চৌগাছায় নব-নির্বাচিত ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ

যশোরের চৌগাছার নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের নব-নির্বাচিত চেয়ারম্যান উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর রহমান শাহিনের বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নয়জন পুরুষ সদস্যের মধ্যে সাতজন।

গত রবিবার (২৭ মার্চ) তারা এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) নিকট লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি রবিবার রাতে ফেসবুকে প্রকাশ হলে উপজেলাব্যাপী বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর করেছেন, ২নং ওয়ার্ডের (গুয়াতলী ও কাঁদবিলা গ্রাম) ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান, ৩নং ওয়ার্ডের (হোগলডাঙ্গা-মাঙ্গিরপাড়া) সদস্য আলী আহম্মদ, ১নং ওয়ার্ডের (চাঁদপাড়া) সদস্য আবু সালাম, ৭নং ওয়ার্ডের (নারায়ণপুর-ইলিশমারী-ভগবানপুর) ওহিদুল ইসলাম ভোদড়, ৫নং ওয়ার্ডের (বড়খানপুর-কিসমতখানপুর) সদস্য সামছুল আলম, ৬নং ওয়ার্ডের (বাদেখানপুর) সদস্য আবু শামীম বাবলু ও ৪নং ওয়ার্ডের (বুন্দেলীতলা)

সদস্য হাবিবুর রহমান স্বাধীন আলোকে জানান, তারা নারায়নপুর ইউনিয়নের নবনির্বাচিত ইউপি সদস্যরা গত (০৩ জানুয়ারি) ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্বপালনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন রকম অনিয়ম অসদাচরণ করছেন চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন।

তাদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান উপজেলা থেকে প্রেরিত চিঠি গোপনীয়তা রক্ষা করে পরিষদের মিটিং পরিচালনা করেন, টিসিবি কার্ড বন্টনে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও নিজস্ব পেটোয়া বাহিনীর দ্বারা বিতরণ করেন। জন্ম নিবন্ধন সনদ বিতরণে অবৈধ অন্যায়ভাবে অধিক অর্থ আদায় করেন, আদায়কৃত টাকার কোন রশিদ দেন না। সূলভ মূল্যের চাউলের কার্ড ইউপি সদস্যদের সাথে পরামর্শ না করে নিজস্ব বলয় সৃষ্টি করতে ওয়ার্ড হতে কর্তন করেন এবং সেগুলো নিজগ্রামসহ নিজস্ব পেটোয়া বাহিনীর মাঝে বিতরণ করেন। প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে তিনি ঘোর আপত্তি জানান এবং কখনো এ ধরনের আলোচনা করতে গেলে সেই ইউপি সদস্যের প্রতি ক্ষিপ্ত ও রূঢ় আচরণ করেন। ওয়ার্ড সদস্যবৃন্দ সরকার কর্তৃক প্রচলিত নিয়মানুসারে পরিষদ পরিচালনা করতে পরামর্শ বা আলোচনা করতে গেলে সেই ইউপি সদস্যকে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অনেক সময় জুতা পেটা করতে চান, যা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত অসম্মানকর, অপমানজনক ও জীবনের হুমকিস্বরুপ।

অভিযোগপত্রে চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ইউনিয়ন পরিষদ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার সুযোগ প্রদানের অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

এদিকে একইদিন (রবিবার) ইউনিয়নের হোগলডাঙ্গা ও মাঙ্গিরপাড়া গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় ১৬ ব্যক্তি চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন যে তারা ১০ টাকা কেজি (ফেয়ার প্রাইস) চালের সুবিধাভোগী। দীর্ঘদিন ধরে তারা এই সুবিধা পেলেও সম্প্রতি তাদের নামের কার্ড বাতিল করা হয়েছে। ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলী আহাম্মদ জানান, এবিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। চেয়ারম্যান নিজে তার সাথে আলোচনা না করেই এই কার্ড বাতিল করেছেন।

অন্যদিকে গুয়াতলি-কাঁদবিলা গ্রামের ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান জানান, তার ওয়ার্ডের ফেয়ার প্রাইস তালিকা থেকে গ্রামের প্রায় ২০ জনের নাম বাদ দিয়ে চেয়ারম্যানের হাজরাখানা গ্রামের ২০ জনের নাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে।

একইভাবে চাঁদাপাড়া গ্রামের ইউপি সদস্য আবু সালাম জানান, তার ওয়ার্ডের ফেয়ার প্রাইস তালিকা থেকে ১৪ জনের নাম বাদ দিয়ে ওই তালিকায় চেয়ারম্যানের হাজরাখানা গ্রামের ১৪ জনের নাম ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে প্রবাসী এবং আলীশান বাড়ির মালিকরাও রয়েছেন।

তবে ইউপি চেয়ারম্যান শাহিনুর রহমান শাহিন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে স্বাধীন আলোকে বলেন, নারায়নপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওহিদুল ইসলাম ভোদড়ের (ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়ক) ছেলে আলমগীর, বড়খানপুর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য শামছুল আলমের ছেলে মোস্তফা আহমেদসহ প্রায় প্রত্যেক ইউপি সদস্যের ছেলে বা স্ত্রীর নামে এই কার্ড রয়েছে। আবার তারা একই ব্যক্তির নামে দুটি করে কার্ড করেছেন, টিসিবির কার্ড নিজেদের নামে একাধিক রাখার চেষ্টা করেছেন। মেম্বরদের এসব অনৈতিক কাজে বাঁধা দিতে যার কার্ড তাকেই হবে বলেছি। এজন্যই তারা আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, তদন্ত করলে প্রকৃত বিষয়টি উদঘাটন হবে।

চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইরুফা সুলতানা বলেন, ইউপি সদস্যরা অভিযোগটি জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে দিয়েছেন। জেলা প্রশাসক মহোদয় নির্দেশ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
আজিজুর রহমান, চৌগাছা (যশোর)
উপজেলা প্রতিনিধি