আত্মহত্যা নয়, হতে হবে আত্মবিশ্বাসী

বাংলাদেশে আত্মহত্যা অপ্রাকৃত মৃত্যুর একটি সাধারণ কারণ এবং দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক সমস্যা। প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যার কারণে যে সকল লোকদের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া যায় তাদের মধ্যে ২.০৬% বাংলাদেশী।

অধিকাংশ আত্মহত্যাকারী মানসিক নির্যাতনের শিকার। দীর্ঘদিন সবার অগোচরে মানসিক নির্যাতনের চাবুক সহ্য করতে করতে যখন স্বপ্নগুলো দুঃস্বপ্নে রুপ নেয়, তখন তার কাছে বেঁচে থাকাটা অর্থহীন মনে হয়। আর তখনই ওই ব্যক্তি পা বাড়ায় আত্মহত্যার দিকে। একদিনের ঘটনায় কেউ আত্মহত্যা করে না। দীর্ঘদিন মনের মধ্যে জমা থাকা পাহাড়সম অভিমান জমা হতে এক সময় ভাবে বেঁচে থেকে কী লাভ, মরে যাই সে-ই ভালো। ভিন্ন ভিন্ন কারণে মানুষ আত্মহত্যা করে। কেউ প্রেম, কেউ পরকীয়া, কেউ বেকারত্ব, কেউ বা প্রতিষ্ঠিত হতে না পেরে। আবার কেউ ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করে। কারণের ধরন যেমনই হোক মূল বিষয় এখানে হতাশা ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়া। আত্মহত্যাকারীদের বেশিরভাগই তরুণ-তরুণী। ২০২১ সালে ১০১ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। আবার আরেকটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০২০ সালের ৮ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ১৪ হাজার ৪৩৬ জন নারী-পুরুষ বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যা করেছে। সব থেকে বেশি আত্মহত্যাকারী ২০ থেকে ৩৫ বছর বয়সী নারী-পুরুষ। সম্প্রতি একটি আত্মহত্যা বাংলাদেশে বসবাসরত জনগনকে যেমন প্রভাবিত করেছে ঠিক প্রবাসে বসবাসরত জননীর সন্তানদের মর্মাহত করেছে। এই ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু তিনি একজন বয়স্ক সচেতন মানুষ। যার অন্যতম পরিচয় হলো তিনি ঢাকাই চলচিত্রের নায়ক রিয়াজের শ্বশুর। তিনি আবু মহসিন খান। নিজের মাথায় নিজে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন। ফেইসবুকে লাইভে এসে তার প্রচার করেন। তার ১৬ মিনিটের লাইভে একটি কথা বলেন, আমি যদি ফেইসবুকে লাইভে আসা ছাড়া এখানে মরে পড়ে থাকি তাহলে আগামী এক সপ্তাহেও কেউ জানবে না যে আমি মরে গেছি। কি নির্মম একাকীত্ব? যে ভিডিও চিত্র দেখে পুরো জাতিকে ভাবিয়ে দিয়েছে। সবার মনে প্রশ্ন আমাদের নীতি-নৈতিকতা, সভ্যতা, ভাতৃত্ব, মানবতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিস্ফোরণ ঘটেছে কি? আমাদের বাঙ্গালীহানার সেই একান্নবর্তী পরিবারের খ্যাতিটি বাংলার ঘরে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়েও দেখা যায় না। আরেকটি গবেষণায় দেখা যায় পারিবারিক সমস্যা (৪১.২%), পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়া (১১.৮%), বৈবাহিক সমস্যা (১১.৮%), ভালোবাসায় কষ্ট পাওয়া (১১.৮%), বিবাহবহির্ভূত গর্ভধারণ ও যৌন সম্পর্ক (১১.৮%), স্বামীর নির্যাতন (৫.৯%) এবং অর্থকষ্ট (৫.৯%) থেকে রেহাই পেতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এই আত্মহত্যা থেকে বাঁচতে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আত্মবিশ্বাস একজন মানুষকে একটি সুখী এবং সফল জীবনের দিকে নিয়ে যেতে পারে। নিজের ওপর, নিজের চিন্তার ওপর,অনুভূতির ওপর বা বিশ্বাসের ওপর আস্থা থাকলে হতাশা দৌড়ে পালায়। জীবনের পথ সব সময়ই কঠিন।যদি নিজের ওপর বিশ্বাস না রাখতে পারেন তাহলে এগিয়ে যাওয়া হবে খুবই কঠিন। পড়াশোনা,ক্যারিয়ার সবখানে আপনার সবচেয়ে বড় শক্তি নিজের ওপর আস্থা, বিশ্বাস। অনেক সময় সেটি থাকে না নানা কারণে। নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে আরো বেশি ভালো থাকতে হবে। খারাপ স্মৃতিগুলো ভুলে যেতে হবে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়ার জন্য নিজের ভুল বা খারাপ স্মৃতি গুলো অনেকাংশে দায়ী।আপনার খারাপ স্মৃতিগুলো যখন অতীত, তাই সেগুলো আর মনে করে লাভ নেই। পেছনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। জীবন আপনাকে যে অনেক কিছু দিয়েছে, তা আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন। যদি আপনি আপনার জীবনের পেছনের দিকে তাকান। তবে ব্যর্ততা গুলো মনে করা যাবে না। একটু ভাবলেই ছোট বড় অনেক অর্জন খুঁজে পাবেন। সেসব স্মৃতির কথা মনে করুন যে গুলো নিয়ে আপনি গর্বিত। এই চিন্তা গুলো নিজের কাছে আপনার নিজের আরো গুরুত্ব বাড়িয়ে দেবে এবং আপনাকে আত্মবিশ্বাসী হতে সহায়তা করবে। আপনি আপনার নিজেকে চেনেন। কিছু কিছু কাজ থাকে যেগুলো আপনার জন্য অনেক কঠিন হবে। কিন্তু সেটি করা আপনার জন্য আবশ্যক। এই অবস্থায় নিজের আত্মবিশ্বাস বজায় রাখার জন্য নিজেকে নিজেই বোকা বানিয়ে বলুন, এই কাজ তো আমার জন্য কোনো বিষয়ই নয়। দেখবেন নিজেকে এভাবে বোকা বানাতে বানাতে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে সেই কাজটি করে ফেলেছেন আপনি।সবসময় নিজেকে প্রস্তুত রাখুন সফলতার জন্য।যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো সময় যেকোনো কাজে নিজেকে সহজে মানিয়ে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করুন। এতে করে যেকোনো কাজকে সহজ মনে হবে।নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস থাকবে।আত্মবিশ্বাসই আত্মহত্যা থেকে মুক্তির উপায়।

লেখক: এম. আবুল ফয়েজ মামুন।। সাহিত্য ও সমাজকর্মী।।

.