতি মণ শষ্য ২-৩ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত এবং সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারেন না তাদের উৎপাদিত ফসল। আর পরিবহন খরচও পড়ে বেশি। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে আরো বেশি দামে ফসল বিক্রি করতে পারতেন বলে জানান তারা।

নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ডাল জাতীয় ফসলের চাষ হয়েছে। এর মধ্যে মাষকলাই ২৭৫ হেক্টর মসুর ১৯৫ হেক্টর, খেষারী ১৫০ হেক্টর, মুগ ১৩৫ হেক্টর, শুল্টি ১০ হেক্টর এবং মটর ৬ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা কৃষি অফিসার শাহরিয়ার হোসেন জানান, এ বছর উপজেলায় ডাল জাতীয় ফসল চাষের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সব ধরণের ডাল শষ্যের ফলন ভালো হওয়ায়, কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।

স্বাআলো/এস