দুই বছর বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার সাধুর হাট বসছে কুষ্টিয়ার আখড়াবাড়ীতে

করোনা মহামারীর কারণে দীর্ঘ দুই বছর বন্ধ থাকার পর কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ীতে আগামীকাল (মঙ্গলবার) থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে এই উৎসব শুরু হওয়ার কথা থাকলেও এর আগেই ভক্ত সাধু ও লালন অনুসারীরা মাজার প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেছে। উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যেই আঁখড়াবাড়িতে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। লালন মাজারকে সাজানো হয়েছে বর্ণিল সাজে। কালি নদীর পাড়ে বসেছে বিশাল মেলা, প্রস্তুত করা হয়েছে লালন মঞ্চ। আর এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্ত্বা ব্যবস্থা।

করোনায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে ২০২০ সালের পর টানা দুই বছর কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র আখড়াবাড়িতে লালন স্মরণোৎসব ও লালন তিরোধান দিবসের কোনো আয়োজন ছিলো না। করোনার সংকট কাটিয়ে এবার আখড়াবাড়ীতে দোলপূর্ণিমা উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) থেকে তিন দিনব্যাপী লালন স্মরণোৎসব শুরু হচ্ছে। তবে উৎসব শুরুর আগেই সাধু ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হতে শুরু করেছে লালনের আখড়া বাড়ি। দীর্ঘ দুই বছর পর লালন স্মরণোৎসবে আসতে পেরে চরম খুশি তারা।

ফকির আলাউদ্দিন শাহ বলেন, দীর্ঘদিন পরে লালনের উৎসব হচ্ছে। এই উৎসবকে ঘিরে এবার প্রচুর লোক সমাগম হবে সাঁইজির ধামে। জায়গা পাবেন না তাই এক সপ্তাহ আগেই আখড়াবাড়ীতে এসেছেন বলেও জানান তিনি।

এদিকে দীর্ঘদিন লালনের আখড়াবাড়ী বন্ধ থাকায় চরম ক্ষতিরমুখে পড়েছে আখড়াবাড়ীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা ব্যবসায়ীরা। স্মরণোৎসবকে ঘিরে নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন তারা। ব্যবসায়ী রমিজ উদ্দিন বলেন, দুই বছর লালনের আখড়াবাড়ী বন্ধ থাকায় আমরা খুবই মানবেতর জীবন-যাপন করেছি। তিনি আশা প্রকাশ করেন এবারের স্মরণোৎসব থেকে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নেবে।

প্রতি বছরের মত এবারও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিন দিনের অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করেছে লালন একাডেমি।

‘মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি’ বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ’র এই অমর বাণীকে ধারণ করে মঙ্গলবার (১৫ মার্চ) থেকে শুরু হয়ে এ উৎসব চলবে বৃহস্পতিবার (১৭ মার্চ) পর্যন্ত। অনুষ্ঠান মালার মধ্যে থাকছে লালনের কর্মময় জীবন ও দর্শন নিয়ে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও গ্রামীণ মেলা।

এদিকে লালন স্মরণোৎসবকে সফল করার জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই সব রকম প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। রবিবার বিকেলে লালন একাডেমিতে এক প্রেস ব্রিফিং-এ লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন পর লালন স্মরণোৎসবের আয়োজন হওয়ায় এবার প্রচুর লোক সমাগম হবে। তাই এই অনুষ্ঠানকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হচ্ছে।

দোল-পূর্ণিমার এমন দিনেই লালন সাঁইজিকে কুষ্টিয়া কুমারখালীর ছেউড়িয়ার কালী নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রায় দেড়’শ বছরের বেশি সময় আগে বাউলদের খাটি করে গড়ে তুলতে বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ তার জীবদ্দশায় ছেঁউড়িয়ার এই নিজ আখড়া বাড়িতে প্রতি বছর চৈত্রের দৌলপূর্ণিমা রাতে বাউলদের নিয়ে সাধু সঙ্গ উৎসব করতেন। ১২৯৭ বঙ্গাব্দের পহেলা কার্তিক তার মৃত্যুর পরও মরমী সাধক লালনের জীবন কর্ম, জাতহীন মানব দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চিন্তা চেতনার আর্দশিক বিষয় নিয়েই প্রতিবছর এ উৎসব চালিয়ে আসছে তার অনুসারীরা।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
জেলা প্রতিনিধি, কুষ্টিয়া