মসলার নামে আমরা কি খাচ্ছি!

যশোরে র‌্যাব-৬ নকল হলুদ ও মরিচ কারখানায় অভিযান চালিয়ে নকল কারখানার মালিকদের আটক করেছে। তাদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

যশোর শহরতলীর নীলগঞ্জ শ্মশান রোডে একটি কারখানায় মাছের ও গরুর খাবারের সাথে রং মিশিয়ে নকল হলুদ ও মরিচের গুড়ো তৈরি করে তা বাজারজাত করে আসছিলো ওই কারখানার দুইজন মালিক। যা মানবদেহের মারত্মক ক্ষতিকর। র‌্যাব ওই কারখানায় অভিযান চালায়। অভিযানে ঘটনার সত্যতা মেলে। এসময় ওই কারখানার মালিক রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস ও দিলিপ অধিকারীকে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারক যশোর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মিকাইল ইসলাম দুই লাখ টাকা জরিমানা করে তা আদায় করেন।

নিজেদের সন্তানের নিরাপত্তা রক্ষায় অভিভাবকরা সতর্ক হোন

লে. ক. নাজিউর আরো বলেন, ওই কারখানটি থেকে উদ্ধারকৃত মাছের ও গরুর খাবার ও রং ধবংস করে পাশেই নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

জনস্বাস্থ্যের জন্য এর চেয়ে মারাত্মক হুমকি আর কি হতে পারে। পচা বাসি খাদ্যে রোগ ছড়ায়। কিন্তু গরুর খাদ্যের সাথে রং মিশিয়ে তৈরি দ্রব্যটি মানুষ তো বিরুপ প্রতিক্রিয়ার শিকার হতে পারে। হলুদ ও মরিচ অত্যাবশ্যকীয় মসলা। রোগ প্রতিরোধ করে এই মসলা। আমরা অনেকেই অজ্ঞতাবশত সেই মসলা নামের এ অখাদ্য খেয়ে চলেছি। আমরা জানছিনে অজান্তে আমরা নিজ হাতে তুলে বিষ খাচ্ছি। এ দৃশ্য মনে হয় শুধু যশোরের নয়, আরো অনেক জায়গায় চলছে এই মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড। টিস্যু পেপার দিয়ে দই তৈরির ঘটনা এদেশে গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে। কিন্তু অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে না। বর্তমান সরকার এ সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর হলেও অপরাধীরা পরোয়া করছে না। তাদের পেছনে নিশ্চয় খুঁটোর জোর আছে। এসব দোষীদের বিরুদ্ধে সাড়া জাগানো কোনো শাস্তি হচ্ছে না। এ কারণেই জনগণকে অখাদ্য-কুখাদ্য খাওয়াতে তারা পিছুপা হচ্ছে না।

যারা জনস্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলে এবং তাদের পেছনে যারা ইন্ধন যোগায় তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। এই অবস্থা যদি সারা দেশে হয় তাহলে এই জাতি আর কতো দিন সুস্থ থাকবে এটাই আজ ভাববার বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সব ক্ষেত্রে ছাড় দেবার মানষিকতা পরিহার করে প্রতিটি অনিয়ম অবহেলা দুর্নীতি অনাচারের বিরুদ্ধে সরকারকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নতুবা এ কথা নিশ্চিত করে বলা যায় ধীর প্রতিক্রিয়ায় এ জাতি একদিন পুরোটাই অসুস্থ হয়ে পড়বে।

স্বাআলো/এস

.