নারী ও শিশু নির্যাতন থামছে না

আমরা যেনো আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছি। প্রতিনিয়ত নারী ও শিশু নির্যাতনের যে ঘটনা ঘটছে তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। গৃহবধূ থেকে স্কুলের ছাত্রীও এ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। নির্যাতনের হররোজের যে চিত্র তা তুলে ধরা সম্ভব নয়।

পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে গেলেন তামান্না খাতুন (১৮)। ৯ মে দিবাগত রাত ১২টার দিকে ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নববিবাহিত মাদরাসা ছাত্রী তামান্না। ৫ মে তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ঈদের পরদিন স্বামী নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসেন তামান্না। সন্ধ্যার দিকে স্বামী নিয়ে বাড়ির পাশের কপোতাক্ষ নদের তীরে বেড়াতে যান। রাত ৮টার দিকে হঠাৎ একজন এসে তামান্নাকে ঝাপটে ধরে মুখ চেপে ধরে। এরপর কয়েকজন তার শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ কি। এসব ঘটনায় প্রমাণ হয় আমাদের সমাজ অসুস্থ হয়ে গেছে। এটা সভ্য সমাজের লক্ষণ নয়। আমাদের সমাজের কোনো একটা জায়গায় রোগ হয়ে গেছে। অসুস্থ হয়ে গেছি আমরা সবাই।

মসলার নামে আমরা কি খাচ্ছি!

এক একটি নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে আর বিভিন্ন জনের প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে পত্র-পত্রিকায়। আর এ সব দেখে নির্যাতনের শিকার স্বজনদের হা-হুতাশ করা ছাড়া কিছুই থাকছে না। সামাজিক ব্যবস্থার কারণে তাদেরকে সারা জীবন দীর্ঘশ্বাস বুকে চেপে ধরে নিয়ে বেড়াতে হচ্ছে।

এই যখন অবস্থা তখন বিজ্ঞজনেরা বলছেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে নারী ও শিশু নির্যাতেনর মতো ঘৃণ্য ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। এসব অপরাধের বিচার করতে আমাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রয়োজন। কারণ প্রত্যেক ঘটনায় জড়িতরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত। তার একমাত্র পরিচয় সে নির্যাতনকারী। সেই দৃষ্টিভঙ্গি দিয়েই আমাদের দেখা উচিত।

বিভিন্ন সময়ের বিচার দাবিতে আন্দোলন কম হয়নি। কিন্তু কিছুতেই থামছে না এ অপরাধ। নির্যাতনকারীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কেনো এমনটি হচ্ছে তা সমাজ বিজ্ঞানীরা ভালো বলতে পারবেন। অপরাধীরা যেনো আষ্কারা পাচ্ছে। অপরাধ ঘটাতে দুর্বৃত্তরা সাহস পাচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের মর্মযাতনা উপলব্ধি করে এর বিরুদ্ধে আরো কি ব্যবস্থা নেয়া যায় সে চিন্তা সমাজ বিজ্ঞানী, সরকার, রাজনীতিক সমাজসেবী সবাইকে ভাবতে হবে। এভাবে কোনো সভ্য সমাজ চলতে পারে না। অব্যাহত এ অপরাধের কারণে একদিন দেখা যাবে এ জাতি অসভ্য জাতির কলঙ্ক তিলক ললাটে উঠেছে।

স্বাআলো/এস

.