মা-বাবাকে বিতাড়নের ঘটনা ঘটেই চলেছে

সম্পাদকীয় ডেস্ক: মা-বাবা সন্তানের কাছে কত বড় বোঝা হয়েছে যে সেই মা-বাবার খোঁজ-খবর নেয় না। এ কথাটা শোনাও বোধ হয় পাপ। নড়াইলের কাঞ্চনপুর গ্রামের এক ছেলে শরিফুল ইসলাম তার নবতিপর মাকে পাকা ঘর থেকে নামিয়ে দেয়। আশ্রয়হীন মা নিরুপায় হয়ে ওঠেন গোয়ল ঘরে। কোন বিবেকে কোন মানসিকতায় ছেলে মাকে তাড়িয়ে গোয়াল ঘরে তোলে। বাড়ির ইতর প্রাণিটাও এভাবে কেউ তাড়ায় না। অথচ শরিফুল ইসলাম তাই করলো। কিছু দিন আগে নড়াইলে ছেলেরা তাদের মাকে ফেলে দিয়ে এসেছিল বাঁশবাগানে।

যশোরের ঘুনি গ্রামে এক কুলাঙ্গার ছেলে আবদুল্লা আল মামুন বটি নিয়ে তাড়া করে ইহকাল পরকালের কান্ডারি মা-বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। যশোরের চৌগাছায় মা তার ছেলেদের ফ্লাট বাড়ি ছেড়ে বাঁশবনের ময়লা আবর্জনার গর্তের পাশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছিলেন। বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার খাজুরিয়া গ্রামের ৮৫ বছরের এক মাকে তার ছেলেরা তাদের দোতলা বাড়িতে না দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। যশোরের পল্লীতে জমাজামির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে ছেলেরা জোট করে তাদের বাবাকে পিটিয়ে হত্যা করেছিল।

বন্য পশু আর শরিফুলের মধ্যে কোনো পার্থক্য আছে কি? বন্য পশুর বাচ্চাগুলো বড় হয়ে গেলে যে যার মতো এদিক সেদিক চলে যায়। মার ভাগ্যে কি হলো তা আর তারা দেখে না। এটা প্রাকৃতিক বিধান। এ বিধান পশুর জন্য প্রযোজ্য। মানুষের জন্য নয়। কারণ মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। যারা মানুষের সমাজে বাস করেও পশুর মতো আচরণ করে তাদের এ সমাজে বাস করার কোনো অধিকার থাকা উচিত নয়। বনই তাদের জন্য উপযুক্ত স্থান।

নড়াইলের ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আসলে ১৯ জানুয়ারি দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের হস্তক্ষেপে নিজ গৃহে ঠাঁই পেলেন ৯২ বছরের এক বৃদ্ধ মা। গোয়াল ঘরে থাকা ৯২ বছর বয়সী শাহাজাদী বেগমকে নিজ ঘরে তুলে দিলেন তিনি ।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, প্রধানমন্ত্রী গৃহহীনদের থাকার জন্য জায়গাসহ ঘর তৈরি করে দিচ্ছেন সেখানে এমন ঘটনা মেনে নেয়া কষ্টকর।

মা-বাবার দোয়া ছাড়া ইহকাল পরকাল কোনো কালেই সন্তানের কল্যাণের আশা নেই। মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেস্ত। ধর্মের এই মর্মবাণী কি তাদের কানে কোনো দিন পৌছায়নি? দিন দিন পারিবারিক বন্ধন যে ভাবে শিথিল হচ্ছে তাতে এক দিন দেখা যাবে প্রবীণদের দেখার বা সেবা-যত্নের কেউ নেই। এ ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগে প্রবীণদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা উচিত বলে আমরা মনে করি।