করোনার চেয়ে দূষণে মানুষের মৃত্যু বেশি!

বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৬৭ লাখ মানুষের। প্রতিবছর তার চেয়েও বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে বিভিন্ন দূষণের কারণে। দ্য লানসেট প্লানেটারি হেলথ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে। ২০১৫ সাল থেকে শুরু করে ক্রমবর্ধমান বাতাস দূষণ ও বিষাক্ত সীসার কারণে বছরে ৯০ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনের প্রকল্প ‘গ্লোবাল বার্ডেন অব ডিজিস’-এর ২০১৯ সালের তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা।

সদ্য প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মানুষ ও পৃথিবী স্বাস্থ্যের জন্য পরিবেশ দূষণ অস্তিত্বের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সাথে আধুনিক সমাজের স্থায়িত্বকে তা বিপন্ন করে তুলছে। এই গবেষণা থেকে দেখা যায়, বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়া করোনা মহামারীর চেয়েও অনেক বেশি মানুষ মারা যাচ্ছেন দূষণের কারণে। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী কোভিড-১৯ এ এখন পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা ৬৭ লাখ।

দূষণ রোধে বাংলাদেশ সরকার যতটা আন্তরিক ঠিক উল্টে চিত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসিনতা। দূষণ রোধে দেশে আইন আছে, কিন্তু এর কার্যকর প্রয়োগ নেই। কখনো কখনো বিচ্ছিন্নভাবে দূষণ বিরোধী অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে গণমাধ্যমের খবর তৈরি হলেও দূষণ আর কমে না। দূষণ নিয়ে বক্তৃতা-বিবৃতি দেয়াই সার হচ্ছে। কোনো কিছুতেই দূষণ বন্ধ হয়নি। আসলে কোনো ক্ষেত্রে যখন আইনের প্রয়োগ নেই তখন দূষণ সৃষ্টি হতে পারে এমন কাজ করতে মানুষ পেছাবে কেন। এক অপরাধের যদি প্রতিকার না হয় তাহলে অপরাধ তো হতেই থাকবে।

দূষণ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়তো সম্ভব হবে না। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে উন্নত অনেক দেশেও দূষণ হয়। তবে সেসব দেশ দূষণকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। বাংলাদেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হচ্ছে কেন সেটা একটা প্রশ্ন। কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, আইন না মানা, অসচেতনতা প্রভৃতি কারণে দূষণ মাত্রা ছাড়িয়েছে। দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে হবে। দূষণ বিরোধী অভিযানে সব শ্রেণির মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তা না হলে টেকসইভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। দ্রæততম সময়ের মধ্যে বায়ু, পানি. মাটি, শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বর্তমান প্রজন্মের পাশাপাশি আগামী প্রজন্মকেও চরম মূল্য দিতে হবে।

স্বাআলো/এসএস

.