মাস্ক পরতে অনীহা, নেই ওমিক্রমন ভীতি

হারুন উর রশিদ সোহেল, রংপুর: করোনাভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণরোধে সম্প্রতি নতুন করে কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করেছে সরকার। ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা বিভাগীয় নগরী রংপুর ছাড়াও লালমনিরহাট ও দিনাজপুর রয়েছে সংক্রমণ ঝুঁকির তালিকায়। এই তিন জেলাকে ইয়োলো জোন (মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ) এলাকা বলা হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে নেই কোনো আতঙ্ক। নেই কোনো ভীতি।

এমনকি সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কোথাও চলছে না কার্যক্রম। বাধ্যতামূলক মাস্ক পরার কথা থাকলেও হাটবাজার, পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ সরকারি-বেসরকারি অফিস আদালত সবখানেই তা উপেক্ষিত। স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার নীতি অমান্য করে চলছে সভা-সমাবেশ, উৎসবসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কার্যক্রম। এর ফলে ওমিক্রমন ঝুঁকি বাড়বে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় রংপুরে শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১১ শতাংশে।

সরেজমিনে নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড়, কাচারী বাজার, আলদত চত্বর, সিটি বাজার, সুপার মার্কেট, নবাবগঞ্জ বাজার, বেতপট্রি, মেডিকেল মোড়, কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, মর্ডাণ মোড়, শাপলা চত্বর, রেল স্টেশন, সাতমাথা ও কামারপাড়া কোচস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কারো মধ্যে তেমন করোনা ভীতি নেই। নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা গুনতে হবে এমন ভাবনাটাও কাজ করছে না। বরং সব শ্রেণি-পেশার মানুষদের মধ্যে এক ধরনের উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে।

ঘুরে আরো দেখা গেছে, নগরীর সিটি বাজার, লালবাগ, পায়রা চত্বর, সুপার মার্কেট ও বাসস্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন মোড় গুলোতে মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। রিকশা, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস ছাড়াও দূরপাল্লার অন্যান্য যাত্রীবাহী পরিবহনে যাত্রীদের ঠাসাঠাসি করে উঠানো হচ্ছে। যাত্রী থেকে শুরু করে পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট কেউই ঠিকমতো স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার নীতি মানছেন না। মাস্ক থাকলেও কারও হাতে, আবার কারও পকেটে। তবে হাট-বাজারে বেশির ভাগ মানুষের মুখে মাস্ক নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনার শুরুর দিকে প্রথম দুই ধাপে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশি চেকপোস্ট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল থাকলেও এবার ওমিক্রমন ঝুঁকিতে আগের মতো তৎপরতা নেই। রংপুর জেলা প্রশাসন মাস্ক বিতরণ ছাড়া নতুন বিধি-নিষেধ প্রতিপালনে তেমন কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। একই চিত্র নগরীতেও দেখা গেছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এ যেন সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব এবং প্রশাসনের নমনীয়তায় সরকারের বিধি-নিষেধ ও নির্দেশনা এখন কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। এ কারণে ওমিক্রমন ঝুঁকির আশংকা প্রকাশ করেছেন সচেতন নগরবাসী। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে ওমিক্রমন প্রতিরোধে সরকারি বিধি-নিষেধ প্রতিপালনে কঠোর হওয়ার দাবি জানান।

নগরীর তামপাট এলাকার সামসুল হক ও মেজবাহ মিয়া জানান, মানুষ আগের মত করোনাকে আর ভয় করে না। টিকা দেয়ার পর মানুষ মাস্কও পরে না।
জাহাজ কোম্পানি মোড়ে কথা হয় মাহমুদুল মানিক, তুহিন ও ইশারাত সুচি’র সাথে। তারা জানান, গতবারের মতো এবার সরকারি নিয়মকানুন কেউ মানছে না। অনেকেই মাস্কও পড়ে না। এক কথায় কেউই স্বাস্থ্যবিধি মানছে না।

মেডিকেল মোড়ে কথা হয় আফজাল হোসেন নামের এক অটোচালকের সাথে। তিনি বলেন, কেউ স্বাস্থ্যবিধি মানে না। সেটা যাত্রী কিংবা সরকারি লোক, চাকুরীজীবি। আর আমাদের মতো গরীবের কথা বাদ দেন। আমরা ভাড়া না মারলে খাবো কি। সংসার চালাবো কিভাবে। আর দুই-তিনজন যাত্রী নিয়ে গেলেতো ক্ষতি হবে। একই কথা বলেন, সিটি বাজারের অটো চালক নুর আলম ও জিকরুল, ইউনুসসহ বেশ কয়েকজন।

এ ব্যাপারে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. আবু জাকিরুল ইসলাম বলেন, করোনার বিস্তার রোধে জনসচেতনতার বিকল্প নেই। জনগণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে সংক্রমণের হার অনেকাংশে কমে যাবে। এ সময় তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগে নতুন আরো ৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১১ শতাংশে। এই সময়ে কোনো রোগী মারা যায়নি।

স্বাআলো/এসএ