ধর্ম-কর্মের খোঁজ নেই মসজিদ নিয়ে মারামারি

হাদিস শরিফে মসজিদকে সর্বোত্তম স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে মহান আল্লাহর এবাদতে যেভাবে মনোনিবেশ করা যায় অন্য কোথাও তা হয় না। পবিত্র এবং সর্বোত্তম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জ্ঞানে মুসলমানরা সেখানে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় নামাজ আদায় করেন। যারা মসজিদে যান তারা নিশ্চয় আল্লাহ ভীরু ধর্মপ্রাণ মানুষ।

কিন্তু ইদানিং দেখা যাচ্ছে এক শ্রেণির মানুষ এই পবিত্রতম মসজিদকে সামাজিক আধিপত্য বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছে। তারা মানছেই না যে মসজিদ মহান আল্লাহর এবাদতের স্থান। আর তাই তারা বিভিন্ন ইস্যুতে মসজিদ কেন্দ্রীক সংঘাত সৃষ্টি করছে। এমন ধরনের ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে।

সংঘাতের সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ মে যশোরের শার্শা উপজেলার আমলাই গ্রামে। ওই গ্রামের মসজিদের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে মুসল্লিদের কিছু লোক দুইভাগে ভাগ হয়ে যায়। এরই সূত্র ধরে এক পক্ষ অন্য পক্ষের বাড়ি ঘরে হামলা করে ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এর আগে ১৫ এপ্রিল যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার দেউলি গ্রামে মসজিদের ইমাম নিয়োগ নিয়ে দুই পক্ষের মারামারিতে ১০ জন আহত হয়। ৬ মে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার কুলবাড়িয়া গ্রামের মসজিদে ইমাম নিয়োগ নিয়ে মারামারি হয়। ওই মারামারিতে ১০ জন আহত হয়।

এই পবিত্রতম প্রতিষ্ঠান নিয়ে যারা মারামারি হানাহানি করে তারা কোনো মতেই আল্লাহ ভীরু ধর্মপ্রাণ হতে পারে না। তারা ভণ্ড। ধর্মের নামে তারা মানুষের চোখে ধুলো দিয়ে ফায়দা হাসিলের পথ খোঁজে। তারা বড় পাপিষ্ঠ তাতে কোনো বিতর্ক নেই। তারা সন্দেহাতীতভাবে সমাজের নিকৃষ্ট জীব।

ধর্ম নিয়ে আমাদের কোনো কঠাক্ষ নেই। মসজিদকে আমরাও পবিত্র জ্ঞানে মান্য করি। যারা ইমাম নিয়ে মারামারি করলেন তারা কোন জ্ঞানে কাজটি করলেন তা জানতে ইচ্ছে করে। তারা ফেৎনা সৃষ্টি করে যে মহাপাপ করেছেন তা কি জানেন না। যদি না জানেন তাহলে তারা মসজিদে গিয়ে কি শিখলেন? ফেৎনা হলো মানুষ হত্যার চেয়েও বড় পাপ। অস্ত্রবাজি যেভাবে চলেছে তাতে আহতদের মধ্যে দুই-একজন মারা যেতেও পারতেন। যারা প্রতিপক্ষকে অস্ত্রের আঘাত করেছেন তারা একবারও যখন ভাবেননি তখন একথা বুঝতে বাকি থাকে না যে ধর্মের টানে মসজিদের কাছে যান না। সামাজিক প্রতিপত্তি দেখাতে তারা নিজেদেরকে ধর্মানুরাগী দেখান। তবুও তারা সমাজের মানুষকে ধর্ম শেখাতে আসেন। মানুষ মহান আল্লাহ সৃষ্ট আর মসজিদ মানুষে নির্মাণ করে। সেই মসজিদ নিয়ে গণ্ডগোল করে তারা আল্লাহ সৃষ্ট মানুষকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়েছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এমনটা করছেন কোন বিবেচনায়? আসলে এসব বিবেকহীন মানুষের হাতে ধর্ম চলে যাওয়ায় আজ যতো বিভ্রান্তির সৃষ্টি, যতো অনাচারের সৃষ্টি।

স্বাআলো/এস

.