মণিরামপুরে গলদা চিংড়ির উৎপাদন বাড়াতে তৎপরতা

মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের মণিরামপুরের মাটি গলদা চিংড়ি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। মাছ চাষীদের কাছে চিংড়ি চাষ ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় উপজেলার অনেক এলাকার চাষী এ চাষে ভয় পান। কার্প জাতীয় মাছ চাষ ছাড়া চিংড়ি চাষ করতে কোনোভাবে ঝুঁ নিতে চান না তারা।

মাছ চাষীদের ভয় কাটিয়ে গলদা চাষ উপজেলাব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবার কার্যক্রম হাতে নিয়েছে মৎস্য অধিদফতর।

দেশীয় প্রজাতির ক্যাটফিশ (শিং, মাগুর, টেংরা ও পাবদা) চাষের সাথে মিশ্র গলদা চিংড়ি চাষে উদ্বুদ্ধ করতে উপজেলার কাশিমনগর ইউনিয়নের চাষীদের নিয়ে এ উপলক্ষে একদিনের কর্মশালার আয়োজন করেছেন উপজেলা মৎস্য অধিদফতর।

বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) সকালে আয়োজিত প্রশিক্ষণে ইউনিয়নের ৩৫ জন মাছ চাষী অংশ নিয়েছেন। যাদের মধ্যে ১৫-২০ জন দেশীয় প্রজাতির ক্যাটফিশ জাতীয় মাছের চাষ করেন।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহাম্মেদ, জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ, সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নান্নু রেজা, ক্ষেত্রসহকারী অলোক কুমার মল্লিক প্রমুখ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

রিপন ঘোষ বলেন, মণিরামপুরের ১৭টি ইউনিয়নের মধ্যে হরিদাসকাটি, কুলটিয়া, মনোহরপুর, নেহালপুর ও দূর্বাডাঙা ইউনিয়নে চিংড়ি চাষ হয় অনেক আগ থেকে। পরবর্তীতে ঢাকুরিয়া, খানপুর ও শ্যামকুড় ইউনিয়নের কিছু চাষী চিংড়ি চাষ শুরু করেন। উচ্চ মূল্যের গলদা চিংড়ি মূলত মিঠা পানির মাছ। উপজেলার অধিকাংশ ইউনিয়ের পানি মিঠা হলেও এসব অঞ্চলের চাষীরা ঝুঁকি মনে করে চিংড়ি চাষ করেন না। যদিও এসব অঞ্চল গলদা চাষের উপযোগী। উপজেলার পূর্বাঞ্চলের মাটির চেয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মাটির গুণগত মান ভালো।

তিনি বলেন, কৃষকদের ভয় কাটিয়ে উপজেলা জুড়ে গলদা চিংড়ির চাষ ছড়িয়ে দিতে আমরা কাজ শুরু করেছি। মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত গলদা চিংড়ি এ অঞ্চলের দেশীয় প্রজাতির ক্যাটফিশ (শিং, মাগুর, পাবদা, টেংরা) জাতীয় মাছের সাথে মিশ্রণ ঘটিয়ে চাষ করা সম্ভব। এ বিষয়টি বুঝানোর জন্য ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম, ফেজ-২ (মৎস্য অধিদফতর অঙ্গ) প্রকল্পের আওতায় বৃহস্পতিবার কাশিমনগর ইউনিয়নের ৩৫ জন মাছ চাষীকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কমন ইন্টারেস্ট গ্রুপ (সিআইজি) সমিতির আওতায় ২০ জন মাছ চাষী আছেন।

তিনি বলেন, সমিতির সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রদর্শনীর জন্য তাদের একজনকে গলদার পোনা সরবরাহ করা হবে। সার্বিক প্রচেষ্টায় প্রদর্শনী সফল হলে অন্য মাছ চাষীদের মধ্যে গলদার চাষ ছড়িয়ে পড়বে বলে আশা করছি। দেশীয় প্রজাতির ক্যাটফিশের সাথে গলদার চাষ ধারাবাহিক উপজেলার বাকি ইউনিয়নগুলোতে ছড়িয়ে দিতে এ চেষ্টা অব্যহত থাকবে।

রিপন ঘোষ বলেন, বছরে মণিরামপুরে এক হাজার ৫০০ টন চিংড়ি উৎপাদন হয়। এ বছর এক কেজি গলদা চিংড়ি এক হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রয় পেরেছেন চাষী। এক বিঘার ঘেরে ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচে গলদা চাষ করে একজন চাষী দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা উপার্জন করতে পারবেন। উপজেলা জুড়ে মাছ চাষীদের গলদা চাষে আগ্রহী করতে পারলে চিংড়ির উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব।

স্বাআলো/এস

.