খাদ্য সাশ্রয়ের সুসংবাদ

সম্পাদকীয় ডেস্ক: প্রচলিত কথা ‘ভাতের মাড় ফেলার মানে জনস্বাস্থ্যকে গোবরখানায় ফেলে দেয়া।’ ঠিক যেনো কাঙালের কথা বাসি হলে ফলে এমন ঘটনার মতো সুদীর্ঘকাল কাল পরে সেই প্রচলিত কথা আজ গবেষকদের গবেষণায় উঠে এসেছে রান্নার পর ভাতের মাড় না ফেললে দেশে বছরে ৫০ লাখ টন চাল সাশ্রয় হবে। রান্না করা চালের শতকরা ১৪ ভাগ মাড়ের সঙ্গে ফেলে দেয় দেশের মানুষ।

বর্তমানে ছয়জন যে পরিমাণ ভাত খান, মাড়সহ রান্না করা সেই পরিমাণ চালের ভাত সাতজনে খেতে পারবে। এমন তথ্য দিয়েছেন কৃষিবিদ, খাদ্য ও পুষ্টি বিজ্ঞানীসহ কৃষি কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরাম (বিসিজেএফ) আয়োজিত জলবায়ু পরিবর্তন: খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তায় করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে তারা এ তথ্য প্রকাশ করেন।

আগের অবস্থার সাথে বর্তমানের অনেক কিছু তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে আমরা ঠুনকো আভিজাত্যের কারণে মূল থেকে সরে যাচ্ছি। যার অশুভ প্রতিক্রিয়ার শিকার হচ্ছি। আগে আমরা ঢেঁকিছাটা চালের ভাত খেতাম। ওই চালের খাদ্যগুণ অনেক বেশি। বর্তমানে চাল দেখতে সুন্দর ও সরু। এতে চালের ওপরের একটি অংশ ফেলে দেয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হচ্ছে ভাত রান্নার পদ্ধতিতে।

মা-বাবাকে বিতাড়নের ঘটনা ঘটেই চলেছে

বর্তমানে দেশের মানুষ যে পদ্ধতিতে ভাত রান্না করছে, এতে চালের খাদ্যমান ও গুণ অনেক ফেলে দিতে হচ্ছে। মাড়সহ রান্নার পদ্ধতি বের করার প্রয়োজন নেই। এ সাধারণ বিষয়টি প্রায় শতভাগ মহিলা জানেন। এখন প্রয়োজন মানসিকতা তৈরি। এজন্যউদ্বুদ্ধকরণ ও জনমত সৃষ্টি করা দরকার আগে। এ বিষয়ে আমরা সফল হলে বছরে ৫০ লাখ মেট্রিক টন চাল সাশ্রয় হবে। এটি কম কথা নয়।

বর্তমান সরকার পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, খরা ইত্যাদির কারণে শুধু কৃষিই নয়, মানুষের চিরচেনা স্বাভাবিক জীবন প্রবাহই আজ ব্যাহত। দেশের ৪০ শতাংশ লোক কৃষির সাথে সরসরি জড়িত। ভবিষ্যৎ মেধাবী জাতি গঠনে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত জরুরি।

যতদূর জানা যায়, গ্রামের কিছু পরিবারে ভাতের মাড় ফেলা হয় না। যারা এ ভাত খান তারা জানেন মাড় ফেলা ভাতের চেয়ে এ ভাতের স্বাদ বেশি। আর এ কাজটি মোটেই কোনো কঠিন কাজ নয়। শুধু ইচ্ছা ও মানসিকতার পরিবর্তন দরকার। জাতীয় স্বার্থে কেউ যাতে মাড় না ফেলায় সে ব্যাপারে কাজটি শুধু সভা-সেমিনারে সীমাবদ্ধ না রেখে অতিদ্রুত উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি নেয়া দরকার।

স্বাআলো/এস

.