শিক্ষক নামের কলঙ্ক

অনলাইন নিউজ পোর্টল স্বাধীন আলো গত ১৭ মে একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে। ওই সংবাদে বলা হয়েছে, সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার কোদন্ডা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুঃখী রাম ঢালী দশম শ্রেণির এক ছাত্রীর কাছে আপত্তিকর ছবি চেয়েছেন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে তিনি ওই ছাত্রীর কাছে আপত্তিজনক মেসেজ দিতে থাকেন এবং ভিডিও কলে ওই ছাত্রীর আপত্তিকর ছবিও দেখতে চান। যখন সে একা থাকতো তখন প্রধান শিক্ষক তার ওড়না ধরে টানাটানি করতেন। ১৭ মে ওই ছাত্রী থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা ঘটনা শুনে হতভম্ব হয়ে গেছেন।

শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর বলে সমাজ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কিন্তু আসলে কি তারা এই নীতিকথাটি মনে রেখে চলেন? আমরা মনে করি কথাটা শতভাগ সঠিক নয়। তাই বলে আমরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে নই। শিক্ষকরা জ্ঞান বিতরণ করা ছাড়াও উন্নত নৈতিক চরিত্র গঠনের কাজ করেন এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু তাদেরই যদি চরিত্র না থাকে তাহলে শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনের শিক্ষা দেবেন কি করে? আর যদি চরিত্র গঠনের শিক্ষা না দিতে পারেন তাহলে তার দ্বারা জ্ঞান বিতরণ করাও সম্ভব নয়।

সাতক্ষীরায় ছাত্রীর আপত্তিকর ছবি চাইলেন শিক্ষক!

আমরা জানি শিক্ষার একটি গন্ডি পেরিয়ে এই পেশায় ঢুকতে হয়। তারপরও আছে বিশেষ প্রশিক্ষণ। কিন্তু এসব করে লাভটা হচ্ছে কি? শিক্ষা জীবনের পুরোটা সময় তো একজন শিক্ষক তার শিক্ষা পেয়ে থাকেন। কিন্তু তার প্রাপ্তিতে কি ভুল ছিলো? নতুবা একজন শিক্ষক এই মানবতাবর্জিত জঘন্য কাজ করেন কি করে। তাকে শিক্ষাগুরুর পাশাপাশি পিতার ভূমিকাও পালন করতে হয়। মা-বাবা একটি সন্তানের জন্ম দেয় ঠিকই। কিন্তু সন্তানটিকে ভবিষ্যতের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করেন শিক্ষকরা। যদি কেউ এ কথাটি মেনে না নিতে পারেন তাহলে দেশে আরো বহু পেশা আছে তাকে সেই পেশা বেছে নিতে হবে।

শিক্ষকতার পবিত্র অঙ্গন কলুষিত করার কোনো অধিকার তার নেই। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে বলবো, এসব অপদার্থদের শিক্ষাঙ্গন থেকে বের করে দিতে হবে। মেয়েদের পথে-ঘাটে, ঘরে-বাইরে সর্বত্রই শত্রু। যা প্রতিরোধে কঠোর কোনো ব্যবস্থা আমাদের দেশে নেই। এ অবস্থায় যদি মেয়েদের স্কুল কলেজে পাঠিয়ে মা-বাবা শিক্ষক নামধারী কুলাঙ্গারদের ভয়ে নিশ্চিন্তে থাকতে না পারে তার চেয়ে দুঃখজনক ঘটনা আর থাকতে পারে না।

আসল কথা হলো পরিবার হচ্ছে সর্বোত্তম পাঠশালা। এই পরিবার থেকে যদি শিক্ষাটা না আসে তাহলে যে বিষয়ে যতো শিক্ষাই গ্রহণ করা হোক না কেনো আসল শিক্ষায় ঘাটতি থেকে যায়। আজ যে সব শিক্ষকরা এ ধরনের অপরাধ করছেন তাদের পারিবারিক খবর নিলে খারাপ চিত্রই আসবে বলে আমাদের ধারণা।

স্বাআলো/এস

.