বাগেরহাটে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আবাদ, ধান কাটা শুরু, বাম্পার ফলন

উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটে এ বছর প্রায় ৬০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পাকা ধান কাটা শুরু করেছে কৃষকরা। ধানেও বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে এবার আবাদ করা হয়েছে বোরো ধান। ফসলের মাঠ সোনালী ধানে ভরে আছে। বোরো ধানের যে আবাদ মাঠে হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ফসল পাবে কৃষক। এ আশা করছেন বাগেরহাটের কৃষি বিভাগের। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মাথায় রেখে মাঠের ফসল আশি ভাগ ধান পেকে গেলেই তা কেটে ঘরে তোলার পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) দিনব্যাপী বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কোড়ামারা, শেখরা ও বিষ্ণুপুর এবং গোটাপাড়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া, কান্দাপাড়া, দেপাড়া ও গোপালকাঠি গ্রামের মাঠে ঘুরে দেখা গেছে, যতদুর চোখ যায় মাঠে ধান আর ধান। কাঁচাপাকা ধান দাঁড়িয়ে আছে জমিতে।

শেখরা গ্রামের কৃষক কালাম ফকির বলেন, মাছের ঘেরের সাথে বোরো ধানের আবাদ করেছি। তিন বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণ করি। এ বছর ধানের ফলন খুই ভাল। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ধান ২৫ থেকে ৩০ মণ ধান পাবো বলে আশা করছি। মাঠের ধান ইতোমধ্যে কেটে ঘরে তুলছি।

আরেক কৃষক একরামুল শেখ বলেন, ৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ধান চাষ করেছি। এ বছর ধান চাষের জন্য প্রতিকুল আবহাওয়া ছিলো। ধানে কোনো রোগ-বালাই ছিলো না। যার কারণে ধানের ফলন ভাল হয়েছে। ধানের মাঠে গেলে মনটা জুড়িয়ে যায়। ধান পাকতে শুরু করেছে। সপ্তাহ খানেক পর জমির ধান পুরোপুরি পেকে যাবে। পাকার সাথে সাথেই কেটে ঘরে তুলবো। এ বছর আবহাওয়া নিয়ে কিছুটা ভয়ে আছি। উত্তরে শুনেছি বৃষ্টির সাথে বড়বড় শিলা পড়েছে। আমাদের এখানে যদি ওই রকম শিলা পড়ে তাহলে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি হবে। খাদ্য বিভাগের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ হলে সরকারি মূল্যে এ ধান বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা লাভবান হবে এবং প্রতিবছর জমিতে আবাদ করবে।

বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পাইক মাসুদ রানা বাবুল বলেন, বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে যার একটু জমি আছে সে মাছ চাষ করে। ওই মাছের চাষের পাশাপাশি তারা তাদের জমিতে ধান রোপণ করে। আমার ইউনিয়নে এ বছর ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তারা বলছে এ বছর বোরো ধানের ফলন ভাল হয়েছে। বৈশাখ মাস শুরু হয়েছে, প্রকৃতি কখন বৈরি হবে তা বলা মুশকিল। তাই যেসব জমির ধান পেকে যাবে তারা যেন দ্রুত তা কেটে ঘরে তোলে। ঝড়ো বাতাস বা অতিবৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আগেই এলাকার সব চাষীদের ধান কেটে ঘরে তোলার আহবান জানান এই জনপ্রতিনিধি।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আজিজুর রহমান স্বাধীন আলোকে বলেন, উপকূলীয় বাগেরহাট জেলায় ৫৯ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে ৮৬ শতাংশ বোরো ধানই উচ্চ ফলনশীল। মাঠের ধান ভাল অবস্থায় আছে। ইতোমধ্যে ধান পাকা শুরু হয়েছে এবং তা কাটতে শুরু করেছে কৃষক। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হয় তাহলে কৃষক বাম্পার ফসল পাবে। বৃষ্টি বাদলের কথা মাথায় রেখে মাঠের আশি ভাগ ধান পেকে গেলে তা সাথে সাথে কেটে ঘরে তুলে ফেলার পরামর্শ দেবো। এতে মাঠ পর্যায়ের কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হবে না। কৃষকদের পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা মাঠে কাজ করছেন।

স্বাআলো/এসএ

.

Author
আজাদুল হক, বাগেরহাট
জেলা প্রতিনিধি